নূর হোসেনের ৮টি মামলা দায়িত্বে থাকাএডিশনাল পিপিকে বদলী

299

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালত থেকে একজন অভিজ্ঞ অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটরকে (এডিশনাল পিপি) তার আদালত থেকে অন্য আদালতে বদলী করা হয়েছে। তার দায়িত্বে ছিলো সাত খুনের মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা আটটি মামলা। নূর হোসেনকে সুবিধা দিতে তাকে বদলী করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকনের বিরুদ্ধে।
বদলী করা ওই অতিরিক্ত পিপি’র নাম অ্যাডভোকেট কেএম ফজলুর রহমান। তিনি নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে অতিরিক্ত পিপি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। ২০০৯ সালের আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর তিনি এ আদালতে অতিরিক্ত পিপি’র দায়িত্ব পান। গত ১২ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি এ আদালতেই কর্মরত ছিলেন। কিন্তু ১৩ এপ্রিল কোন সুনিদিষ্ট কারণ ছাড়াই তাকে নারায়ণগঞ্জের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বদলী করেন পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আইনজীবি জানান, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে ৭ খুন মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরো ৮টি মামলা বিচারাধীন। এছাড়া এই আদালতে ২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলায় ২০ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া ২টি মামলা ছাড়াও জেএমবি’র বেশ কিছু মামলা বিচারাধীন। এসব মামলার মধ্যে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে বিচারাধীন ৮টি মামলার ২টি, চাষাঢ়া আওয়ামীলীগ অফিসে বোমা হামলার মামলা এবং জেএমবির মামলাসহ গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো পরিচালনা করতেন কেএম ফজলুর রহমান।
তারা আরো জানান, ২০১৪ সালের নির্বাচনে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে কেএম ফজলুর রহমানসহ ৫ জন অতিরিক্ত পিপি দায়িত্ব পালন শুরু করেন। এর আগে এ আদালতে ফজলুর রহমানসহ ৪জন অতিরিক্ত পিপি ছিলেন। এদের মধ্যে কেএম ফজলুর রহমান সবার সিনিয়র। তিনি ৭ খুনের ঘটনার পর বাদি পক্ষের হয়ে নিয়মিত মামলা পরিচালনা করেছেন। বর্তমান সময়েও তিনি ৭ খুনের সাক্ষ্য গ্রহণে পিপিকে সহায়তা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই বিজ্ঞ এই সরকারী আইনজীবীকে অন্য আদালতে বদলী করায় সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে নূর হোসেনকে সহায়তা দিতেই কি তাকে সরিয়ে দেওয়া?
তারা জানান, এ আদালতে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে আটটি মামলা বিচারাধীন ছিলো। নূর হোসেনকে সুবিধা দিতে সিনিয়র সরকারী কৌশুলী কেএম ফজলুর রহমানকে পাশ কাটিয়ে এ আদালতে কর্মরত অপর অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট জাসমিন আহমেদকে নূর হোসেনের ৬টি মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেন পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন। সর্বশেষ কেএম ফজলুর রহমানকে এ আদালত থেকে সরিয়ে দেয়ার পর নূর হোসেনের ৮টি মামলাই পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয় অ্যাডভোকেট জাসমিন আহমেদকে।
ইতিপূর্বে পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকনের বিরুদ্ধে ৭ খুন মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনের সঙ্গে সখ্যতা এবং টাকার বিনিময়ে আসামীদের সুবিধা দেওয়া, সাক্ষীদের সঠিক ভাবে প্রস্তুত না করে আদালতে উপস্থাপন করার অভিযোগ করেন ৭ খুনের ঘটনায় প্রথম দায়ের করা মামলার বাদি সেলিনা ইসলাম বিউটি। আসামী পক্ষের সঙ্গে পিপি’র সখ্যতার অভিযোগ এবং তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে পিপি পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে অভিজ্ঞ অন্য কাউকে পিপি পদে নিয়োগের জন্য গত মাসে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছিলেন ৭ খুন মামলার বাদি সেলিনা ইসলাম বিউটি। জেলা প্রশাসক সেই আবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছেন ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।
জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট কেএম ফজলুর রহমান তাকে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বদলী করা হয়েছে স্বীকার করে বলেন, বদলীর আদেশে কোন কারণ উল্লেখ নেই। তবে আদেশে উল্লেখ রয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ প্রদান করা না পর্যন্ত বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের ফৌজদারী মামলার দায়িত্ব থেকে আমাকে প্রত্যাহার করে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ আদালত থেকে গত ৬ বছরে তার পরিচালিত বিভিন্ন মামলায় ৭০ আসামীর বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে, পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, এটি নিয়মিত বদলী। একই আদালতে তিনি অনেক দিন দায়িত্ব পালন করেছেন। পর্যায়ক্রমে ওই আদালতে যারা পুরনো তাদেরও অন্য আদালতে বদলী করা হবে। কেএম ফজলুর রহমান সিনিয়র বিধায় তাকে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়িত্ব পালন করতে বদলী করা হয়েছে। ওই আদালতটিও গুরুত্বপূর্ণ আদালত। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে নূর হোসেনের ৮টি মামলা বিচারাধীন থাকার পরেও কেন একজন অভিজ্ঞ অতিরিক্ত পিপিকে ওই আদালত থেকে বদলী করা হলো – এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, যিনি দায়িত্ব নেবেন তিনি-ই এ ব্যাপারে যথাযথ ভূমিকা পালন করবেন। #