সাত খুন মামলায় মোবাইল কোম্পানির কর্মকর্তাসহ সাত জনের সাক্ষ্য গ্রহন

315

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় আরো সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা করা হয়েছে। এদের মধ্যে তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন মোবাইল সীম নেটওয়ার্ক অপারেটর কোম্পানিতে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তাও রয়েছে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বেলা সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে এয়ারটেল কোম্পানির এন আই সি শাহরিয়ার আহমেদ, বাংলালিংক এর রেগুলেটরি এ্যাফেয়ার হোসনে আরা হক, ডিবি পুলিশের কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম, ডিবির ঝাড়–দার মেহেদী হাসান মিন্টু, দুই পুলিশ কনস্টেবল হাওলাদার ওমর, রফিকুল ইসলাম ও তৎকালীন সময়ে র‌্যাব-১১ তে কর্মরত হাবিলদার কামালউদ্দিনের স্বাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। পরে আসামীপক্ষের আইনজীবিদের জেরা শেষে আদালত আগামী ১৬ জুলাই পরবর্তী সাক্ষীদেও সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য্য করেন। এর আগে সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সাত খুন মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা, লে.কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, কমান্ডার এম এম রানা ও মেজর আরিফ হোসেনসহ ২৩ আসামীকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আসামীদের উপস্থিতিইে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।
পাবলিক প্রসিকিউটর এস এম ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, আসামীরা হত্যাকান্ডের সময় যেসব মোবাইল সিম থেকে একে অপরের সাথে সাথে কথা বলেছেন। পুলিশ হেড কোয়াটার থেকে সে সময় মোবাইল কোম্পানীর কাছে কল লিস্ট নেয় মামলার তদন্তের জন্য। আজ মোবাইল কোম্পানীর কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সাক্ষী দিয়ে বলেন আসামীরা কোন কোন সময় মোবাইল ফোন দিয়ে কার সাথে কতবার কথা বলেছেন। এসব বিষয়ে বিস্তারিত সাক্ষ্য দেন। এসময় আসামী পক্ষের আনজীবীরা তাদের জেরা করেন। পরে অপহরনের দিন নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম যে র‌্যাব সদস্য ছদ্ধবেশে ফলো করছিল র‌্যাবের কনষ্টের আবু তৈয়ব। সেদিন আবু কৈয়বকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পুলিশ আটক করে পরে। পরে র‌্যাব আবার তাকে ছাড়িয়ে নেয়। এসব বিষয়ে সেসময় কর্মরত দুইজন পুলিশ কনস্টেবল ও একজন র‌্যাব সদস্য এসব বিষয়ে সাক্ষ্য দেন।
সাত খুনের মামলা প্রমাণের ক্ষেত্রে আজকের এই সাতজনের  সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই নিয়ে ৭ খুনের ঘটনায় দায়েরকৃত দুইটি মামলায় মোট ১২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে পৃথক দুই মামলার বাদি, একজন যুগ্ন জেলা জজ, পাঁচজন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, র‌্যাব কর্মকর্তা-সদস্য, বেশ কয়েকজন আইনজীবি ও মোবাইল সীম অপারেটর নেটওয়ার্ক কোম্পানির কর্মকর্তাসহ মোট ৮০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হলো।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম সিনিয়র আইনজীবি চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। এর তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। সাত খুনের ঘটনায় নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহযোগী হত্যার ঘটনায় নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় তার জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে একই থানায় অপর একটি  মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ এক বছর পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ মন্ডল ৩৫ জনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল করেন। এই মামলায় ৩৫ জন আসামীর মধ্যে ২৩ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে। ১২ জন আসামী এখনো পলাতক রয়েছে। ##