সোনারগাঁয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে ফসলী জমি

355

সোনারগাঁ প্রতিনিধি: সোনারগাঁ উপজেলার ইমানেরকান্দী এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির নেতারা। এতে ওই এলাকায় ফসলী জমি, বসত ভিটা, স্কুল, মাদ্রাসা ও মসজিদ নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে।

ওই এলাকার কৃষকরা জানায়, উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের ইমানেরকান্দী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে গত কয়েকদিন যাবত রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ কর্মী আব্দুল মতিন মিয়া, মুস্তু মিয়া, অলেক মিয়া, দেলেয়ার হোসেন ও ইউপি সদস্য জাতীয় পার্টির নেতা মহিউদ্দিন মিয়া সহ একটি সিন্ডিকেট। তারা শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে কৃষকদের ফসলী জমির মাটি উত্তোলনের ফলে ওই এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক বিঘা ফসলী জমি, তিনটি মসজিদ ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ দুইটি মাদ্রাসা হুমকির মুখে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে কয়েকবার অবহিত করার পরেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না তারা।

ওই এলাকার কৃষক তারা মিয়া ও শামিম মিয়া জানায়, গত এক সপ্তাহ পূর্বে আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মতিন ও মহিউদ্দিন মেম্বারের নেতৃত্বে আমাদের ফসলী জমির মাটি লুট করে নিচ্ছে। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিত ভাবে জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। অবিলম্বে বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ সহ বড় ধরণের কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে।

ওই এলাকার মালেকা বেগম ও খালেদা আক্তার অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল সহ কয়েকশত বিঘা ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

এ বিষয়ে জানাতে চাইলে আওয়ামীলীগ কর্মী আব্দুল মতিন ও মহিউদ্দিন মেম্বার সহ কয়েক জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, তারা অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত না। তবে আমরা একটি কিন্ডার গার্টেনের নিচু জমি বালু দিয়ে ভরাট করছি।

সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়া জানায়, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোনারগাঁ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু নাছের ভূঞা জানায়, ইতিমধ্যেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেতৃত্বে বালু উত্তোলন বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফের বালু উত্তোলন শুরু করলে তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। ##