সোনারগাঁয়ে বিজয়স্তম্ভের মর্যাদা বুঝেনা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা

338

ফরিদ হোসেন-সোনারগাঁ প্রতিনিধি: সোনারগাঁও পৌরসভার শহীদ মজনু পার্কে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে বিজয়স্তম্ভের মর্যাদা বুঝেনা অনেকেই। দীর্ঘদিন জনগনের জন্য উম্মুক্ত পার্কটি রিক্সা গ্রেজ ও বেবীষ্ট্যান্ড বানিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিলো। শহীদ পরিবারগুলোও দীর্ঘদিনে দাবি ছিল এখানে শহীদদের ¯œরণে একটি বিজয়স্তম্ভ তৈরী করা হোক। তাদের দাবির সাথে একতœতা প্রকাশ করে সোনারগাঁয়ের মুক্তিযোদ্ধার দাবি করে আসছিলেন। তাদের দাবীর পরিপেক্ষিতে গত বছর দুয়েক আগে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাছের ভুঞার নিজস্ব অর্থায়ন ও তর্ত্তাবধানে নির্মিত হয় সোনারগাঁ শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়স্তম্ভ। নির্মানের পর থেকে প্রতি বছর বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে তাদের স্মৃতির উদ্যেশে এখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সকল স্তরের মানুষ। দিবসগুলোর আয়োজনও করা হয় ঘটা করে। দিবসের তিনদিন থাকে এখানে আলোক সজ্জা। এতো কিছুর পরও অনেক মানুষই জানে না এটা কি? কেন বানানো হয়েছে? এখানে এটা বানানোর ইতিহাস কি। বরং না বুঝে যতœতন্ত্র জুতা পায়ে দিয়ে মানুষ স্মৃতিস্তম্ভে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। মাদক সেবীরা রাতের বেলা উপরে উঠে মাদক সেবন করেন। শিশুরা উপরে উঠে খেলাধুলা করেন। এছাড়া প্রতিবছর সোনারগাঁ উইমেন্স বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এইচএসসি পরিক্ষাকে কেন্দ্র করে পরিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা জেনে শুনে জুতা নিয়ে বিজয়স্তম্ভ উঠে বসেন। অনেকে জুতা নিয়ে বেদির উপরে উঠে খোশ গল্পে মেতে উঠেন। এতে পিছিয়ে নেই স্কুল কলেজে পড়–য়া শিক্ষার্থীরাও। চোখের সামনে এভাবে স্মৃতিস্তম্ভে জুতা পায়ে দিয়ে উঠায় অনেক বুদ্বিজীবি ও শহীদ পরিবারের লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা ক্ষোভের সাথে জানান, স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান করে স্মৃতি চারণ করলেই হবে না এটাকে রক্ষানাবেক্ষর ও তার পবিত্রতার জন্য সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। যাদের অবদানে আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি তাদের স্মৃতিস্তম্ভকে সম্মান না করি তাহলে বৃথা যাবে এ দেশের স্বাধীনতা।

সোনারগাঁ ডিগ্রি কলেজের ছাত্র সজিবকে বিজয়স্তম্ভে জুতা নিয়ে উঠা প্রসঙ্গে জিঞ্জেস করলে তিনি জানান তার আতœীয় এখানে পরিক্ষা দিতে এসেছে বিজয়স্তম্ভটিতে ধুলাবালি থাকায় সে জুতা নিয়ে উঠেছে।

পরিক্ষার্থীও মা আয়েশা বেগম জানান, এটা আসলে কি আমি জানি না। জায়গাটা ছায়াঢাকা ও ঠান্ডা এজন্য মহিলারা মিলে গল্প করে সময় পার করছি।

এ ব্যাপারে সোনারগাঁ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারর সোহেল রানা ক্ষোভের সাথে জানান, মুক্তিযোদ্ধারা এদেশের শ্রেষ্ট সন্তান। তাই তাদের স্মৃতিস্তম্ভের মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।

উপজেলা নির্বাহী আবু নাছের ভুঁঞা নিউজ সোনারগাঁকে জানান, মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের অহংকার। তাদের স্মৃতি বুকে ধারন করেই দেশটাকে এগিয়ে নিতে হবে। তাদের প্রত্যেকটি স্মৃতিস্তম্ভকে সম্মান প্রদর্শন ও মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখা আমাদের দায়িত্ব।  ###