সাত খুনের মামলায় সাতসাক্ষিকে পুনরায় জেরা

566

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডারের মামলায় আসামীদের স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দি গ্রহনকারী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এম মহিউদ্দিনসহ ৭জন সাক্ষীকে জেরা করেছেন আসামী পক্ষের আইনজীবীরা। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে ২৩ আসামীর উপস্থিতিতে সাক্ষীদের জেরা করা হয়। জেরা শেষে আদালত আগামী ১৮ এপ্রিল মামলার পরবর্তী সাক্ষী শুনানীর দিন ধার্য্য করেন।
সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এম মহিউদ্দিন ছাড়া অন্য সাক্ষীদের মধ্যে যাদের জেরা করা হয়েছে তারা হলেন, মোঃ হোসেন, এসআই বেলায়েত হোসেন, কনস্টেবল রমজান মৃধা, আবুল কালাম আজাদ, ফখরুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম। মামলার বাদিপক্ষের আইনজীবি এডভোকেট শাখাওয়াৎ হোসেন জানান, তারেক সাঈদ ও নূর হোসেনের পক্ষে হাইকোর্টে ৭ খুনের মামলা খারিজের আবেদন করা হয়। এজন্য ৬ বার সাক্ষীদের জেরা করার জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেন ওই দুই আসামীর আইনজীবীরা। পরে হাইকোর্ট তাদের আবেদন না মঞ্জুর করেন। এরপর যতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে তাদের পুনরায় জেরা করার জন্য জজকোর্টে আবেদন করলে আদালত ওই সাক্ষীদের পুনরায় আদালতে হাজির থাকার সমন দেন।
সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এম মহিউদ্দিন মামলার আসামী সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, এম এম রানাসহ ৭জন ও ৩জন প্রত্যক্ষদর্শীর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দি গ্রহন করেছিলেন। তাকে আসামী তারেক সাঈদ ও নুর হোসেনের আইনীজবীরা তিন ঘন্টা জেরা করেন। আইনজীবীরা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জানতে চান, আপনি যাদের জবানবন্দি গ্রহন করেছেন, তারা কেউ স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেয়নি। জবাবে তিনি বলেন, সত্য নয়। আপনি আইনসম্মত ও যথাযথভাবে তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেননি। জবাবে তিনি বলেন, সত্য নয়। জবানবন্দি প্রদানকারীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে কী না আপনি তাদের কাছে জানতে চাননি। এর জবাবেও তিনি বলেন, সত্য নয়।
এ পর্যায়ে আসামী পক্ষের আইনীজীবিদের উদ্দেশ্যে বিচারক বলেন, অযথা প্রশ্ন করে সময় নষ্ট করবে না। প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করুন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, আসামী তারেক সাঈদ, এমএম রানা ও নূর হোসেনের আইনজীবীরা ম্যাজিস্ট্রেটসহ ৭ জন সাক্ষীকে জেরা করেন। আদালত ১৮ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য্য করেন। ওইদিন ৮জন সাক্ষীকে জেরা করবেন আসামী পক্ষের আইনজীবীরা। এরমধ্যে আগে সাক্ষ্য দেয়া ৩ জন ও নতুন ৫জন সাক্ষী রয়েছেন।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার সহযোগি মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডের ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয় জনের ও ১ মে আরো একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় পৃথক দু’টি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ এপ্রিল কাউন্সিলর নূর হোসেন এবং র‌্যাবের চাকরিচ্যুত ৩ কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এমএম রানাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয় পুলিশ। এরমধ্যে ২৩জন গ্রেপ্তার হলেও এখনো ১২জন পলাতক রয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাত খুনের দু’টি মামলায় নূর হোসেনসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। পলাতক ১২ জনের অনুপস্থিতিতে বিচার কাজ চলছে। তাদের পক্ষে রাষ্ট্র ৪জন আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন।#