সিটি নির্বাচনে আইভীর বিরোধিতা করতে আগামসি লেন ও ঘসেটি বেগমের আদলে ষড়যন্ত্র

3042

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: আবারও আইভীর বিরোধিতা করলেন শামীম ওসমান। শামীম ওসমানের বিরোধিতার কারনেই মহানগর আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় দলের মেয়র প্রার্থী’র তালিকায় আইভীর নাম রাখা হয়নি। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়ে সেই আগা মসি লেন ও ঘসেটি বেগমের ষড়যন্ত্রের মতোই বর্ধিত সভার নামে আইভী বিরোধী ষড়যন্ত্র শুরু হলো বলে ক্ষোদ আওয়ামীলীগের তৃনমূল নেতাকর্মীরা এমনটাই মনে করছেন। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করে আওয়ামীলীগের অনেক নেতাকর্মী বলেছেন, মহানগর আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় দলের প্রার্থী বাছাইয়ে শামীম ওসমানের ভয়ে কেই আইভীর নাম উচ্চারন করেনটি। শামীম ওসমানের পকেট তালিকায় প্রথমে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার, দ্বিতীয় বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ ও তৃতীয় নাম্বারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের নাম প্রস্তাব করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তের ব্যাপারে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন মেয়র আইভীর যোগ্যতা ও গ্রহন যোগ্যতার কাছে এ তিন প্রার্থীর কতটুকু গ্রহন যোগ্যতা আছে। আর এ বর্ধিত সভায় আইভী’র নাম রাখলেই কি আর না রাখলেই কি? দলের প্রার্থী নির্বাচন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনেকেই মনে করছেন আভীর বিরোধিতা করলেও অন্তর তিন নাম্বারে তার নামটা রাখা উচিৎ ছিল। এ তালিকাই আইভীর নাম না রাখায় কেন্দ্রে নেতৃবৃন্দের কাছে স্পষ্ট হলো শামীম ওসমান বরাবরই আইভীর বিরোধিতা করে আসছেন। এদিক মহানগর আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা শেষে প্রার্থীদের তালিকা ঘোষনা করার পর নগরবাসীর আলোচনার কেন্দ্র বিন্দ হয়ে দাড়িয়েছে একটি প্রশ্ন? মেয়র আইভীর চেয়ে কতটু গ্রহন যোগ্যতা আছে আব্দুর রশিদ ও মুজিবুর রহমানের। সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ নেতা। রাজনৈতিক অঙ্গনে আনোয়ার হোসেন, আব্দুর রশিদ ও মুজিবুর রহমান, শামীম ওসমানের ঘনিষ্টজন হিসেবে সভাসমাবেশে প্রকাশ্যে আইভীর বিরোধিতা করে আসছিল। আর আজকের সার্কিট হাউজের বর্ধিত সভায় শামীম ওসমানের উপস্থিতেই আইভীর নাম বাদ দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এসব করে কোন রকম লাভ হবে না। দলের প্রাধন শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই এ শামীম ওসমান তার সম্প্রতি জনসভায় পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন। তার পরও যদি আইভীর একটু বিরোধিতা করা যায় এমন মনোভাবেই এমন সিদ্ধান্ত। তৃনমূলের অনেক নেতাকর্মী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুড বুকে মেয়র আইভীর নাম আছে বলেই তাকে জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। আর মেয়র আইভী নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন করেছে বলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাতটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ খুব ঘটা করে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন। আর মেয়র আইভী সৎ নির্ভিক ও স্বচ্চ ইমেজের বলেই দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরোদ্ধে কোন অভিযোগ পায়নি। আর এ কারনেই তার পুরস্কার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মেয়র আইভীকে উপ মন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে জেলা সার্কিট হাউজে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মহানগর আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় মেয়র আইভীর নাম না রেখে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। একই সাথে বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুর রশিদ এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি মজিবুর রহমানকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ডের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান কমিটির সহ-সভাপতি চন্দন শীল। সভা শেষে মহানগর আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি চন্দন শীল সাংবাদিকদের তিনি জানান, কেন্দ্র থেকে আগামী ২০ নভেম্বরের মধ্যে মেয়র প্রার্থীর প্রস্তাব পাঠানোর জন্য নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে মহানগর কমিটির আজকের সভায় গৃহীত প্রস্তাব কেন্দ্রে পাঠানো হবে। মহানগর আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নের্তৃবৃন্দ। ##