সাত খুন মামলার আসামী তারেক সাঈদ চোখ রাঙ্গিয়ে স্বাক্ষিকে ভয় দেখানোর অভিযোগ

323

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার পরবর্তী স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ আগামী ১৬ মে ধার্য্য করেছে আদালত। স্বাক্ষিদের মধ্যে একজন দেহরক্ষী কনস্টেবল আদালতে স্বাক্ষি দেওয়ার সময় আদালতে কাঠগড়ায় সাবেক অধিনায়ক লে.কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদকে সনাক্ত করে। তাকে সনাক্ত করার সময় তারেক সাঈদ তার দিকে কাকিয়ে চোখ রাঙ্গালে এবং তার অঙ্গভঙ্গি দেখি ওই স্বাক্ষি ভয় পেয়ে যায়। পরে আদালতে ওই স্বাক্ষি জ্ঞান হারিয়ে ফেলার অবস্থা উপক্রম হয়। আজকে গুরুত্বপূর্ন স্বাক্ষিরা স্বাক্ষ প্রদান করেছে।
এর আগে ৭ খুনের ঘটনায় দায়েরকৃত দুটি মামলায় নিহত আইনজীবি চন্দন সরকারের স্ত্রী অর্চণা সরকার, একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও বেশ কয়েকজন চিকিৎসকসহ ১১ জন স্বাক্ষী আদালতে স্বাক্ষ্য প্রদান করেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা পৌনে তিনটা পর্যন্ত জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৩ আসামীর উপস্থিতিতে স্বাক্ষীদের এ স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। স্বাক্ষ্য গ্রহণের পর আসামীপক্ষের আইনজীবীরা পর্যায়ক্রমে স্বাক্ষীদের জেরা করেন। স্বাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষে আদালত আগামী ১৬ মে পরবর্তী স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরার তারিখ ধার্য্য করেন। এই নিয়ে ৭ খুনের দুটি মামলায় মোট দুই মামলার বাদী ও দুইজন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটসহ ৪৮ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হলো। এর আগে সকাল সাড়ে নয়টার মধ্যে সাত হত্যা মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেন, র‌্যাব-১১র সাবেক অধিনায়ক লে.কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, কমান্ডার এম এম রানা ও মেজর আরিফ হোসেনসহ ২৩ আসামীকে আদালতে হাজির করা হয়।
বাদিপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াৎ হোসেন খান জানান, আজ ১১ জন স্বাক্ষির স্বাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা করা হয়েছে। তারা হলেন সাত খুনের ঘটনায় নিহত আইনজীবি চন্দন সরকারের স্ত্রী অর্চণা সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিমুল আহসান, নিহত তাজুলের বাবা আবুল খায়ের, নিহত সিরাজুল ইসলাম লিটনের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম, নিহত নজরুল ইসলামের আত্মীয় আকতার হোসেন, ডা. জলিল আহমেদ, ডা. আসাদুজ্জামান, ডা. শেখ ফরহাদ, ডা. মাঈনুদ্দিন, কনস্টেবল আবদুল লতিফ ও নিহত চন্দন সরকারের আত্মীয় মাধব দেব।

পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানিয়েছেন, আজ বারোজন স্বাক্ষীকে স্বাক্ষ্য প্রদানের জন্য ডাকা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১১ জন আদালতে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, আজকের স্বাক্ষীরা তাৎপর্যপূর্ণ স্বাক্ষ্য প্রদান করেছেন। যা এই মামলা প্রমানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বাদিপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াৎ হোসেন খান জানিয়েছেন, স্বাক্ষিদের মধ্যে একজন দেহরক্ষী কনস্টেবল আদালতে স্বাক্ষি দেওয়ার সময় আদালতে কাঠগড়ায় সাবেক অধিনায়ক লে.কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদকে সনাক্ত করে। তাকে সনাক্ত করার সময় তারেক সাঈদ তার দিকে কাকিয়ে চোখ রাঙ্গালে এবং তার অঙ্গভঙ্গি দেখি ওই স্বাক্ষি ভয় পেয়ে যায়। পরে আদালতে ওই স্বাক্ষি জ্ঞান হারিয়ে ফেলার অবস্থা উপক্রম হয়। আজকে গুরুত্বপূর্ন স্বাক্ষিরা স্বাক্ষ প্রদান করেছে।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম সিনিয়র আইনজীবি চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। এর তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। সাত খুনের ঘটনায় নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহযোগী হত্যার ঘটনায় নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় তার জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে একই থানায় অপর একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ এক বছর পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ মন্ডল ৩৫ জনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল করেন। এই মামলায় ৩৫ জন আসামীর মধ্যে ২৩ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে। ১২ জন আসামী এখনো পলাতক রয়েছে। ##