ভুয়া জন্মসনদ দেয়ার অভিযোগে আদালতের সমন প্যানেল মেয়র বিন্নির বিরুদ্ধে

1627

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর প্যানেল মেয়র শারমীন হাবিব বিন্নির বিরুদ্ধে ভুয়া জন্ম সনদ প্রাপ্তিতে সহায়তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ভুয়া জন্মসনদের মাধ্যমে একটি চক্র অর্পিত সম্পত্তি ব্যাক্তিমালিকানায় হস্তান্তরের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আদালত সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩, ১৪,১৫ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র শারমীন হাবিব বিন্নির সুপারিশের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন থেকে ভুয়া জন্মসনদ প্রদানের কারনে বিন্নির বিরুদ্ধে নারায়নগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজের আদালতে তিনটি মামলা হয়েছে।
তবে জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞা জানিয়েছেন, ভুয়া জন্ম সনদ আদালতে জমা দিয়ে যদি কোন অর্পিত সম্পত্তি হস্তান্তর মামলার নি¤œ আদালতে রায় হয় তাহলে এগুলো তদন্ত করে দেখে আপিল করবো। কোন সম্পত্তি বেআইনিভাবে হস্তান্তর করা হবেনা।
জেলা প্রশাসন ও আদালত সূত্র জানায় , প্যানেল মেয়র শারমীন হাবিব বিন্নি জনৈক শম্ভুনাথ দে এর জন্মসদন দেয়ার জন্য জন্মসনদ ফরমে সুপারিশ করেন। তার দেয়া সুপারিশ অনুযায়ী জন্মসনদ প্রদান করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি জন্মসনদের ফরমে স্থানীয় কাউন্সিলরের সুপারিশ প্রয়োজন হয়। ফরমে সুপারিশের জন্য একটি ঘর থাকে। এ ভুয়া জন্ম সনদ প্রদানের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে সেটি ভুয়া প্রমানিত হওয়ায় সেটি বাতিল করে জেলা জজ আদালতে রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সিআইডি অফিস সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র সচিবের নির্দেশে নারায়ণগঞ্জে ভুয়া জন্ম সনদের মাধ্যমে স্কুলের সম্পত্তি একটি জালিয়াতি চক্র নি¤œ আদালত থেকে জমির মালিকানা রায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তারা তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় এ ব্যাপারে রিপোর্ট ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে।
বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নারায়নগঞ্জে ক” তালিকা ভুক্ত প্রায় ২৫টি সম্পত্তি ভুয়া জন্ম সনদের মাধ্যমে নি¤œ আদালত থেকে রায় নিয়েছে। শুধুমাত্র নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর শারমীন হাবিব বিন্নির বিরুদ্ধে এরকম তিনটি মামলা হয়েছে জেলা দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে। ইতিমধ্যে এ তিনটি মামলায় কাউন্সিলর বিন্নির বিরুদ্ধে আদালত থেকে সমন জারি করা হয়েছে। আদালতের একটি সুত্র জানিয়েছে এ মামলা তিনটি হচ্ছে ২৫/১৫, ৩২/১৫ এবং ৩৩/১৫। জানা গেছে শারমীন হাবিব বিন্নি সম্প্রতি জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে ২৫/১৫ মামলার বিষয়ে ভুল জন্ম সনদ প্রদানের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। অপর দুইটি মামলার সমন জারি করা হয়েছে।
মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবি এডভোকেট নবী হোসেন জানান, ১৪ নং ওয়ার্ডের ভুইয়ারবাগে অবস্থিত বিদ্যানিকেতন হাইস্কুলের গেজেটভুক্ত অর্পিত সম্পত্তির বিষয়ে জনৈক শম্ভুনাথ দে কে মনমোহন গুহের উত্তরাধিকার সনদ এবং ভুয়া সনদ পত্র প্রদান করায় এ সম্পত্তি নি¤œ আদালতের রায় তারা নিয়ে যায়। বিষয়টি জেলা প্রশাসন এবং স্কুল কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন হলে তারা সিটি করপোরেশনের কাছে আবেদন করে। সিটি করপোরেশন তদন্ত করে উত্তরাধিকার এবং জন্ম সনদ ভুয়া প্রমানিত হওয়ায় শম্ভু নাথের জন্ম সনদ বাতিল করেন। আাদালতে আপীল করার পর বিষয়টি এখন মামলা হিসেবে চলমান আছে। এদিকে শারমীন হাবিব বিন্নি ১৩ নং ওয়ার্ডের এসি ধর রোডের ৪৪নং হোল্ডিংয়ের অজয় ঘোষ এবং বেদানা রানি ঘোষের নামে দুইটি ভুয়া জন্ম সনদের জন্য সুপারিশ করেন এবং উত্তরাধিকার সনদ প্রদান করেন। এ ব্যাপারে জেলা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে ৩২/১৫ এবং ৩৩/১৫ দুইটি আপীল মামলা হয়েছে। এ মামলা দুইটি বিচারাধীন আছে।
এদিকে বিদ্যানিকেতন হাইস্কুল কর্তৃপ্ক্ষ ভুয়া সনদ প্রদানের মাধ্যমে জালিয়াতি করে অর্পিত সম্পত্তি আতœস্বাত করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কাছে আবেদন জানালে স্বরাষ্ট্র সচিবের নির্দেশে নারায়নগঞ্জ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার এহসান চৌধুরী বিষয়টি তদন্ত করে ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। রিপোর্টে জানা যায়, সি আই ডি তদন্তে শারমীন হাবিব বিন্নির সুপারিশে প্রদানকৃত জন্ম এবং উত্তরাধিকার সনদ পত্র ভুয়া প্রমানিত হয়েছে এবং সিটি করপোরেশন তদন্ত করে তা বাতিল করে দিয়েছেন বলে মন্ত্রনালয়ে রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন।
নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সচিব মাহমুদুর রহমান হাবিব জানান, তারা অভিযোগ পাওয়ার পর জন্ম সনদ ও উত্তরাধিকার সনদ প্রদানের বিষয়টি তদন্ত করে দেখে ইতিমধ্যে একটি জন্ম সনদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় এবং জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নিয়ে বাতিল করা হয়েছে। অন্যান্য অভিযোগ পাওয়া গেলে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে প্যানেল মেয়র শারমিন হাবিব বিন্নি জানান, আমি কোন জন্মসনদ প্রদান করিনা , ফরমে সাক্ষর করি মাত্র। জন্মসনদ প্রদান করে সিটি কর্পোরেশন। যে ব্যাক্তির সনদ প্রদান করা হলো তা যাচাই বাছাই করার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশন এর। তিনি বলেন, আদালত আমাকে ডাকলে আমি গিয়ে আদালতকে জানাই সিটি কর্পোরেশন এর শুরুর দিকে আমি এ সনদ প্রদান করি। তখন আমি কাজ ঠিকমতো বুঝতাম না। আদালত তখন আমাকে সতর্ক করেন। কোন সমনের কথা আমি জানিনা। তিনি বলেন, একটি মহল আমার সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞা জানান, অর্পিত সম্পত্তির কয়েকটি মামলা নি¤œ আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা হয়েছে। কোন ভুয়া সনদের মাধ্যমে যদি সম্পত্তি আতœস্বাতের কেউ প্রক্রিয়া করে তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।কোন সরকারি যাতে ভুয়া জাল দলিল কিংবা সনদের মাধ্যমে জালিয়াতি চক্র আতœস্বাত করতে না পারে এ ব্যাপারে আমরা নিয়মিত মনিটারিং করছি। ####