বাংলা নবর্বষ, পহলো বশৈাখরে ইতহিাস,বাংলামাসরে নামকরণ

702

লজিা কামরুন নাহার: বশিাখা নক্ষত্র যে মাসে র্সূযাস্তরে পর প্রথম র্পূব দকিে উদতি হয় সইে মাসটরি নাম বশৈাখ যা আমাদরে শুভ নবর্বসরের্ সচনা কর।ে এ মাস থকেইে নতুন বছর গণনা শুর হয়। বশিাখার অন্য ভারতীয় নাম যায়্য কীলক, পাশ্চত্য নাম জুবনেল জনেুব।ি পহলো বশৈাখ বাংলা পঞ্জকিা অনুসারে প্রথম মাসরে প্রথম দনি-শুভ নবর্বষ যাকে আমরা আহ্বান করি গীত-িনৃত্য,ে পদ্য-েগদ্য,ে মঙ্গলহারে বশেভূষায়;হালখাতায় এবং নীরব।ে এ দনিটি বাঙ্গালি জাতরি একটি পবত্রি ও আন্দময় জাতীয় সামাজকি উৎসব। এ দনিটি কোনো গোষ্ঠীর অনুষ্ঠান নয়- হন্দিু মুসলমি, বৌদ্ধ,খ্রষ্টিান সকলরে প্রাণরে উৎসব। এদনিে সকালে আমরা একে অপরকে শুভনবর্বষ বলে অলঙ্গিন কর।ি এ দনিটরি বাংলাদশে, ভারতরে পশ্চমিবঙ্গ ও পৃথবিীর বভিন্নি দশেে বসবাসকারী বাঙ্গালরিা বশিষে উৎসব হসিবেে পালন করে আসছে এবং তারা বভিন্নি আনন্দ
উৎসবরে মধ্য দয়িে এই দনিটকিে বরণ করে নয়ে। এটি বাঙ্গালদিরে কাছে মূলত একটি র্সাবজনীন জাতীয় উৎসব। এ দনিটি পালনরে মুখ্য বষিয় সকল দুঃখ- কষ্ট ভুলে গয়িে নতুনভাবে বছররে প্রথম দনিে সকররে সাথে সৌর্হাদ্য ভাব গড়ে তোলা এবং সারাটা বছর সুখ ও সমৃদ্ধরি মধ্যে বসবাস করা।

বাংলা র্বষপঞ্জি
গ্রগেরয়ি র্বষপঞ্জি অনুসারে বাংলাদশেে ১৪ এপ্রলি এবং ভারতে ১৫ এপ্রলি পহলো বশৈাখ উদ্যাপন করা হয়। র্সূযােদয়রে সাথে সাথইে শুরু হয় বাঙ্গালরি পহলো বশৈাখ উৎসব। বাংলা দনিপঞ্জরি সাথে হজিরি ও খ্রষ্টিয়ি সালরে সাথে কছিুটা মৌলকি র্পাথক্য রয়ছে।ে প্রচলতি হজিরি সালরে নতুন তারখি শুরু হয় সন্ধায় নতুন চাঁদরে আগমন,ে ইংরজেি দনি শুরু হয় মধ্যরাত,ে আর বাংলা সাল শুরু হয় ভোরে বা র্সূযােদয়রে সাথে সাথ।ে

পহলো বশৈাখরে ইতহিাস
প্রাচীন বাংলার রাজা শশাঙ্ক (৫৯০-৬২৫) খ্রস্টিাব্দ গ্রগেরেয়ি পঞ্জকিা অনুসারে ১৪ এপ্রলি থকেে বাংলার গণনা শুরু করছেলিনে। সংস্কৃতরি অবচ্ছিদ্যে অংশ হসিবেে এ সময় থকেইে আসাম, ত্রপিুরা, বঙ্গ, করোলা, মণপিুর, নপোল, উড়ষ্যিা, পাঞ্জাব, তামলিানাড়–তে নবর্বষ উদযাপতি হত। কন্তিু র্সাবজনীন উৎসব হসিবেে নয়। তখন নবর্বষ ঋতুর্ধমী উৎসব হসিবেে পালন করা হতো। এ উৎসবরে মূল বষিয় ছলি কৃষি কাজকে প্রাধান্য দয়ো। কনেনা এ সময় সমাজ-র্অথনীতি কৃষি কাজরে উপর অধকিাংশ নর্ভিরশীল ছলি।
