বই বিতরণে অনিয়ম : ২শ’ টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের নতুন বই

537

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে বই বিতরনের কথা থাকলেও, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২শ’ টাকা করে নিয়ে সেই বই দেওয়া হবে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকার বছরের প্রথম দিন ১ জানুযারী বই উৎসব পালন করলেও এই স্কুলে আগামী ৫ জানুয়ারী বই দেওয়া হবে বলে ঘোষনা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে স্কুলের অভিভাবক ও ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দায় চাপাচ্ছেন বিদ্যালয় পরিচালনা  কমিটির উপর। আর পরিচালনা কমিটির সভাপতি বলছেন, স্কুলের পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কাজ সহ নানা খরচ মেটাতে এ টাকা নেয়া হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলের তাঁতখানা এলাকায় অবস্থিত, ৮৯ নম্বর তাতখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১২শ।  সরকার ১ জানুয়ারী বই উৎসব করার ঘোষনা দিলেও এই স্কুলে তা পালন করা হয়নি।  বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ও পরিচালনা কমিটি আগামী ৫ জানুয়ারী বই বিতরন করা হবে বলে ঘোষনা দেন। নতুন বই নিতে হলে প্রতি শিক্ষার্থীকে  আগামী ৫ জানুয়ারীর মধ্যে ২শ টাকা করে দিতে হবে।  এরই মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ২শ টাকা করে শিক্ষকদের কাছে জমাও দিয়েছেন। স্কুলের এমন সিদ্ধান্তে  অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গতকাল শনিবার দুপুরে স্কুলে গিয়ে দেখা যায়,শিক্ষার্থী ও তাদেও অভিভাবকদেও কাছ থেকে নতুন বই দেওয়ার কথা বলে ২শ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, নতুন বই পেতে তারা বিদ্যালয়ের শিখা আপার কাছে ২শ টাকা হারে চাঁদা দিয়েছে।একাধিক অভিভাবক ক্ষুব্ধ কন্ঠে বলেন, সরকার বছরের প্রথম দিনে সকল স্কুলে বইউৎসব করেছে।কিন্তু এই স্কুলে ১ জানুয়ারী বই না দিয়ে পরদিন ২ জানুয়ারী থেকে বই দেওয়ার কথা বলে একটি টোকেন দেওয়া হয়। অভিভাবকরা এই অনিয়মের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের আহবান জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: হাফিজুর রহমান জানায়,শিখা আমাদের লোক না। সে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নিয়োগকৃত শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২শ টাকা আমি নিচ্ছিনা। কমিটি নিচ্ছে।আমি এ ব্যাপারে কিছু জানিনা।বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য গাজী সেলিম আহমেদ এই টাকা নিচ্ছে।এই ব্যাপারে আমি অসহায়,আমার কিছু বলার নাই।কমিটির সভাপতি এম এ বারী,সহ-সভাপতি এস এম মাহবুবে আলম এই টাকা ব্যাপারে বলতে পারবে।আমরা যারা সরকারী চাকরী করি তারা কেউ এই টাকা নিচ্ছিনা,এটা ওনারা ওনাদের দায়িত্বে নিচ্ছে।ওনারা স্থানীয় লোক এই ব্যাপারে আমি কি করতে পারি?
টাকা আদায় প্রসঙ্গে কমিটির সদস্য গাজী সেলিম বলেন গত অভিভাবক দিবসে আমাদের কমিটি থেকে এটা সিদ্ধান্ত হয়।এই স্কুলে তিনজন বে-সরকারী শিক্ষক আছে,একজন পরিচ্ছন্ন কর্মী আছে,একজন আয়া আছে । এই ৫জনের বেতন সরকার আমাদেরকে দেয়না।গত অভিভাবক দিবসে আমরা পরিচালনা পরিষদ এবং অভিভাবকবৃন্দ মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও গোদনাইল ইউনিয়ন(বিলুপ্ত) আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ বারি জানান,আমি এই বিসয়ে কিছু জানিনা।বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য গাজী সেলিম ও এস এম মাহবুব আলম,তারা দুজনে সিদ্ধান্ত নিয়ে এই টাকা নিচ্ছেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা চৌধুরী জানান,সরকারের নির্দেশনা রয়েছে বিনামূল্যে দেওয়া সরকারী বই কোন কিছুর বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের দেওয়া যাবেনা।বই দেওয়ার বিনিময়ে টাকা নেওয়া সম্পূর্ন অবৈধ।
বিষয়টি নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞা কে টেলিফোনে জানালে তিনি বলেন অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।। #

ভিডিওটি দেখতে চাইলে ক্লিক করুন: