রক্ত দিয়ে হলেও না’গঞ্জের বরফকল মাঠ রক্ষার প্রত্যয় এলাকাবাসী

150

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জ নগরীর নগর খানপুরে অবস্থিত শত বছরের পুরনো ঐতিহাসিক বরফকল মাঠটি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের পাঁয়তারার প্রতিবাদে শনিবার সকালে মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। এতে জাতীয় দলের বর্তমান ও সাবেক খেলোয়াররা, ক্ষুদে খেলোয়ার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়। এ মাঠটিতে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তাই মাঠটি রক্ষায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে মাঠের কোন বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী যেখানে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের বক্তব্য দিচ্ছেন সেখানে বিআইডব্লিউটিএ’র কুচক্রী মহল খেলার মাঠটিকে কোয়ার্টার বানানোর পায়তারা করছে। মাঠটি রক্ষার জন্য তারা স্থানীয় দুই সহোদর এমপি সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার সুদৃষ্টি কামনা করেন। প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে হলেও খেলার মাঠ রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়ার নজরুল ইসলাম, সোহেল রানা, সাবেক ফুটবলার ইসলেহউদ্দিন, আলাউদ্দিন, পোলস্টার ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান, মোঃ সুমন, দিপু প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যার তীরে শহরের নগর খানপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক বরফকল মাঠটি বিআইডব্লিউটিএ’র আওতাধীন হলেও এই মাঠটিতে স্বাধীনতার আগে থেকেই স্থানীয়রা খেলাধুলা করে আসছে। এই মাঠটিতে খেলেই বাংলার ম্যারাডোনা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়ার স¤্রাট হোসেন এমিলি। এছাড়া জাকির, স্বপন, তপু, হানিফ, জামাল, সেলিমসহ অনেকেই জাতীয় ফুটবল দলে খেলেছেন। বর্তমানেও জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক নজরুল ইসলাম ও স্ট্রাইকার সোহেল রানাও এই মাঠে খেলেছেন। জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়ার মোহাম্মদ শরীফ, মোহাম্মদ শহীদ, রনি তালুকদারসহ সাবেক অনেক জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও এই মাঠে খেলেছেন।
বক্তারা আরো বলেন, মাঠটিতে কয়েকদিন ধরেই খেলোয়ারদের প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছেনা। মাঠটি দখল হয়ে গেলে শিশু কিশোররা খেলার মাঠ পাবে কোথায়। আমরা জানি মাদক থেকে দূরে থাকার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে খেলাধুলা। আর খেলার মাঠ না পেলে শিশু কিশোর যুবকেরা মাদকের দিকেই ঝুকবে। আমাদের জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের উর্ধ্বতনরা মাদক নির্মূলের জন্য বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু এই বরফকল মাঠ না থাকলে এর প্রভাব গোটা নারায়ণগঞ্জ শহরের উপরেই পড়বে। কারণ মাঠটি হচ্ছে আমাদের অক্সিজেন। আর অক্সিজেন না থাকলে মানুষ বাঁচতে পারেনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ করার। আমরা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনের এমপি সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের এমপি শামীম ওসমান, নাসিকের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়ার সুদৃষ্টি কামনা করছি।
বক্তারা আরো বলেন, বরফকল মাঠের ঠিক বিপরীতেই বিআইডব্লিউটিএ’র মালিকানাধীন কোয়ার্টারের জন্য স্থান নির্ধারণ করা ছিল। ওই স্থানে তারা এর আগেও ভিত্তিপ্রস্তর করেছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তারা পূর্ব নির্ধারিত স্থানে কোয়ার্টার না করে মাঠের জায়গায় কোয়ার্টার নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই আমরা কোন হাটের জন্য এখানে আন্দোলনে নামি নাই। আমরা চাই শুধু উন্মুক্ত খেলার মাঠ। খেলার মাঠ রক্ষার দাবিতে আমাদের আন্দোলন কঠোর থেকে কঠোরতর হবে। খেলার মাঠ রক্ষার জন্য প্রয়োজনে রক্ত দিতে হলেও পিছপা হবোনা।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফউদ্দিন জানান, এই মাঠ আমাদের বিআইডব্লিউটিএ’র ক্রয়কৃত সম্পত্তি। এই মাঠটিতে এতদিন কোন প্রকল্পের প্লানিং না হওয়ায় মাঠটি অব্যবহৃত পড়েছিল। সেজন্য স্থানীয়রা কিছুদিন খেলাধুলা করার সুযোগ পেয়েছিল। এই মাঠটিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ইনল্যান্ড কন্টেইনার টার্মিনাল নামক প্রকল্প নির্মিত হবে। বরফকল জেটি ও বরফকল মাঠের জায়গার সমন্বয়ে প্রকল্পটি গড়ে উঠবে। বরফকল মাঠের বিপরীতে কোয়ার্টারের প্রসঙ্গে তিনি জানান ওই স্থানে আমাদের একটি আবাসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর হলেও বরাদ্দ না থাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি।#