খাজনা আদায়রে সুষ্ঠুতা আনা ও প্রজাদরে অনুরোধ রক্ষার জন্য মুঘল সম্রাট আকবর বখ্যিাত রাজা জ্যোতর্বিদি আমীর ফতহেউল্লাহ সরিাজীকে বাংলা সালরে সংস্কার আনার জন্য নর্দিশে দনে। তনিি সইে নর্দিশে অনুসারে হন্দিু সৌর ও হজিরি পঞ্জকিা বশ্লিষেণ করে নুতন বাংলা সালরে নয়িম নর্ধিারণ করনে। ১৫৮৪ খ্রষ্টিাব্দরে ১০ র্মাচ বা ১১ র্মাচ থকেে বাংলা সাল গণনা শুরু হয় এবং সম্রাট আকবররে সংিহাসন আরোহণরে সময় (৫ নভম্বের ১৫৫৬) থকেইে নতুন পঞ্জকিা অনুসারে সাল গণনা পদ্ধতি র্কাযকর করা হয়। প্রথমে এ সালরে নাম রাখা হয়ছেলি ফসলি সাল, পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলার্বষ নামে পরচিতিি লাভ কর।ে এর পর থকেইে চত্রৈ মাসরে শষে দনিে (সংক্রান্ত)ি জমদিারি সরেস্তোয় প্রজাদরে কাছ থকেে কৃষি ও রাজস্ব কর বা খাজনা আদায় করা হতো। এ সময় প্রত্যকে চত্রৈ মাসরে শষে দনিরে মধ্যে সকল খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরশিোধ করতে হতো। এর পররে দনি, র্অথাৎ পহলো বশৈাখ ভূমরি মালকিরা, নজিদেরে অঞ্চলরে প্রজা বা অধবিাসীদরে মষ্টিান্ন দয়িে আপ্যায়ন করতনে। এ উপলক্ষে বভিন্নি অনুষ্ঠানরে আয়োজন করা হতো। এ সময় থকেইে হালখাতা উৎসবরে প্রচলন হয়। এ দনিে মহাজনরা পুরানো দনো-পাওনার হসিাব বন্ধ করে নতুন হসিাবরে খাতার সূচনা করতনে যার প্রচলন আজও আছ।ে মূলত এ ধরনরে উৎসবরে মাধ্যমে দনোদার ও পাওনাদাররে মধ্যে একটি গভীর সর্ম্পকরে সূচনা হতো।
আধুনকি নবর্বষ উদযাপন শুরু হয় ১৯৭১ খ্রষ্টিাব্দ থকে।ে প্রথম বশ্বিযুদ্ধরে ব্রটিশিদরে বজিয় কামনা করে সে বছর পহলো বশৈাখে হোম র্কীতন ও পূজার ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৩৮ সালওে অনুরূপ র্কমকান্ডরে উল্লখে পাওয়া যায়। তবে ১৯৬৭ খ্রষ্টিাব্দরে র্পূব র্পযন্ত পহলো বশৈাখ পালনরে রীতি তমেন একটা জনপ্রয়ি হয়ন।ি
বাংলামাসরে নামকরণ
সম্রাট আকবররে আমলে র্ফাসি মাসরে অনুকরণে বাংলা মাসরে নাম ছরি যথাক্রমে কারওয়াদনি (কধৎধিফরহ), র্আদি (অৎফর), খোরদাদ (কযড়ৎফধফ), তীর (ঞববৎ),আমারদাদ (অসধৎফধফ), শাহরয়িার (ঝযধযৎরধৎ), ভহিসিু (ঠরযরংঁ), আবান (অনধহ),
আজার (অুঁৎ), দে (উধর), বাহাম (ইধযধস) ও ইসকান্দার মজি (ওংশধহফবৎ গরু) । এ পঞ্জকিার প্রথম নাম ছলি তারখি- ই- ইলাহি (ঞধৎরশয-ব-ঊষধযর) । পরর্বতীকালে নানা ঘটনাক্রমে মাসরে নামগুলো বভিন্নি নাম করা হয়ছেে নক্ষত্রমগুলো চন্দ্ররে আর্বতনে বশিষে তারার অবস্থানরে উপরি ভত্তিি করে যা জ্যোতবিজ্ঞিান বষিয়ক প্রাচীন গ্রন্থ র্সূযাসদ্ধিান্ত (ঝঁৎুধ ঝরফফযধহঃধ)থকেে গৃহতি হয়ছে।ে বশিাখা নক্ষত্ররে নাম থকেে “বশৈাখ” এর উৎপত্ত।ি
বাংলাদশেে নবর্বষ পালন
মুঘল র্পূবর্বতী আমলে এ দশেে নবর্বষ পালনরে রীতি ছলিনা। অন্যান্য দশেরে মত আমাদরে দশেরে সকল অঞ্চলে নবর্বষ বা পহলো বশৈাখ পালনরে রীত-িনীতি প্রায় একই রকমরে এবং জাতীয়ভাবে পালন করা হয়।

বাংলাদশেরে গ্রামরে মানুষরে সাথে নবর্বষরে কৃষ্টি ও সংস্কৃতরি সাথে নবিড়ি সর্ম্পক বদ্যিমান। ভোরে ঘুম থকেে উঠে øান সরেে নতুন জামা-কাপড় পরে এবং নবর্বষরে শুভচ্ছো বনিমিয়রে জন্য আত্মীয় স্বজনদরে বাড়ীতে বড়োতে যায় এবং ছোটরা বয়জ্যষ্ঠেদরে সালাম বা প্রণাম কর।ে
এ ছাড়া ও নবর্বষ উপলক্ষে চত্রৈরে শষে দনিে বাড়ঘির পরস্কিার-পরচ্ছিন্ন করে সুন্দরভাবে সাজানো হয়। প্রতটিি পারবিারকি র্পযায়ে সকালে ও বকিালে বশিষে বশিষে খাবাররে আয়োজন করা হয়। র্আথ-সামাজকি দকি থকেে স্বচ্ছল পরবিারগুলো সকালে পান্তা ইলশিরে আয়োজন করে থাকনে। বকিাল বলোয় খলোর মাঠে আয়োজন করা হয় বশৈাখী মলোর। মলোতে স্থান পায় বভিন্নি ধরনরে কুটরি শল্পিজাত দ্রব্য, নানা রকমরে পঠিা ও পুল।ি শশিুদরে জন্য থাকে বশিষে খলোন জাতীয় দ্রব্যরে সমারোহ। এছাড়াও নৌকা বাইচ, লাঠি খলো কম্বিা কুস্তি খলোর আয়োজন এখনো বাংলার গ্রামীণ কৃষ্টকিে ধারণ ও বহন করে চলছ।ে এছাড়াও পহলো বশৈাখরে সাথে আমাদরে অনকে পুরনো সংস্কৃতি জড়য়িে আছ।ে এক সময় গ্রামে গ্রামে অনুষ্ঠতি হতো যাত্রাগান, পালা গান, কবগিান, গাজীর গান, পুতুল নাচ, বাউল-র্মুশদি,ি ভাটয়িালি গান, র্বণনামূলক নাটক- লাইলি মজনু, রাধা-কৃষ্ণ, ইউসুফ-জলখো ইত্যাদি যা এখন আর চোখে পড়নো। এক সময় ঢাকায় ঘুড়ি উড্ডয়ন, মুন্সগিঞ্জে ষাঢ়রে দৌড়, গ্রাম-েগঞ্জে ঘোড়ার দৌড়, মোরগরে লড়াই প্রতযিোগতিার প্রচলন ছলি যা এখন নইে বললইে চল।ে র্বতমানে এগুলো বলিুপ্তি সংস্কৃতি হসিবেে ববিচেতি। তবে এখনো পহলো বশৈাখে চট্টগ্রামে বলি খলো ও রাজশাহীতে গম্ভীরা বশে আড়ম্বররে সাথে পালন করা হয়।
বাংলাদশেরে রাজধানী ঢাকা শহরে পহলো বশৈাখ উদ্যাপন শুরু হয় রমনার বটতমূলে মুক্ত চন্তিার সংগঠন ছায়ানটরে-‘ এসো হে বশৈাখ এসো’ গানরে মাধ্যম।ে এ গানটি পরবিশেনরে মধ্য দয়িে নতুন বছররে র্সূযকে আহ্বান করা হয়। ১৯৬০ দশকে পাকস্তিানি শাসক গোষ্ঠীর নপিীড়ন ও সংস্কৃতি র্চচা বন্ধরে প্রতবিাদে ১৯৬৭ সাল থকেে
