পাগলা ইসলামিয়া বাজার সমিতির কমিটি গঠন নিয়ে ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগ

193

নারায়নগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: ভূয়া নির্বাচনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলা ইসলামিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারিরা বলছেন, সমিতির মোট সদস্য সংখ্যা ৩০২ হলেও নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৩২৪। নির্বাচনী সাধারন সভায় ১১৬ জনকে উপস্থিত দেখানো হলেও বেশিরভাগের সাক্ষর জাল করে উপস্থিতির সাক্ষর তালিকা তৈরী করা হয়েছে। এমনকি মৃত ব্যাক্তিকেও নির্বাচনী সাধারন সভায় উপস্থিত দেখানো হয়েছে। সমিতির সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাত ও সমিতির তিনতলা ভবন দখলে রেখে ভাড়া আত্মসাত করার জন্য একটি চক্র এ কমিটি তৈরী করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা সমবায় অফিসার মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কোন প্রকার যাচাই বাছাই ছাড়াই পাতানো নির্বাচনের মনোনয়ন পত্রে সাক্ষর করেন।
পাগলা ইসলামিয়া বাজার (বউ বাজার) ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক আব্দুল খালেক জানান, গত ২৮ এপ্রিল সমিতির কোন সদস্যকে না জানিয়ে একটি পাতানো নির্বাচন কাগজপত্রে দেখানো হয়। এ নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের সমিতির সভাপতি মীর হোসেন মীরু, সাধারন সম্পাদক দিদার হোসেন মনিরসহ বারোজন নির্বাচিত হয়েছে বলে আকস্মিকভাবে জানতে পারি। গত ১১ জুলাই সাক্ষর ছাড়া একটি চিঠির মাধ্যমে সদস্যদের জানানো হয় যে ১৫ জুলাই নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান। তাৎক্ষনিকভাবে এ অবৈধ কমিটির বিরুদ্ধে ১৩ জুলাই জেলা সমবায় অফিসারের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়।
তিনি বলেন, যে নির্বাচন দেখানো হয়েছে সেটি যে পাতানো তার অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। সমবায় সমিতির আইন অনুযায়ী যেসব সমিতির শেয়ারের মূল্য পঞ্চাশ হাজার টাকার বেশি তাদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে জেলা সমবায় অফিসার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নিয়োগ করবেন। কিন্তুপাগলা ইসলামিয়া বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির শেয়ারের মুল্য পচাত্তর হাজার টাকা হলেও কথিত নির্বাচনের ক্ষেত্রে জেলা সমবায় অফিসার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নিয়োগ করেননি। আমি সমিতির সাধারন সম্পাদক। নির্বাচনে ভোট গ্রহনের নোটিশ আমার সাক্ষর জাল করে তৈরী করা হয়েছে। এ নোটিশ আবার কোন সদস্যকে দেয়া হয়নি। খসড়া ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়নি। আমাদের সমিতির সদস্য ৩০২ জন অথচ ভোটার দেখানো হয়েছে ৩২৪জন। নির্বাচনী সাধারন সভায় উপস্থিতদের যে তালিকা তৈরী করা হয়েছে তার প্রায় সব সাক্ষরই জাল। সাধারন চোখেই বুঝা যায় একজনই এ তালিকার বেশিরভাগ সাক্ষর দিয়েছেন। এমনকি মৃত ব্যাক্তিকেও এ সভায় উপস্থিত হিসেবে দেখানো হয়েছে। সমিতির সদস্য আব্দুস সাত্তার নির্বাচনী সাধারন সভার পাঁচ বছর আগে মারা যান। তার সদস্য নং ২৩৩। সাধারন সভায় তার সাক্ষর দেখানো হয় ১০৩ নং সিরিয়ালে। আব্দুল কাইয়ুম নামের একজন দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় তার সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নেন। তার সদস্য নং ১৮৯। কিন্তু নির্বাচনী সাধারন সভায় তাকেও উপস্থিত দেখানো হয়। উপস্থিত তালিকার ৭৪ নং সিরিয়ালে তার সাক্ষর দেখানো হয়। নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির দুইজন সদস্য শাহ আলম ও জয়নাল আবেদীনের নির্বাচনী কাগজপত্রে যে সাক্ষর রয়েছে তার সাথে নির্বাচনী সাধারন সভায় উপস্থিতির তালিকায় তাদের সাক্ষরের মিল নেই। যিনি সমিতিতে আগে সদস্য হবেন তার সদস্য সিরিয়াল আগে হবে। যেমন সমিতির সদস্য মশিউর রহমান এর ভর্তির তারিখ ৬ মার্চ ২০১৫ , তার সদস্য নং ৩৬৬। কিন্তু মশিউর রহমানের চারদিন আগে সদস্য হয়েছেন বলে দেখানো হয়েছে কথিত নতুন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া সরকারকে। কিন্তু মশিউর রহমানের চারদিন আগে সদস্য হলেও মশিউর রহমানের চাইতে তার সিরিয়াল নাম্বার ১৮ পরে। তার সিরিয়াল নাম্বার ৩৮৪।
সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক আব্দুল খালেক ও সাধারন সদস্য শেখ মোহাম্মদ মহিবুর রহমান বলেন, জেলা সমবায় অফিসার মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কোন প্রকার যাচাই বাছাই ছাড়াই পাতানো নির্বাচনের মনোনয়ন পত্রে সাক্ষর করেন। এ নিয়ে সাধারন সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরী হয়। কিন্তু এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন অফিসারের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়েও কোন লাভ হয়নি। তিনি এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেননি। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে তারা স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন অধিদপ্তরের সচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান।
অভিযোগের ব্যাপারে জেলা সমবায় অফিসার মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,
আগের কমিটির ১২ জনের মধে ৭ জন বলছে যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া হয়নি। বাকিরা বলছে হয়েছে। তাদের সমিতির নির্বাচন তারা নিজরাই করতে পারে। তাদের শেয়ারের মুল্য পচাত্তর হাজার টাকা এটা ঠিক না। অডিটে দেখা গেছে তাদের শেয়ারের মুল্য ৫০ হাজার টাকার নিচে। আমরা বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে দেখেছি। অভিযোগের সত্যতা পাইনি। নিজস্ব গ্রুপিং এর কারনে তারা এসব অভিযোগ করছে। তিনি কোন ধরনের ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ অস্বিকার করেন।#