ফতুল্লায় দেয়াল ধসে একই পরিবারের তিন বোন সহ ৪ জন নিহত: আহত ২

26

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটককম: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পাগলা শান্তি নিবাস এলাকায় সোমবার সকালে একটি পুরনো বাড়ি ভাঙ্গার সময় দেয়াল ধসে একই পরিবারের তিন শিশু সহ চারজন নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় দুইজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন-তিন বোন বার বছর বয়সী লামিয়া, আট বছর বয়সী লাবনী, তিন বছরের বয়সী লীমা এবং ত্রিশ বছরের বয়সী শ্রমিক মোস্তফা। আহত দুইজন শ্রমিক সাদেক ও ইউসুফকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নিহত লামিয়া স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী বলে তার পিতা সাইফুল ইসলাম জানিয়েছে। তারা এখানে জসীমউদ্দিনের কলোনীতে ভাড়া থাকতো। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী। সাইফুল ইসলাম পেশায় একজন ট্রাক হেলপার।

নিহত তিন শিশুর মা মাসুমা বেগম জানান, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের ফতুল্লা থানার পাগলা শান্তিনিবাস এলাকার চান মিয়ার বাড়ি নুতনভাবে নির্মান করার জন্য শ্রমিকরা পুরাতন অংশটি ভাঙ্গার কাজ করছিল। এসময় পাশের কলোনীর বাসিন্দা তার তিন মেয়ে খেলছিলো। আকস্মিকভাবে বাড়ির দেয়াল ভেঙ্গে পড়লে ঘটনাস্থলেই তিন শিশু মারা যায়। আহত অবস্থায় তিন শ্রমিককে এলাকাবাসি উদ্ধারকরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানোর পর মোস্তফা মারা যায়।

কলোনীর মালিক ও পাগলা বাজার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন জানান, দেয়াল ভাঙ্গার ব্যাপারে বাড়ির মালিক চাঁন মিয়াকে বহুবার সতর্ক করা হয়েছিল যেন খোলা অবস্থায় কাজ করা না হয়। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তাকে বারবার বলা হয়েছিল যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। ব্যারিকেড দিয়ে যেন কাজ করা হয়। কিন্তু তিনি এলাকাবাসীর বাধা শোনেননি। এলাকাবাসী এই দূর্ঘটনার জন্য বাড়ির মালিক চাঁন মিয়া ও ঠিকাদান ঈসমাঈল হোসেনকে দায়ী করে তাদেরকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।

ফতুল্লা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, দূর্ঘটনার পর থেকে বাড়ির মালিক চাঁন মিয়া এবং ঠিকাদার ইসমাইল হোসেন পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। দূর্ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত চলছে। কারো গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিহত চারজনের লাশ ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। #