সোনারগাঁয়ে শিল্প-প্রতিষ্ঠানের বর্জ্যে ২০ হাজার গ্রামবাসীর দূর্র্ভোগ

1721

ফরিদ হোসেন-সোনারগাঁ প্রতিনিধি: সোনারগাঁ উপজেলার পশ্চিম কাঁচপুর ইউনিয়নের একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিষাক্ত বর্জ্যে এক গ্রামের প্রায় ২০ হাজার গ্রামবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিষাক্ত পানি ও দূষিত বর্জ্যে গ্রামবাসী বিভিন্ন পানি বাহিত চর্ম রোগসহ শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্জ্য অপসারণ দাবিতে একাধিকবার গ্রামবাসী মিল কর্তৃপক্ষ ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে লিখিত আবেদন ছাড়াও মানব বন্ধনের মতো কর্মসূচী পালন করেও কোন প্রতিকার হয়নি।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার পশ্চিম কাঁচপুর শিল্পাঞ্চলের আল-নূর গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠান গত ২৫ বছর আগে মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠে। সে সময় এলাকা ওই এলাকায় জনবসতি কম ছিল। তাছাড়া মিলটির পাশে ডোবা থাকায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে বের হওয়া বর্জ্য নিস্কাশনে ড্রেন নির্মাণ না করেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যায়। সময়ের সাথে সাথে ওই এলাকায় আরো বেশ কয়েকটি বড় শিল্প-প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। কাঁচপুরকে শিল্পাঞ্চল ঘোষনা করার পর থেকে কাঁচপুর উত্তরপাড়া মজা পুকুর ও গর্তসহ পানি সংরক্ষণের বিভিন্ন স্থান ভরাট করে ঘর-বাড়িসহ নানান স্থাপনা তৈরীর ফলে এলাকাটি ঘনবসতিতে রূপ নেয়।
এদিকে আল-নূর স্টিল মিলস একই স্থানে একটি পেপার মিল ও রাইচ মিলসহ একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য বিশেষ করে কাগজ তৈরীর বর্জ্য বের হয়ে তা সরাসরি গ্রামের ভেতর থাকা রাস্তায় ও বাড়িতে গিয়ে জমে থাকে। এমনকি কোন কোন সময় সে সকল পানি ও বর্জ্য হাটুৃ পানি পর্যন্ত হয়ে যায়। এতে গ্রামাবাসী ও গাড়ী চলাচলে চরম সমস্যার সৃষ্টি হয়। এমনকি পেপার মিল থেকে নির্গত বিষাক্ত বর্জ্য গ্রামে থাকা বিভিন্ন পুুকুর ও টিউভওয়েলের মাটির নিচে গেয়ে খাবার পানিকেও দূষিত করছে। প্রতিষ্ঠানের বিষাক্ত বর্জ্য রাস্তায় ও বিভিন্ন বাড়ির উঠানে জমাট হওয়ায় গ্রামবাসীদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে চর্মরোগ ও ডাইরিয়াসহ বিভিন্ন পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুলে যাওয়া কোমলমতি শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠরা বেশী আক্রান্ত হচ্ছে। আল-নুর রাইচ মিলের তুষ পোড়া ছাই বাতাসের সাথে মিশে বাড়ি-ঘর ও গাছগাছালিতে পড়ে। ফলে অনেকে দৈনন্দিন গৃহস্থলি কাজও স্বাভাবিকভাবে করতে পারেনা। অনেকে ইতিমধ্যে শ্বাসকষ্টের মতো দূরারোগ্য রোগেও আক্রান্ত হয়েছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় এলাকাবাসী একাধিকবার মিল কর্তৃপক্ষ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে লিখিত অভিযোগ বা মানববন্ধন করেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টিতে পড়েনি।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজাহিদুর রহমান জানান, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশের ছাড়পত্র নেওয়া আছে। দুষিত পানি নিস্কানের জন্য ইটিপি প্লান মেশিনও তাদের রয়েছে। তারা যদি এ মেশিনটি ব্যবহার না করে পরিবেশ নষ্ট করে মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ###