১০ হাজার অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারিকে সিলিন্ডার গ্যাস দেয়ার ঘোষণা

245

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় অবৈধ ভাবে সংযোগ নিয়ে গ্যাস ব্যবহারকারীদের ভর্তুকী দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডারের মাধ্যমে পুনর্বাসন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় অবৈধভাবে স্থাপিত গ্যাস বিতরণ লাইন বিচ্ছিন্ন/অপসারণের বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
বন্দর উপজেলায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। ওই ১০ হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগধারীকে গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে পুনর্বাসনের জন্য প্রাথমিকভাবে আড়াই কোটি টাকা খরচ হবে। ওই টাকার মধ্যে ১ কোটি টাকা বিকেএমইএ, ১ কোটি টাকা নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এবং বাকী ৫০ লাখ টাকা নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। বিকেএমইএ এবং নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান।
মত বিনিময় সভায় জানানো হয়, পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর হিসেবে অনুযায়ী ২৩ হাজার অবৈধ সংযোগ রয়েছে। এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বন্দর উপজেলায় রয়েছে প্রায় ১০ হাজার অবৈধ সংযোগ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান বলেন, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন আবাসিক কোন সংযোগ দেওয়া হবে না। এটা হতে পারে না। এক দেশে ২ আইন চলতে পারে না। তিনি বলেন পুরাতন গ্রাহকরা গ্যাস পাবে আর নতুনরা পাবেই না এটা ঠিক নয়। তিনি বলেন, আমরা রাজনীতিবিদরা ভোটের রাজনীতি করি। তাই যাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবে তাদের ভোট আমরা হারাবো। তাই বলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ এভাবে নষ্ট হতে দিতে পারি না। যারাই অবৈধভাবে সংযোগ নিয়েছে তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অবহিত ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সেলিম ওসমান বলেন, যারা অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে গ্যাস ব্যবহার করছেন তাদেরকে গ্যাস ব্যবহার থেকে বঞ্চিত না করে গ্যাস সিলিন্ডারে ভর্তুকীর মাধ্যমে পুনর্বাসন করা হবে। একাজে এককালীন খরচ হবে প্রায় আড়াই কোটি টাকা (১০ হাজার অবৈধ সংযোগধারীদের পুনর্বাসনের জন্য)। সেলিম ওসমান তার এলাকার অবৈধ গ্যাস (আবাসিক ও বাণিজ্যিক) সংযোগকারীদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ২ মাস সময় নেন। ওই সময়ের মধ্যে সব অবৈধ সংযোগকারীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।
সেলিম ওসমান তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নওশাদ ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে যে গ্যাস সাশ্রয় হবে সেগুলো বিভিন্ন মিল-কারখানায় সংযোগ দেয়ার অনুরোধ রইলো। একই সঙ্গে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বৈধ আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করারও দাবি জানান। সেলিম ওসমান বাণিজ্যিক লাইনেও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানান। অন্যথায় ব্যবসায়িদের নিয়ে আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়ে বলেন, ভিন্ন পন্থায় মিল-কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে হলে তাতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নওশাদ ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এসব অবৈধ সংযোগগুলো নেওয়া হয়েছে। ওইসব কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে তিতাস গ্যাসের ১৩ জন কর্মকর্তাকে চাকুরিচ্যুত এবং ৩৫ জন ঠিকাদারকে কালো তালিকা ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক অবৈধ গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে বৈধ গ্রাহকরা আবারো স্বাভাবিক ভাবে গ্যাস পাবেন। তবে শীতকালে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বিঘিœত হয় শীতের কারণে।
জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সহ সভাপতি মঞ্জুরুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গাউসুল আজম, বন্দর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং নাসিকের বন্দর অংশের সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরবৃন্দ।#