বন্দরের শান্তি নগরের কোটিপতি আলেক হোসেনের কথা

1922

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: বন্দরের শান্তি নগর এলাকায় কোটি পতি নামেই যাকে সকলে চেনেন তার নাম আলেক হোসেন। 20994391_1350933141621981_5903595956386373632_nগ্রামবাসি তাকে কোটি পতি উপাদি দিয়েছে তার মনটা নাকি অনেক বড়। এক সময়ে সে রিক্সা চালানোর কাজ সহ সব ধরনের কাজ করে এক পর্যায় গরুর খামার করে ভালই উন্নত করেছিল। তার খামারে ভাল জাতের বেশ দামি দামি গরু তৈরী করেছিলেন। যার মূল্য প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি ছিল। কিন্তু পরে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে একে একে তার গুরুগুলো মরতে থাকে। সেই বিপর্যয়ের কারনে সর্বশান্ত হয়ে যায় কোটি পতি নামে খেতাবধারী আলেক হোসেন। এখনও কোটিপতি আলেক হোসেন তার মনবল হারাননি। তিনি হাল না ছেড়ে নতুন করে গরুর ঘামারের স্বপ্নে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে চারটি গরু নিয়ে চলছে কোটিপতির খামার। তিনি দেশীয় পদ্ধতিতে এ বারের ঈদেও জন্য দুইটি গরু তৈরী করেছে। তিনি আশাবাদি একদিন সে বড় খামরী হয়ে উঠবেন। কার সে নিজে পরিশ্রম করতে জানে এবং খামারের গরুগুলোকে নিজের চেয়েও বেশী যতœনিয়ে লালনপালন করতে পারে। তার প্রবল ইচ্ছে আছে ধীরে ধীরে একটি বড় খামার গড়ে তুলার।

গত সাপ্তায় বন্দরের শান্তি নগর এলাকায় দেশীয় গরুর খামারে কোরবানির গরু কেনার জন্য কয়েকজন ক্রেতা সেখানে যায়। তাদের সাথে ছিল নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোরের এই প্রতিবেদক। তখন এলাকাবাসির মুখে মুখে শুনা যায় কোটিপতির খামারের কথা। এ কোটিপতির ব্যাপারে কৌতুহল হলে তার খামারে গিয়ে কথা হয় কোটিপতি আলেক হোসেনের সাথে। আলেক হোসেন একজন সাধারন মানুষ। সাদামাঠা জীবনযাপন করেন আলেক হোসেন। সে অত্যন্ত প্ররিশ্রমী একজন মানুষ।
কোটিপতি (আলেক হোসেন) জানান, তার স্বপ্ন একটি বড় গরুর খামার করা। ২০১৪ সালে সে শান্তিনগর এলাকায় তার নিজ বাড়িতে তীলে তীলে একটি গরুর খামার গড়েতুলে। আল্লাহর রহমতে দিনে দিনে তার খামারে গরুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। তখন তার খামারের বেশ উন্নত দেখে এবং তার বড় মানুষিকতার কারনে এলাকাবাসি তাকে কোটিপতি উপাধিতে ডাকা শুরু করে। সেই থেকেই গ্রামের মানুষের মুখে মুখে আলেক হোসেনকে কোটিপতি উপাধি ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মাঝে। এখন শান্তি নগর এলাকায় এক নামেই (কোটিপতি) নামে সকলে তাকে চিনেন।
আলেক হোসেন জানিয়েছে, এবারের ঈদে তার একটি ষাড় ও একটি গাভী গরুর বিক্রির উপযোগি হয়েছে। সে তার ষাড় গরুটি দাম হাকিয়েছে এক লাখ চল্লিশ হাজার। তিনি জানান, তার খামারে মোট চারটি গরু আছে। আর্থিক সংকটের কারনে তিনি গরুর সংখ্যা বাড়াতে পারেননি। তার স্বপ্ন একটি বড় গরুরর খামারের। তিনি জানান, তার খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে প্রতিটি গরু লালন পালন করা হয়েছে। এবং তার ষাড় গরুটি কোনরকম মোটাতাজা করনের জন্য কোনরকম প্রক্রিয়ার সাহায্য নেয়নি। প্রাকৃতিক নিয়মেই সাভাবিক খাদ্য দিয়ে তার গরুগুলো বেড়ে উঠেছে। একেবারে নির্ভেজাল মানের গরু তেরী করেছে। কিন্তু এখন দেখা যায় কোরবানীর গরুর হাটে ইনজেকশন পুশ করে মোটাতাজাকরন গুরুর সংখ্যা বেশী। যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুকি। এ কারনে তিনি দেশী খামারী পদ্ধতিতে গরু পালন করে বাজারজাত করার জন্য ব্যাপারে বিশ^াসি। এতে করে এ গরুর মাংস খেলে স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে পড়ে না।

কোটিপতি (আলেক হোসেন) আরো জানান, তাকে গ্রামের মানুষ কোটিপতি বলে ডাকে এতে সে গর্ববোধ করে না, কারন সে প্রকৃতভাবে অসৎ উপায়ে কোটিপতি হতে চায় না। সে একটি গরু খামারের স্বপ্ন দেখে। সেখানে ভাল জাতের নানা রকম গরু থাকবে। ####