সোনারগাঁয়ের চারদিকে বালু সন্ত্রাস ও চরদখলের রাজত্ব চলছে-মেয়র আইভী

965

সোনারগাঁও প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন, সোনারগাঁয়ের চারদিকে বালু সন্ত্রাস ও চর দখলের রাজত্ব চলছে। নুনেরটেক আর নুনেরটেক নাই। খাল আর খাল নাই। বিল আর বিল নাই। চক আর চক নাই। আর এই চর দখরের রাজত্বের সাথে আমরা নারায়ণগঞ্জের মানুষ এসে যুক্ত হচ্ছি। Still1028_00001আপনারা আমাদের সুযোগ করে দিচ্ছেন। কেন সুযোগ করে দিচ্ছেন। কেন প্রতিবাদ করছেন না। কেন আপনাদের ফসলি জমি এ ভাবে ভরাট করে ফেলছে। কাউকে কিছু বলছেননা। প্রতিবাদ করতে শিখেন।
শনিবার ( ২৮ আক্টোবর ) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চরগোয়ালদী ঈদ মাঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফজলুল হক হলের ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীদ মিজানুর রহমানের ২৬ তম শাহাদাৎ বার্ষির স্মরন সভায় সিটি মেয়র আইভী এসব কথা বলেন।
শহীদ মিজান স্মৃতি সংসদ এ স্বরণ সভায় আয়োজন করেন।
মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, নারায়ণগঞ্জের পাচঁটি আসন আওয়ামীলীগের ঘাটি। সোনারগাঁওয়ের মানুষ জাতীয় পাটিতে ভোট দিতে চায়না। আমরা নৌকায় ভোট দিতে চাই। আপনাদের প্রান প্রিয় নেতা কায়সার হাসনাত এখানে উপস্থিত আছেন। আমরা পুনরায় কায়সার হাসনাতকে এলাকাবাসির সহায়তায় সংসদে দেখতে চাই। সোনারগাঁয়ে যে কাজকর্ম গুলি বাকি রয়েছে সেই কাজগুলি উনি সংসদে গিয়ে শেষ করবেন।
আইভী বলেন, মিজানের স্মরন সভায় এসেছেন। মিজান হলের ভেতরে অবস্থা দেখতে গিয়ে আতœত্যাগ করেছন। নারায়ণগঞ্জের মানুষ ঢাকায় না গেলে রাজপথে মিছিল হতোনা। আদমজীর শ্রমিকরা না গেলে রাজপথ প্রকম্পিত হতো না। আলী আহমেদ চুনকা জোহা সাহেবদের মিছিল না গেলে রাজপথ কাপতো না। আমরা কি কারো হাতে জিন্মি হয়ে গেলেম। যে ভাবে ফসলি জমি জোর করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে সেজন্য প্রতিবাদ করতে হবে। নৌকার পক্ষে জোয়ার উঠাতে হবে। সোনারগাঁয়ের আদিরুপ ফিরিয়ে আনতে হবে। এটা শেখ হাসিনা চায় । এটাই শেখ হাসিনার উন্নয়ন। সোনারগাঁয়ের খাল খাল বিল জলাশয় থাকবে । এটা দেশের মানুষ প্রত্যাশা করে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশেকে অন্যদেশের মতো উন্নয়ন কনরতে চায়না। এখানে জঙ্গীবাদের কোন স্থান হবেনা।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার হাতকে শাক্তি শালী করতে হলে নির্বাচনে যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করতে হবে। তাকে বিজয়ী করে সংসদে পাঠাতে হবে। এখানে যে আওয়ামীলীগের একটি শক্তিশালী সংগঠণ আছে সে আওয়াজ তুলতে হবে। অন্যায় এটা যে হারিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে চলে যাচ্ছে সে কথা গুলো বলতে হবে।
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের খাই খাই ভাব পরিহার করে মানুষের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, জোর করে কোন কিছু হবে না । সেই বাংলাদেশ আর নেই। নেতাকর্মীদের স্বভাব চরিত্র, কথাবার্তা সব কিছুতে পরিবর্তন আনতে হবে। যারা ভুমিদস্যু বালু সন্ত্রাসী, টাকার বিনিময়ে রাজনীতি করছেন তারা থাকতে পারবেনা , তারা চলে যাবে। তারা বিভিন্ন জায়গায় বাড়িঘর তৈরি করেছে। কিন্তু আপনি আমি কোথাও যাবোনা। আমাদের এ দেশেই থাকতে হবে। এজন্য গত আট বছরে আওয়ামীলীগ সরকার কি কি উন্নয়ন করেছে সেই বার্তা মানুষের ঘরে ঘরে পৌচ্ছে দিতে হবে।
সিটি সেয়র ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ৭৫ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বহি বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি সন্ত্রাসী রাস্ট হিসেবে পরিচিত করেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের মাধ্যমে শুরু করে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক হত্যা করা হয়েছে। একটি সরকার যদি পর পর কয়েকবার ক্ষমতায় থাকে তবে দেশের চেহারা পাল্টে যায়। যেটা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশকে যদি উন্নত বিশ্বে পরিণিত করতে চাই তবে শেখ হাসিনাকে আরেক বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আনতে হবে।
তিনির বলেন, ৭৫ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কলঙ্কময় রাষ্ট্র ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর এ কলঙ্ক মোচন হয়। বাংলাদেশ ধীরে ধীরে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, হাজারো মিজানের মতো যুবলীগ ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে শেখ হাসিনা আজ প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এই ধারাবাহিকতা আমাদের ধরে রাখতে হবে।
জাপান আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম মাসুমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারী, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল-কায়সার, স্থপতি ড. মাসুম ইকবাল, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক উপ-কমিটির সহকারী সম্পাদক আখলাকুর রহমান মাইনু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ টুটুল, জাপান আওয়ামীলীগের সভাপতি সামসুল আলম ভুট্টো, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সোনারগাঁ উপজেলা সভাপতি গাজী মুজিবুর রহমান, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু প্রমুখ।
উল্লেখ্য শহীদ মিজানুর রহমান মিজান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভূতত্ত্ব বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র থাকাকালীন ফজলুল হক হলের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯১ সালে ২৭শে অক্টোবর সন্ত্রাস বিরোধী মিছিলে ছাত্র দলের সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ শে অক্টোবর মৃত্যু বরণ করেন । ##