সাত খুন মামলায় ৩৫ আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ( ভিডিও সহ)

236

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলায় প্রধান আসামী নূর হোসেন ও র‌্যাব-১১ এর সাবেক তিন কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লেফটেনেন্ট কমান্ডার এম এম রানাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। সোমবার সকাল এগারোটায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে আসামীদের হাজির করে অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে দুপুরে আদালত ৩৫জনকে আসামী করে অভিযোগ গঠন করেন। এ মামলার পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য্য করা হয় আগামী ২৫শে ফেব্রুয়ারী। ওই দিন থেকে  এই মামলার বিচার শুরু হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি ওয়াজেদ আলী খোকন রাইজিংবিডিকে জানিয়েছেন, সাত খুন মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত তিনটি চাঁদাবাজির মামলায় নূর হোসেনকে সোমবার সকাল সাড়ে নয়টায় নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাাজিষ্ট্রেট কে এম মহিউদ্দিনের আদালতে হাজির করা হয়। এসময় নূর হোসেনের আইনজীবীরা পৃথক তিনটি চাঁদাবাজি মামলায় আসামীর জামিন চাইলে আদালত শুনানী শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দুইটি মামলা বিচারের জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রেরনের নির্দেশ দেন। পরে সকাল এগারোটায় আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় দুটি মামলার অভিযোগ গঠনের জন্য নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৩ আসামীকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে দুপুরে এই মামলায় অভিযুক্ত ৩৫ আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারী পরবর্তী শুনানির ধার্য্য দিন থেকে স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য গ্রহণসহ বিচার শুরু হবে ।
এদিকে সাত খুন মামলায় নূর হোসেনসহ পাঁচজনের পক্ষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আসামীপক্ষের আইনজীবি আশরাফ উজ্জামান।
মামলার বাদি নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা হোসেন বিউটি অভিযোগ করেছেন, আসামীদের পক্ষ থেকে হুমকির কথা উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন,, আদৌ ন্যায়বিচার পাবেন কিনা সে বিষয়ে তিনি শংকিত। স্বাক্ষীরা যেন নিরাপদে আদালতে এসে স¦াক্ষী দিতে পারেন তার জন্য প্রশাসনের কাছে তিনি নিরাপত্তা ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাসহ ৭ জনকে অপহরণের তিন দিন পর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহযোগী হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে একটি এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী সংস্থা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ  নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযুক্ত আসামীদের মধ্যে র‌্যাবের ৮সদস্য সহ ১২জন আসামী বর্তমানে পলাতক রয়েছে। ###

ভিডিওটি দেখতে চাইলে ক্লিক করুন: