পুলিশের কর্মকর্তার কাছে ঘুষ দাবী ॥ ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

309

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জের এক নায়েকসহ ৪ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।  পুলিশ বলছে, নির্দেশনা ছিলো চেক পোষ্টে দায়িত্বরত পুলিশ একসাথে অবস্থান করে ডিউটি করবে। কিন্তু সাতজনের গ্রুপের চারজন-ই চেকপোষ্ট ছেড়ে বেশ কিছুটা দূরে গিয়ে চা পান করছিলো। এ কারনে তাদের প্রত্যাহার করা হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চেক পোষ্টে তল্লাশীর এক পর্যায়ে তারা ঘুষ দাবী করে সাদা পোশাকে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে। সোমবার রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সময় নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মহিদুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত গাড়িতেই সাদা পোশাকে ছিলেন। ওই সময় তিনি ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ ফিরছিলেন বলে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছেন। তবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ওই ঘটনা অস্বীকার করে বলা হয়, ওই ৪ পুলিশ সদস্য পুলিশ সদস্যকে দায়িত্বে অবহেলার জন্য প্রত্যাহার করে সেখানে অন্য ৪ পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের মধ্যে তোলপাড় চলছে। প্রত্যাহার করে নেওয়া ৪ পুলিশ সদস্য জেলা পুলিশ লাইনসে রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন চেক পোস্টে সাধারণ মানুষকে হয়রানীর ঘটনা নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডে সাইন বোর্ড এবং শহরের হাজীগঞ্জ চেক পোস্টে সন্ধ্যার পর রিকশা এবং সিএনজি যাত্রীরা চেক পোস্টে থাকা পুলিশ সদস্যদের টার্গেটে থাকেন। ওই সময় স্ত্রী বা বোন নিয়ে রিকশা বা সিএনজিতে থাকা যাত্রীরা পুলিশের নানা তির্যক মন্তব্যের স্বীকার হন বলে অহরহ অভিযোগ পাওয়া যায়। কোন কোন ক্ষেত্রে হয়রানী থেকে বাঁচতে চেক পোস্টের পুলিশ সদস্যদের ঘুষ দিয়ে বাঁচেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সোমবার রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় পুলিশ চেক পোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন জেলা পুলিশ লাইনসের নায়েক শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে কনসটেবল রাসেল, পলাশ ও রহমত। রাত সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মহিদুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ে নারায়ণগঞ্জ আসছিলেন। ওই সময় পুলিশ চেক পোস্টে তাকে বহনকারী গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশী করা হয়। এক পর্যায়ে গাড়ির কাগজপত্র চাওয়া হলে চালক কাগজপত্র দেখান। কাগজপত্র ঠিক থাকলেও তাতে সন্তুষ্ট না থেকে পুলিশ সদস্যরা ঘুষ আদায়ের জন্য সাদা পোশাকে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে আকার ইঙ্গিতে ঘুষ চেয়ে বসে। ওই সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তার নিজের পরিচয় দেন। রাতেই ঘটনা তার বার্তায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন থানায় ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। কর্তব্যরত ওই ৪ জনকে রাতেই পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
যোগাযোগ করে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মহিদুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাতে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান চেক পোস্টে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা চেক পোস্টে না থেকে পাশের দোকানে চা খেতে গিয়েছিল। তাই তাদের প্রত্যাহার করে সেখানে নতুন লোক দেওয়া হয়েছে।#