প্রধানমন্ত্রী’র উদ্বোধন অনুষ্ঠান বন্ধ করতে মুন্না,বিন্নির বিরোধিতায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি

2975

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:  নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নগর ভবনসহ সাত প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন অনুষ্ঠান বন্ধ করতে ১৫ জন কাউন্সিলরের স্বাক্ষর নিয়ে কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না ও মহিলা কাউন্সিলর শারমিন হাবিব বিন্নি বিরোধিতা নিয়ে অন্যান্য কাউন্সিলরদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য কাউন্সিলরদের মধ্যে আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল একজন কাউন্সিলর হয়ে কি প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি রক্ষার উপদেশ দিয়ে উদ্বোধন অনুষ্ঠান বন্ধের জন্য আবেদন করতে পারে মুন্না ও বিন্নি। সরকারের প্রধান যেখানে নিজেই এ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করার সম্মতি দিয়েছে সেখানে এ কাউন্সিলররা এর বিরোধিতা করার নৈতিকতা আছে কতটুকু।
কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না ও শারমিন হাবিব বিন্নি কার নির্দেশে এবং কাদের স্বার্থ রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী  ও মেয়র আইভীর বিরোধিতার করে উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠান বন্ধ করতে তাদের স্বাক্ষরিত একটি আবেদন সাংবাদিকদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরদের মধ্যে তুলপাড় শুরু হয়েছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী’র সম্মতিতেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনসহ সাতটি প্রকল্প উদ্বোধন হলো, সেখানে কার স্বার্থ রক্ষা করতে কামরুল হাসান মুন্না এসব প্রকল্প উদ্বোধন বন্ধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। ২৫ ফেব্রুয়ারী নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পরে কামরুল হাসান মুন্না সাংবাদিকদের হাতে ১৫ জন কাউন্সিলরদের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র তুলে দেন। সেসময় উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষও হয়ে গেছে, সেখানে কেনইবা এমন একটি আবেদনে প্রধানমন্ত্রী ও মেয়রকে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বন্ধ করতে আবারো অনুরোধ জাননা হলো উল্লেক করেছিল। তার মানে মুন্না এ কাউন্সিলরদের পুজি করে এর আগে আর কোথায় কোথায় এ অভিযোগ পত্র পাঠিয়েছিল। এসব প্রশ্নই ছিল সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য কাউন্সিলরদের আলোচনায় বিষয়। সেই অভিযোগ পত্রে ১৬ জন কাউন্সিলরের নাম লেখা ছিল। এর মধ্যে ১৫জন কাউন্সিরর নামের নিচে স্বাক্ষর করেছে। আর একজন মহিলা কাউন্সিলর খোদেজা খানম নাসরিনের স্বাক্ষর বাকি ছিল এ অভিযোগ পত্রটিতে। এ ব্যাপারে এ কাউন্সিলরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান প্রথমে স্বাক্ষর নেওয়ার সময় কাউন্সিলর খোদেজা খানম নাসরিনকে জানানো হয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যে কাউন্সিলররা উপস্থিথ থাকবেন তাদের স্বাক্ষর নেয়া হচ্ছে। পরে ওটি’র প্রথম পাতা পড়ে দেখে প্রধানমন্ত্রী’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বন্ধের আবেদন জানানো হয়েছে সেখানে। এর পর আর আমি স্বাক্ষর করিনি। অপর দিকে যে ১৫ জন কাউন্সিলর এ পেপারে স্বাক্ষর করেছে তাদের কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারি একই কৌশলে তাদের কাছ থেকেও স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে।
এসব বিষয়ে কাউন্সিলরদের পাশাপাশি নগরবাসির মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর ১৮ নং ওয়ার্ড কামরুল হাসান মুন্নার এলাকার বাসিন্দা দেলোয়র হোসেন, জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যেখানে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের সম্মতি জানিয়েছেন সেখানে মেয়রের পাশাপাশি সবল কাউন্সিলরদের খুশি হওয়ার কথা। আর কামরুল হাসান মুন্না আওয়ামীলীগের জনপ্রিয় প্রয়াত নেতা সাইদুল হাসান বাপ্পির ছোট ভাই। কাউন্সিলর মুন্না নিজেও শ্রমিকলীগের রাজনীতিতে            সম্পৃক্ত। সেখানে কাউন্সিলর মুন্না প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করার দু’সাহস দেখালেন কি করে। কোন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী যাবেন কোন অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন সেটা খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা’র রিপোর্ট সহ একাধিক সংস্থা অনুসন্ধান করে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করার পর চূরান্ত করা হয়। এ ক্ষেত্রে মুন্না প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি রক্ষার দায়িত্ব পেলো কবে। তাহলেত দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীর থেকেও কাউন্সিলর মুন্নার দায়িত্ব অনেক বেশী। কারন একজন কাউন্সিলর হয়েও তিনি প্রধান মন্ত্রীর ভামমূর্তি রক্ষার দায়িত্বের নামের নিজের প্রতিষ্ঠান সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নের প্রকল্পের উদ্বোধনের বিরোধিতা করা কতটুকু যুক্তিসংগত। মুন্নার এসব কর্মকান্ডে তার এলাকার ভোটাররা আগামী নির্বাচনে নানা রকম হিসেব নিকেস শুরু করেছে।
অপর দিকে মহিলা কাউন্সিলর শারমিন হাবিব বিন্নি স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রটিতে এক নাম্বারে তার স্বাক্ষর করা নাম রয়েছে। এ বিষয়ে কয়েকজন কাউন্সিলর অভিযোগ করে জানিয়েছেন, কাউন্সিলর মুন্না এবং শারমিন হাবিব বিন্নিই নানা কারন, দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছেন এবং অন্যান্য কাউন্সিলরদের ভুলবুঝিয়ে এমন একটি অভিযোগ পত্রে স্বাক্ষর করার জন্য উৎসাহিত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বন্ধ করতে কাউন্সিল কামরুল হাসান মুন্না ও কাউন্সিল শারমিন হাবিব বিন্নির বিরোধিতা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরদের মধ্যে ক্ষেভের সৃষ্টি হয়েছে।
একজন বিএনপির ঘরনার কাউন্সিলর উদ্বোধনের অনুষ্ঠানের দিন মুন্নার হাতে এমন একটি অভিযোগ পত্র দেখে মুন্নাকে প্রশ্ন করেছিলেন আপনারা (কামরুল হাসান মুন্না) যদি আওয়ামীলীগের ঘরনার হয়েও প্রধানমন্ত্রীর বিরোধিতা করেন, এমন বিরোধিতা তো বিএনপির কাউন্সিলরদের মানায়। আপনাদের মানায় না। তখন কামরুল হাসান মুন্না মাথা নিচু করে চুপ করে ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বন্ধের জন স্বাক্ষরিত অভিযোগ পত্রের বিষয়ে জানতে কামরুল হাসান মুন্না গ্রামিন মোবাইল সেটে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি। ##