৭ খুন মামলায় তারেক সাঈদকে হাজির না করায় আদালতের অসন্তুষ্টি

456

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য র‌্যাবের সাবেক দুই কর্মকর্তাসহ ২২ আসামীকে আজ আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাদের পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আজ থেকে ঘটনার ব্যাপারে সাক্ষ গ্রহন শুরু করার কথা ছিলো। কিন্তু অসুস্থতার কারণে র‌্যাবের সাবেক সিও তারেক সাঈদকে কারা কতৃপক্ষ আদালতে হাজির করেনি। আদালত তাকে হাজি না করার ব্যাপারে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে আগামী ধার্য্য তারিখ ২৯ ফেব্রুয়ারী পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন নির্ধারণ করেন। ওই দিন যেকোন উপায়ে আসামী তারেক সাঈদকে আদালতে হাজির করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সাত খুনের ঘটনায় দায়েরকৃত দুটি মামলায় পর্যাক্রমে মোট ১২৭ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করবেন আদালত। আদালতের পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আজই প্রথম স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করার কথা ছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২২ আসামীকে হাজির করা হয়। এসময় আদালতে একটি মামলার বাদী বিজয় কুমার পাল উপস্থিত থাকলেও আসামী তারেক সাঈদ উপস্থিত ছিলেন না। তিনি উপস্থিত না থাকায় আদালত অসন্তুুষ্টি প্রকাশ করেন। এবং কেন তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি তার ব্যাখ্যা চান কারা কর্তৃপক্ষের কাছে। এসময় কি কারণে তারেক সাঈদকে আনা হয়নি তা জানার জন্য পিপিকে নির্দেশ দিয়ে আধ ঘণ্টার জন্য আদালত মুলতবী করা হয়। তারেক সাঈদকে আনার দায়িত্বে নিয়োজিত পরিদর্শক আশরাফকে কোর্ট কাস্টডিতে রাখার নির্দেশ দেন। পরে আশরাফ তারেক সাঈদকে না আনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। আগামী তারিখে অবশ্যই তাকে হাজির করার নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন জানান, আদালতে আসামী হাজির করার দায়িত্ব কারা কতৃপক্ষের। তবে তারা পুলিশের সহায়তায় আদালতে আসামীকে হাজির করেন। তিনি দাবী করেন, মামলার বিচার কার্য বিলম্বিত করার জন্যই একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে ভূয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে তারেক সাঈদকে চিকিৎসাধীন দেখিয়েছে। তাকে আদালতে হাজির করেনি। তিনি এই মামলার ন্যায় বিচার নিয়ে শংসয় প্রকাশ করেন।
আসামী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট এম এ রশিদ জানান, আদালতে কয়েকজন আসামীর পক্ষে জামিন চাওয়া হয়েছিল। তবে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর  করেছেন।
এ বছরের ৮ ফেব্রুয়ারী ৭ খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৩ আসামীর উপস্থিতিতে আদালত অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন নির্ধারন করেন। র‌্যাবের ৮ সদস্যসহ পলাতক ১২ আসামীর অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্য শুরু হচ্ছে। পলাতক ১২ আসামীর পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের খরচে ৫ আইনজীবীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর আগে গত বছরের ৮ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লা ষ্টেডিয়াম এলাকা থেকে সাতজনকে অপহরন করে র‌্যাব। এদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবি এডভোকেট চন্দন সরকার রয়েছেন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষা নদীর শান্তির চর এলাকা থেকে ছয়জনের ও পহেলা মে আরো একজনের লাশ পাওয়া যায়। #