শহীদ সাব্বির আলম খন্দকারের ১১তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে সমাবেশ ও শোক র‌্যালি

463

সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই গার্মেন্ট ব্যবসায়িদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সাবেক পরিচালক ব্যবসায়ি সাব্বির আলম খন্দকারকে প্রাণ দিতে হয়েছে। সে সময়ে গার্মেন্ট ব্যবাসয়ীরা উপযুক্ত মুল্যে ঝুট বিক্রি করতে পারছিলনা। এমনকি কোরবানী দেয়ার পরে সন্ত্রাসীরা গরুর চামড়ার মুল্য একশ-দু’শ টাকা যা-ই ধরিয়ে দিয়েছে তা-ই নিতে বাধ্য হচ্ছিলো এ শহরের মানুষ। সাব্বির আলম খন্দকার সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে প্রকাশ্য সভায় এ শহরের সন্ত্রাসীদের নাম বলে সন্ত্রাসীদের এ প্রতাপের বিরুদ্ধে দাড়ান। তিনি বক্তব্য শুরু করার আগে তার জানাজায় অংশ গ্রহনের আহ্বান জানিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন। অবশেষে তার আশঙ্কা-ই সত্য হয়। সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি নিহত হন। কিন্তু গার্মেন্ট ব্যবাসায়ীদের পক্ষে দাড়াতে গিয়ে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থন নিতে গিয়ে সাব্বিরের মৃত্যু হলেও বিকেএমইএ তার এই সাবেক সহ-সভাপতির মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া পাঠও করেনা।Narayanganj--Rally---18-02-2014
মঙ্গলবার নিহত ব্যবসায়ি সাব্বির আলম হত্যাকা-ের ১১ বছর পূর্তি উপলক্ষে শোক র‌্যালি পূর্ব এক সমাবেশে নিহতের বড় ভাই জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার এই অভিযোগ করেন। ১১ বছর আগে ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে প্রাতঃভ্রমনে বেরিয়ে অজ্ঞাত আঁততায়ীর গুলিতে নিহত হন বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি ও জাপা নেতা সাব্বির আলম খন্দকার।
তৈমূর আলম বলেন, ২০০২ সালে নারায়ণগঞ্জে ঝুট সন্ত্রাস, কোরবানীর চামড়া নিয়ে সন্ত্রাস এবং মাদক ব্যবসা চরম আকার ধারণ করে। বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় দেশব্যাপি সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। সেনা বাহিনীর সঙ্গে সেসময় নারায়ণগঞ্জ চেম্বারে জেলার ৩২টি ব্যবসায়ি সংগঠনের একটি মত বিনিময়ন সভায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখার কারণেই সাব্বির সন্ত্রাসীদের টার্গেটে পরিণত হয়। যার ফলশ্রুতিতে পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে সাব্বির আলম খন্দকারকে প্রকাশ্যে খুন হতে হয়। অথচ ওই সভাতে অন্যান্য ব্যবসায়ি নেতৃবৃন্দ মুখ বন্ধ করে রেখেছিল। একমাত্র সাব্বির আলমই সাহস করে সন্ত্রীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন।
৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে তৈমূর বলেন, নারায়ণগঞ্জের একজন এমপি বলেছেন, তিনি মাদক ব্যবসায়িদের কলিজা টেনে বের করে আনবেন। তার এ বক্তব্য যদি রাজনৈতিক হয় তাহলে তা দুঃখজনক। আর যদি আন্তরিক হয় তাহলে তাকে কারো কলিজা টেনে বের করার প্রয়োজন নেই। তিনি চোখ মেলে তাকালেই দেখতে পাবেন কারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের প্রতি তিনি একটু দৃষ্টি দিলেই চলবে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তৈমূর বলেন, র‌্যাব-পুলিশ নারায়ণগঞ্জে মাদক ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধ লোক দেখানো অভিযান চালায়। আর মাদক ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে তারা তাদের হাতে নিগৃহিত হয়ে ফিরে আসে। এর কারণ এরা মাদক ব্যবসায়িদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা পায়। এ কারণে পেটে খেলে পিঠে সয় এর মতো তারা নিরবে মার খেয়ে ফিরে আসে।
বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি নেতা বদরুজ্জামান খান খসরু, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, এটিএম কামাল, কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের খাজা, জামাল উদ্দিন কালু প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে একটি শোক র‌্যালি শহরের মাসদাইর কবরস্থানে গিয়ে মরহুম সাব্বির আলম খন্দকারের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।#