শিক্ষকের অপমান সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যা-চিরকুটে

830

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নকল করার অভিযোগে বহিস্কার ও মারধর করার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ নবম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুল থেকে বাসায় ফিরে শিক্ষকদের করা অপমান সহ্য করতে না পেরে রাগে ক্ষোভে অভিমানে উম্মে হাবিবা শ্রাবণী আত্মহত্যা করেছে। রাতে ওই স্কুল ছাত্রীর ডায়েরী থেকে আত্মহত্যার কারণ উল্লেখ করে রেখে যাওয়া হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধার করে তার পরিবার। তবে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কোন শিক্ষকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত বৃহস্পতিবার ডিআইটি এলাকায় অবস্থিত গনবিদ্যা নিকেতন উচ্চবিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে নবম শ্রনীর ছাত্রী উম্মে হাবিবা শ্রাবনীকে নকল করার অভিযোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাসরিন তার খাতা আটক করে। পরে অপর শিক্ষক কামরুল হাসান মুন্না তার খাতা নিয়ে শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা শ্রাবণীকে চড় থাপ্পড় মারে এবং তাকে অপমানজনক কথা বলেন। পরে ওই শিক্ষার্থী শ্রাবণীকে নকল করার অভিযোগে বহিস্কার করা হয়। ছাত্রী শ্রাবণী দুপুরে বাসায় ফিরে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না প্যাঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। নিহত শ্রাবণীর পরিবারের অভিযোগ, শিক্ষকদের অপমান সহ্য করতে না পেরেই তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তার ডায়েরী থেকে আত্মহত্যার কারণ সর্ম্পকে হাতে লেখা চিরকুট দেখে তারা বিষয়টি নিশ্চিত হন। তারা এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের শাস্তির দাবি জানান।
মৃতুর আগে হাবিবা তার ডায়রিতে লিখে গেছেন স্কুলের নাসরিন মিছ বিনা কারনে আমার পরিক্ষা বাতিল করেছে। আমি তাদের অনেক বলেছি কিন্তু তারা কেউ আমার কথা শোনেনি। কামরুল হাসান মুন্না স্যার আমাকে বিনা কারনে সবার সামনে মারছে। পূরো স্কুল আমারে নিয়া হাসাহাসি করছে। মা আমি সহ্য করতে পারিনাই। তাই আমি আতœহত্যা করতে বাধ্য হলাম। মা আমারে মাফ কইরা দিও।
তবে এই ঘটনায় গণবিদ্যা নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জানে আলম ও আনোয়ার হোসেন জানান, এই ঘটনার সঙ্গে স্কুলের কোন শিক্ষকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ##