এশিয়ান হাইওয়ে যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ

306

সোনারগাঁ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ, বন্দর, আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ উপজেলার স্বল্পপাল্লার যানবাহনসহ প্রত্যহ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দূরপাল্লার প্রায় লক্ষাধিক যানবাহন চলাচলের রাস্তা হিসেবে পরিচিত এশিয়ান হাইওয়ে তথা ঢাকা বাইপাস সড়কটির মদনপুর হতে নয়াপুর বাজার পর্যন্ত খানাখন্দে ভরপুর হয়ে তা যাত্রীদের জন্য চরম দূর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন পরপর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সড়কটিতে নামে মাত্র ইট বালু দিয়ে সংস্কার কাজ করলেও রহস্যজনক কারণে তারা দীর্ঘস্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেয় না। আর এ চক্ষু ধোলাই মার্কা সংস্কারের মাধ্যমে তারা সরকারের বরাদ্দকৃত কোটি কোটি টাকা আত্মস্বাত করে আসছে বলে ভুক্তভোগী পথচারী ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এশিয়ান হাইওয়ে তথা ঢাকা বাইপাস সড়কের মদনপুর থেকে নয়াপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিমি এলাকা গত কয়েক বছর যাবত খানাখন্দে ভরপুর হয়ে রয়েছে। যার দরুন প্রত্যহ এ সড়কে ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা এবং সৃষ্ট হয় দীর্ঘ যানজট। যানজটের কারণে মাত্র ৫ কিমি রাস্তা অতিক্রম করতে পথচারীদের প্রায়শই দুই ঘন্টা সময় লেগে যায়। এতে দীর্ঘদিন যাবত পথচারীদেরকে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হলেও নারায়ণগঞ্জের সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের এনিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই বলে দাবি করেছে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগীরা আরো দাবি করেন, শুধুমাত্র ঈদের পূর্বে বা বারদীর লোকনাথ মেলাসহ বছরের অন্য যেসব সময়ে সোনারগাঁয়ের উত্তরাঞ্চলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আগমন ঘটে তখন তড়িঘড়ি করে অস্থায়ীভাবে ইট, ইটের সুরকি বা যৎসামান্য পিছ ঢালাই দিয়ে সংস্কারের নামে চক্ষু ধোলাই করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। যা পনের দিন থেকে এক মাসের মধ্যে পূর্বের ন্যায় ভয়াবহ রুপ ধারণ করে। গত সোমবার সড়কের ললাটি এলাকায় খানাখন্দের ছবি তোলার সময় রাকিব নামে এক ট্যাক্সি চালক অভিযোগের সূরে বলেন, ‘ভাই! রাস্তাটার কথা ভালো কইরা লিখেন। আপনারা ভালো কইরা না ধরলে চোরেরা ভালোভাবে কাম করবো না।’ আব্দুল মান্নান নামে ষাটোর্ধ্ব এক পথচারী জানান, ‘অসুস্থ্য শরীর নিয়া এ রাস্তা দিয়ে যাইতে ভয় লাগে। গাড়ির ঝাঁকুনীতে শরীর আরো কাহিল হইয়া যায়।’

এ প্রসঙ্গে জেলার সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলস্থিত সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির আলমের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এশিয়ান হাইওয়ের দুটি অংশের সংস্কারের জন্য টেন্ডার দেয়ার পর ইতিমধ্যে কাঞ্চন অংশের কাজ শুরু হয়েছে। মদনপুর অংশের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাছের ভূঁঞা জানান, মদনপুর হতে শুরু হয়ে এশিয়ান হাইওয়ের খারাপ অংশটি সংস্কারের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। আশাকরি দ্রুত কাজ শুরু হবে। ###