সোনারগাঁয়ে বেতন ভাতা না পেয়ে ১৬ শিক্ষকের মানবতার জীবনযাপন

52

সোনারগাঁ প্রতিনিধি: উপজেলার দবির উদ্দিন ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নয়নের নামে ১৬ জন শিক্ষকের ১৬ মাসের বেতন ও পিএফ ফান্ড ৫ বছর যাবত বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। বেতন ও ভাতা না পেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। এদিকে, শিক্ষকদের বেতন ভাতা বন্ধ করে দিয়ে উন্নয়নের নামে বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ সম্পসারনের কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে। এ ব্যাপারে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের দবির উদ্দিন ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে গত দেড় বছর ধরে ১৬জন শিক্ষকের ভেতন ভাতা বন্ধ করে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সম্পসারণের কাজ করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩ লাখ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী লাখ টাকা উপরে কোন উন্নয়নমূলক কাজ হলে সেটি বিজ্ঞপ্তির মাধম্যে ট্রেন্ডারের দিয়ে কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের মাধ্যমে করাতে হয়। কর্তৃপক্ষ এরকম কোন নিয়ম তোয়াক্কা না করে নিজেদের মনগড়া ব্যক্তি দিয়ে বালু ভরাটের কাজ সম্পূন করে। এছাড়া দেয়াল ও গেট নির্মাণসহ অন্যান্য উন্নয়মূলক কাজে আরো ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ দেখানো হয়েছে বলে সুত্রে জানা গেছে। বিদ্যালয়টির উন্নয়ন ফান্ডে অতিরিক্ত কোন টাকা না থাকায় শিক্ষকদের বেতন ও ভাতা বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে গত ১৮ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে শিক্ষকদের একটি প্রত্যয়ন পত্র দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
সম্প্রতি কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় দবির উদ্দিন ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়ে কয়েকটি সংবাদ প্রকাশিত হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ড. মোহাম্মদ আজগর আলী ২৯ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকায় সংবাদের প্রতিবাদ দিয়ে উল্লেখ্য করেন, বিদ্যালয়ের মাটি ভরাটের কাজ ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি দবির উদ্দিন ভূইয়ার নিজস্ব অর্থায়নেই হচ্ছে। অথচ তিনি নিজেই একটি প্রত্যায়ন পত্রে উল্লেখ করেছেন মাটি ভরাটের জন্য শিক্ষকদের বেতন বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত বেতনসহ অন্যান্য আদায়কৃত টাকা সরকারি নিয়ম অনুযায়ি প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠানের নামে নয়াপুর আল-আরাফা ইসলামি ব্যাংক শাখায় বিদ্যালয়টি একটি হিসাবও খোলা রয়েছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আদায়কৃত টাকা বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে না রেখে ম্যানিজিং কমিটির কাছে গচ্ছিত রাখেন বলে একটি সুত্রে জানান। এদিকে, গত ১ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা বা উত্তোলন করা বন্ধ রয়েছে বলে ব্যাংক কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি দবির উদ্দিন ভূইয়ার নিজস্ব অর্থায়নে যদি বালু ভরাটসহ সকল উন্নয়ন মূলক কাজ হয়ে থাকে তাহলে আমাদের ১৬ মাসের বেতন ও ভাতা বকেয়া রয়েছে কেন প্রধান শিক্ষকই বা কেন আমাদের চিঠির মাধ্যমে অবগত করলেন।। এসময় তারা কর্তৃপক্ষের কাছে উল্টো প্রশ্ন রেখে বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে যদি উন্নয়ন কাজ হয় তাহলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত টাকা যায় কোথায়? এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত করে শিক্ষকদের বকেয়া বেতন ও ভাতা পরিশোধ করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রধান জানান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত টাকা বিদ্যালয়ের কোন ব্যক্তির কাছে রাখার সুযোগ নেই। প্রতিদিনের আদায়কৃত টাকা বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে রাখতে হবে। শিক্ষকদের বেতন সরকারি নিয়ম অনুযায়ি বে-সরকারি বেতন ও ভাতা প্রতি মাসে পরিশোধ করতে হবে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানান, দবির উদ্দিন ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষকদের বকেয়া বেতন ও ভাতা না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। এসব শিক্ষকদের বেতন ও ভাতা দ্রুত পরিশোধের জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ###