দেড় কোটি টাকা নিয়ে উধাও : দিশেহারা ৬৮৭ জন আমানতকারী

826

ফরিদ হোসেন-সোনারগাও প্রতিনিধি: গ্রাহকদের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে গেছে জনতা সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি লিঃ নামে একটি কোম্পানী। চড়া সুদের প্রলোভন দেখিয়ে আমানত সংগ্রহের পর উধাও হয়ে যায় প্রধান কার্যালয়টি। দৃশ্যমান এবং নাম-প্যাডসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা দেখিয়ে সংগ্রহ করা হয়েছে দেড় কোটি টাকা। সোনারগাঁয়ের শাহাবুদ্দিন শপিং কমপ্লেক্স ৪র্থ তলায় জনতা সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি লিঃ অফিসে এখন ঝুলছে তালা। শুধু গ্রাহকই নয় এতে প্রতারিত হয়েছে ওই কোম্পানির প্রায় ৩৫জন কর্মচারীও। প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী ও কমপক্ষে ৬৮৭জন সঞয়কারী এখন দিশেহারা।

এক লাখ টাকা জমা রাখলে মাসে আড়াই হাজার টাকা লভ্যাংশ (সুদ) দেয়ার প্রলোভন দিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের আকৃষ্ট করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদের সরকার কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠাটির মোহনীয় বিজ্ঞাপন ও ঝকঝকে এবং বিলাসবহুল অফিস দেখে যারা আমানত রেখেছেন, তারা এখন শুধু হায় হায় করছেন। আমানতকারীরা অফিসে অফিসে ধরনা দিচ্ছেন নিজেদের পাওনা আদায়ের জন্য। কিন্তু সেখানেও চেয়ারম্যান এমডি কিংবা পরিচালকদের কেউ নেই। ফলে হতাশ হয়ে পথে পথে ঘুরছেন হাজারো গ্রাহক ও কর্মচারীরা।

জনতা সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি লিঃ ব্যবস্থাপক ছিলেন এম, ইসমাইল। তিনি নিজেরকে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকিং ব্যবসায়ী হিসাবে এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেন। প্রথমে তিনি তার প্রতিষ্ঠানের নামে কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা বানিজ্য রয়েছে এটা চাইর করতে থাকেন। এই কোম্পানীতে যারা চাকরি করবে তাদের জামানত হিসাবে ২০ হাজার টাকা করে জামানত রেখে এ প্রতিষ্টানে নিয়োগ নিতে হবে। এভাবে প্রথমিক ভাবে প্রায় ম্যানেজার হিসাবে মোস্তাক আহম্মেদ ও প্রধান ক্যাশিয়ার হিসাবে ঝুমা আক্তারকে নিযোগ দেন। এরপর একে একে ৩৫জন কর্মচারীকে নিয়োগ দেন। যারা প্রতিদিন গ্রাহকের কাছ থেকে সঞয় গ্রাহন করতেন। আবার যাদেরকে ঋন দিতেন তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন টাকা আদায় করতেন। তাদের প্রত্যেককের কাছ থেকে ২০ হাজার করে টাকা জামানত হিসাবে কোম্পানীকে প্রদান করে।

বেকার অবসর প্রাপ্ত শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত এবং দারিদ্র, দুস্থ জনগনকে বৈধ ব্যবসা পরিচালনার জন্য ঋন প্রদান করা এবং প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দেশে চাকরীর সুযোগ করে দেওয়া এ শ্লোগান দিয়ে কোম্পানীতে ৬৮৭জন গ্রাহকের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা আদায় করেন।

এম, ইসমাইল শুধু গ্রাহক ও তার অধিনস্থ কর্মচারীর কাছ থেকেই নয় সে বিভিন্ন প্রতিষ্টান থেকেও বিভিন্ন ব্যাংকের ভ’য়া চেক দিয়ে স্বর্নলংকারসহ বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে জনতা সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি লিঃ এর গ্রাহক আরিফ জানান, জনতা সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি লিঃ কর্মচারীরা আমাদেরকে ওই কোম্পনীতে টাকার সঞয় করলে এক বছরে তা হয়ে দ্বিগুন হয়ে যাবে এ ধরনের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে টাকা সঞয়ের জন্য লোভ দেখিয়ে ছিল। শুধু তিনি নন তার মতো শত শত গ্রাহক শুক্রবার সকালে সোনারগাঁ থানায় এসে ওই কোম্পানীর পরিচালক এম ইসমাইলকে গ্রেফতার দাবি জানান।

এ ব্যাপারে জনতা সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি লিঃ ম্যানেজার মোস্তাক আহম্মেদ জানান, এম, ইসমাইল কোম্পানীতে চাকরী নেওয়ার সময় আমাদের ৩৫ জন ষ্টাফ এর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে জামানত নিয়েছিল। এছাড়াও আমাদের অফিসের বিভিন্ন ব্যাক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন সময় ৪টি দাবী মোবাইল সেট নিয়ে ছিলেন যা তিনি কখনোই ফেরত দেননি।

এ ব্যাপারে সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক সোয়েব খান জানান, জনতা সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি লিঃ কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। তদন্ত করে ওই কোম্পানীর মালিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ###