বেগম ফজিলাতুনন্নেছা মুজিব পার্কের কাজ বন্ধ করতে এসে তোপের মুখে রেলওয়ের কর্মকর্তারা

763

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীর দেওভোগ-জিমখানা এলাকায় নির্মাণাধীন বেগম ফজিলাতুনন্নেছা মুজিব পার্কের কাজ বন্ধ করতে এসে এলাকাবাসির তোপের মুখে পড়েন রেলওয়ে কর্মকর্তারা। এসময় এলাকাবাসি রেলওয়ে কর্মকর্তাদের স্বাধীনতা বিরোধীদের সহযোগি হিসেবে আখ্যায়িত স্লোগান দেয়। এলাকাবাসি কাজ অব্যহত রাখার দাবীতে তাৎক্ষনিক মিছিল বের করে।
এলাকাবাসি জানান, বিকেল তিনটার দিকে রেলওয়ের দুইজন কর্মকর্তা ও কয়েকজন জিআরপি পুলিশ নগরীর দেওভোগ-জিমখানা এলাকায় নির্মানাধীন বেগম ফজিলাতুনন্নেছা মুজিব পার্কের স্থানে আসেন। তারা সিটি কর্পোরেশনের নিয়োজিত ঠিকাদারের লোকজনকে পার্কের কাজ বন্ধ করতে বলেন। তারা ঠিকাদারের লোকজন, লেবারদের মোবাইল ফোন নাম্বার নেয়ার চেষ্টা করেন। কাজ বন্ধ না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান। এসময় ভয়ে ঠিকাদারের লোকজন পালিয়ে যায়। রেলওয়ের লোকজনকে দেখে এলাকাবাসি জড়ো হয়। একপর্যায়ে এলাকাবাসি উত্তেজিত হয়ে ‘পার্ক চাই পার্ক চাই, পার্ক ছাড়া বিকল্প নাই’ ‘মুজাহিদের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান’ বলে স্লোগান দেয়।
এলাকার বাসিন্দা লাভলু আহমেদ ও আমিনুল ইসলাম মিঠু বলেন, রেলওয়ের জায়গা দখল করে এখানে বস্তি বসিয়ে একটি চক্র মাদক ব্যবসা, নকল কারখানাসহ নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে। রেলওয়ের কর্মচারিরা নিজেদের কলোনী বস্তি বানিয়ে মোটা অংকের টাকা আয় করছে। খোদ নারায়ণগঞ্জ রেলষ্টেশনের ষ্টেশন মাষ্টারের কলোনী দখল করে মার্কেট নির্মান করা হয়েছে। নগরবাসি এসব জমি উদ্ধারের দাবী জানালেও রেলওয়ে কখনোই এসব জমি উদ্ধার করতে আসেনা। এখন জাতির পিতার স্ত্রীর নামে জনগনের জন্য পার্ক হচ্ছে সেটি বাধা দিতে রেলওয়ে দাড়িয়ে গেছে। একটি রাজনৈতিক পরিবারের ইন্ধনে রেলওয়ে এসব করছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা হয় রেলওয়ের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা নুরুন্নবী কবির ও বিভাগীয় প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আরিফ এর সাথে। কারো ইন্ধনের অভিযোগ অস্বিকার করে নুরুন্নবী কবির জানান, আমরা এর আগে কাজ বন্ধ করতে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন এর পরেও কাজ চালিয়ে যাওয়ায় আমরা আজ ঘটনাস্থলে এসেছি। তিনি বলেন, আমরা প্রকল্প বন্ধ করে দিতে বলিনি। রেলওয়ের কাছ থেকে অনুমোতি নিয়ে কাজ করতে বলেছি। তিনি জানান, রেলওয়ের যে খালটির পাশে পার্কটি নির্মিত হচ্ছে সেই জিমখানা এলাকায় এ জলাশয়টিসহ রেলওয়ের মোট তেত্রিশ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ১৩ একর জমির উপর এ পার্ক নির্মিত হচ্ছে। এ জায়গার ৫-৬ টি প্লট রেলওয়ে বিক্রি করেছে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বেগম ফজিলাতুনন্নেছা মুজিব পার্কের জন্য রেলওয়ের কাছে পচিশ-ছাব্বিশবার চিঠি দেয়া আছে। আমি নিজেও রেলওয়ে মন্ত্রী, সচিবসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এসেছি। এছাড়া জলাধার আইন অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশন এলাকার যেকোন জলাধার সিটি কর্পোরেশন সংরক্ষন করতে পারে। আর ডিটেইল এরিয়া প্লানেও রেলওয়ের এই জলাধারটি রেখে পার্ক করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আমরা সরকারের সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। এখানে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে আট কোটি টাকা ব্যায় করা হচ্ছে। তবে বেগম ফজিলাতুনন্নেছা মুজিব পার্কের বর্ধিত অংশ হবে শীতলক্ষা-ধলেশ্বরী সংযোগ খাল এর সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প। বেগম ফজিলাতুনন্নেছা মুজিব পার্ক ও এর বর্ধিত অংশ অনেকটা হাতিরঝিল পার্কের মতো একটি প্রকল্প। বর্ধিত অংশ বাস্তবায়নে ২২০ কোটি টাকা খরচ হবে। বিশ্বব্যাংক এর অর্থায়ন করছে। এটি বাস্তবায়নে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। রেলওয়ের কর্মকর্তারা কেন এখানে বাধা দিতে এসেছেন বুঝতে পারছি না। #