সেলিম ওসমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছেন-উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ

884

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: প্রধান শিক্ষককে কানে ধরে ওঠবস করানোর ঘটনাটি সঠিক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এমপি সেলিম ওসমান। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, আমি কার কাছে ক্ষমা চাইব? ধর্ম ও আল্লাহ’র কটাক্ষকারির সাজা হয়েছে। আমি শহীদ হলেও ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এসময় তার নেতাকর্মীরা নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার স্লোগান দেয়। তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সভাপতি সাইয়েদ বাহাদূর শাহ্ মোজাদ্দেদী বলেছেন, তারাই রাজিব মঞ্চ বানায় আবার তারাই ধর্মের দোহাই দেয়। রাজনীতির স্বার্থে এখন তারা এসব কথা বলছে। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেছেন, সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমান সংবাদ সম্মেলন করে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। এসময় তার সাথে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের জাতীয় পার্টি দলীয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা, বিকেএমইএ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মঞ্জুরুল হক, বিকেএমইএ’র সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ, বাংলাদেশ ইয়ার্ণ মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহা, বাংলাদেশ নিটিং ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আবু তাহের শামীম, বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল আলম সজল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা প্রমুখ।
সেলিম ওসমান সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, আমি লজ্জিত হতে পারি এজন্য যে এ ঘটনা নিয়ে চরম অপপ্রচার চালানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত’র নাম হচ্ছে ‘তারছিড়া মাষ্টার’। তিনি মন্ত্রী ও এমপিদের সমালোচনা করে বলেন, আমাকে তারা ডাকতে পারতেন। শাসন করতে পারতেন। কিন্তু তারা উত্তপ্ত করলেন।
তিনি বলেন, শ্যামল কান্তি আমার কাছে সাহায্য চেয়েছে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার। সে আমার কাছে লিখিত দিয়ে বলেছে, আমি তাকে ঘটনার সময় উদ্ধার করেছি। এজন্য সে আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। সে আমাকে চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য আবেদন করেছে। তবে তার এ বক্তব্য অস্বিকার করে শ্যামল কান্তি ভক্ত বলেন, সেলিম ওসমান সাহেবের পিএস বিশ্বজিত আমার কাছ থেকে এমন একটি চিঠিতে সাক্ষর নেয়ার জন্য হুমকি দেয়। কিন্তু এরপরেও আমি সাক্ষর দেইনি। এরপর তারা আমার সাক্ষর নকল করে এ আবেদন তৈরী করে। শ্যামল কান্তি বলেন, আমি এখন সেলিম আতঙ্কে ভূগছি।
একজন শিক্ষককে কান ধরানো অপরাধ ও এতে আইনভঙ্গ হয় এ কথা স্বীকার করে সেলিম ওসমান বলেন, শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে বাঁচানোর জন্য তিনি সেটি করেছেন। ঈমানদার মুসলমানেরা শিক্ষকের শাস্তি চেয়েছিলেন দাবি করে তিনি সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান, ‘আমরা কি ইবলিসের রাজত্বে বাস করছি? আপনারা জবাব দিন।’
সেলিম ওসমান আরও বলেন, আমি যখন শিক্ষকের কাছে যাই। তিনি ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির কথা স্বিকার করেন। শিক্ষকের কাছে জানতে চাই, তোমার কি শাস্তি হবে? তিনি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবেন বলে জানান।
সরকারি তদন্ত কমিটি শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ‘ধর্মীয় অবমাননার’ অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পায়নি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সেলিম ওসমান বলেন, আমি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তদন্ত কমিটি আমার সাথে কোন কথা বলেনি।
সেলিম ওসমান আরও বলেন, প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করে একজন বলেছে আমাকে গণধোলাই দিতে। আমাকে গনধোলাই দিলে আমার লোকজন কি বসে থাকবে ? তিনি উপস্থিত নেতা কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কি আপনারা কি চুরি পড়া? এ সময় হলভর্তি নেতা কর্মীরা সমস্বরে বলে ওঠেন, ‘না’। এসময় জাপা নেতা সানাউল্লাহ সানু বলেন, ‘রক্তের বন্যা বহাইয়া দিমু।’
এদিকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে সেলিম ওসমানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষক শ্যামল কান্তি বলেন, , সেলিম ওসমান তার সংসদ সদস্য পদ রক্ষার ইসলাম ধর্মের কুটক্তির বিষয়টি সাজিয়েছেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করে বলেন, আমি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কোন কুটক্তি করিনি।
ঘটনার দিন তিনি কানে ধরানোর আগে আমার দুই গালে চারটি চর মারেন। সেলিম ওসমান যতক্ষন সংসদ সদস্য থাকবে আমি ততদিন পর্যন্ত আমি অ-নিরাপদ থাকবো।
গতকাল সকালে প্রগতিশীল ছাত্র জোট সেলিম ওসমানসহ ও তার সহযোগিদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন।
এদিকে ‘উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’র নেতৃবৃন্দ বলেছেন, আমাদের কাছে নানা দিক থেকে খবর আসছে যে সাংসদ সেলিম ওসমান সাম্প্রদায়িত উস্কানি দিচ্ছেন। তিনি ও তার অর্থায়নে পরিচালিত ‘নারায়ণগঞ্জের আলো’ প্রত্রিকা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে। বিষয়টি আমরা নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি।
নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে বেলা দেড়টায় ‘উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজে’র সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারন সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, জেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস প্রমুখ।
এ ব্যাপারে কথা বলতে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিঞার সাথে ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলে ফোন ধরেননি। ##