ছায়ানটরে এই র্বষবরণ অনুষ্ঠান করা হয়। ১৯৮৯ সাল থকেে ঢাকা বশ্বিবদ্যিালয়রে চারুকলা ইনস্টটিউিটরে ছাত্রছাত্রীরা বরে করে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এ শোভাযাত্রার স্থান পায় বাংলার পশুপাখি আর অন্যান্য বচিত্রি চহোরার মুখোশ যা বশৈাখ উদ্যাপনকে আরো অধকি আর্কষণীয় ও মোহনীয় করে তোল।ে এ শোভাযাত্রায় হাজার হাজার বভিন্নি শ্রণেীপশোর মানুষ অংশ নয়ে। বশিাল এলাকা জুড়ে শশিু-কশিোর, তরুণ-তরুণী ও বয়স্কদরে পদাচরণে মুখরতি হয়ে উঠে রাজপথ। হাতে বলেুন, বাউলরে একতারা, ছোট ডুগডুগি নয়িে ঢাকরে বাদ্যরে তালে তালে নচেে নচেে আনন্দ উল্লাসে ফটেে পড়ে নব বশৈাখ।ে মূলত এ শোভাযাত্রার মাধ্যমে গ্রামীণ জীবন এবং আবহমান বাংলাকে ফুটয়িে তোলা হয়। এ শোভা যাত্রার জন্য তরৈী করা হয় রঙ- বরেঙরে বভিন্নি আকৃতরি মুখোশ ও বভিন্নি প্রাণীর প্রতলিপি।ি এ ছাড়াও সকল বভিাগীয় ও জলো শহরে পহলো বশৈাখ উদ্যাপনরে আয়োজন করা হয়। ১৯৮৩ সালে শুরু হয় পান্তা- ইলশিরে প্রচলন যা র্বতমানে অত্যন্ত জনপ্রয়ি। বশৈাখরে পান্তা- ইলশিরে সংস্কৃতি হসিবেে পরচিতি লাভ করছেে এবং এর শকিড়রে ব¯িতৃতি লাভ করছেে শহর ছড়েে গ্রামওে।

সম্প্রদায়গত দকি থকেওে বাংলাদশেরে বভিন্নি এলাকায় বভিন্নি ধরনরে অনুষ্ঠানরে আয়োজন করা হয়। হন্দিু, বৌদ্ধ, চাকমা, র্মামা সম্প্রদায় জাতীয়ভাবে এ দনিটি পালনরে পরও বভিন্নি ধরনরে র্ধমীয় অনুষ্ঠান, নয়িমনীতি পালন করে থাক।ে ত্রপিুরাদরে বসৈুক, বসৈু বা বাইসু, মারমাদরে সাংগ্রাই এবং চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদরে বজিু উৎসব অন্যতম। র্বতমানে এ তনিটি জাতসিত্তা যৌথভাবে এ উৎসবটি পালন করে থাকে যা বসৈাবরে নামে পরচিতি। বসৈাবি সৃষ্টি হয়ছেে প্রতটিি অনুষ্ঠানরে প্রথম অক্ষর দয়ি।ে
র্বতমান প্রজন্ম আজ বাংরা সংস্কৃতি ও কৃষ্টকিে পরর্বিতনরে ধারায় আধুনকিতার ছাপ দয়িছেে । আজ থকেে বশে কছিু দনি আগওে আমরা নবর্বষকে অন্যভাবে উদ্যাপন করতাম। খবু সকালে ঘুম থকেে উঠইে প্রতটিি ব্যবসায়ি প্রতষ্ঠিানে হালখাতা নামে অনুষ্ঠান উদ্যাপনে মষ্টিি খাওয়ার জন্য প্রতযিোগতিায় লপ্তি হতাম। সখোনে কোন চক্ষু লজ্জার বষিয়টি থাকত না, থাকতো হৃদয়রে স্পন্দন। আজ সময়রে পরর্বিতনে তা আজ আর দখো যায়না, এখন সংস্কৃতি নতুন অবয়বে সজ্জতি। যাই হোক পহলো বশৈাখরে শকিড় ছড়য়িে আছে আমাদরে হৃদয়,ে আমাদরে প্রতটিি রন্ধ।ে এ দনিে আমরা আমাদরে জাতীয় জীবনে মঙ্গলময়তাকে আহবান ও প্রতষ্ঠিা কর,ি প্রকৃততিে যা সুন্দর বরণ করে নইে উজ্জ্বল ভবষ্যিৎ সৃষ্টরি লক্ষ্য।ে #