মতবিনিময় সভায় সেলিম ওসমান প্রয়োজনে জুতাপেটা করেন, কিন্তু ক্ষমা চাইতে বলবেন না

580

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ শিক্ষককে কান ধরিয়ে ওঠবস করিয়ে দেশব্যাপি সমালোচনার ঝড় তোলা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান বলেছেন, আমি সেদিন কোন শিক্ষক বা হিন্দুকে নয়, একজন নাস্তিককে কান ধরিয়ে ওঠবস করিয়েছি। এজন্য যদি আমাকে ফাঁসির কাষ্ঠেও যেতে হয় আমার কোন দুঃখ থাকবে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমার প্রয়াত বড় ভাইয়ের নামে আপনার নাম। আপনি আওয়ামীলীগ করেন। যে আওয়ামীলীগের জন্ম নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ার বায়তুল আমানে। সেখানে আপনাদের দাওয়াত রইলো। এখানে আমি আপনাদের আসামী হবো। আপনারা আমার সঙ্গে আলোচনায় বসেন। প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জে এসে আমাকে জুতা পেটা করেন, কিন্তু ক্ষমা চাইতে বলবেন না। মোহাম্মদ নাসিমকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, নাসিম ভাই আমিতো আল্লাহকে কটাক্ষকারীকে কান ধরে ওঠবস করিয়েছি। কিন্তু আপনার আরেক মন্ত্রীতো ট্রাফিক পুলিশকে কান ধরে ওঠবস করিয়েছে। তার তো কিছু হলো না। সেলিম ওসমান বলেন, সেদিনের ঘটনার জন্য আমি দুঃখিত এবং লজ্জিত।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চলা নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তৃতাকালে সেলিম ওসমান এসব কথা বলেন।
ওই মত বিনিময় সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী, ব্যবসায়ি নেতৃবৃন্দ ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা, সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য হোসনে আরা বাবলী, এফবিসিসিআই’র সাবে সহ সহভাপতি মোহাম্মদ আলী, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান ও বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সেলিম ওসমান বলেন, ঘটনার যে ভিডিও চিত্র প্রকাশিত হয়েছে, সেটি কোন সাংবাদিকের ধারণকৃত নয়। একারণে আমি মনে করি আমি রাজনীতির শিকার। তাছাড়া ভিডিও চিত্রে দেখানো হয়েছে সেখানে জয় বাংলা শ্লোগান দেওয়া হচ্ছে। অথচ ওই সময় নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর শ্লোগান দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, একজন বলেছেন লজ্জা থাকলে যেন আমি সংসদে না যাই। ঘটনার পর থেকে সংসদে যাচ্ছি না, বিকেএমইএ এবং নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতির চেয়ারেও বসছি না। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান থাকায়, চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরেও যাচ্ছি না। অথচ আমার ওষুধ ফুরিয়ে গেছে।
সেলিম ওসমান বলেন, মতবিনিময় সভায় উপস্থিত আলেমদের কাছে হাত জোড় করে সেলিম ওসমান বলেন, আমার কাছে খবর আছে আপনারা শুক্রবার জুমার নামাজের পর বড় আন্দোলনে নামবেন। আমি সকলের কাছে হাত জোড় করে মিনতি করি-আল্লাহর উপর ভরসা রাখেন। প্রয়োজনে শুক্রবার জুমার নামাজের পর আমার জন্য মসজিদে মসজিদে দোয়া করেন। কারণ ইসলাম শান্তির ধর্ম। আপনারা কেউ রাস্তায় নামবেন না।
গত ২৪ মে ডাকা সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাকে আমার দলের প্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ডেকে বললেন, সেলিম তুমিতো ওলি হয়ে গেছ। তুমি জান, তোমার জন্য সারাদেশের কত মসজিদে দোয়া হয়েছে। তুমি শান্ত হও। আল্লাহ তোমার সহায় হবেন। তোমার সঙ্গে আল্লাহ আছেন। আমরা আছি। তুমি সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করে দাও।
তিনি বলেন, ওই শিক্ষককে কান ধরে ওঠবস করানোয় কি শুধু একটি ঘটনারই বিচার হবে। ওই শিক্ষককে হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে ছাত্রকে পেটালেন তার কি কোন বিচার হবে না। ছাত্রকে পেটানোর ঘটনায় কি হাইকোর্টের নির্দেশ অবমাননা হয়নি।
সেলিম ওসমান বলেন, মানুষের কাছে প্রমাণ হয়েছে ওই শিক্ষক ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করেছেন। ঘটনার পর আমি ওই শিক্ষকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। তার ওষুধ থেকে শুরু করে পথ্যের ব্যবস্থা করেছি এবং পকেট খরচের জন্য নগদ ২০ হাজার টাকাও দিয়েছি। আমার কাছে ফোন করে ওই শিক্ষক টাকা দাবি করেন। প্রথমে বললেন, চাকুরি ফিরিয়ে দিতে। এরপর ফোন করে তার ৩ মেয়ের বিয়ের জন্য ৩০ লাখ টাকা করে ৯০ লাখ টাকা এবং চিকিৎসার জন্য আরো ১০ লাখ মোট ১ কোটি টাকা দাবি করেছেন। এরপর থেকে আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছি। তখন তিনি আমার পিএস বিশ্বজিতকে ফোন করে বলেন, বাবা বিশ্বজিৎ এখন আমার কি হবে?
সেলিম ওসমান বলেন, ঘটনার পর জীবন বাচাঁনো সেই শিক্ষক আমাকে ভগবান মানলেন, আর এখন মন্ত্রীকে বিধাতা ডাকেন।#