নূর হোসেনের বিরুদ্ধে আরো দুই মামলার বাদির আদালতে সাক্ষ্য প্রদান

199

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চাঁদাবাজি ও মাদকের আরো দুই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক কামরুন নাহারের আদালতে নূর হোসেনের উপস্থিতিতে ওই দুই মামলার বাদিদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য প্রদানকারীরা হলেন, নূর হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মাদক মামলার বাদি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাবেক এসআই শওকত হোসেন এবং চাঁদাবাজির মামলার বাদি আকরাম হোসেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর জাসমিন আহমেদ বলেন, নূর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক ও চাঁদাবাজির ২টি মামলার বাদিরা আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।
২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৭ জনের লাশ উদ্ধারের পর নূর হোসেন ও তার সহযোগিরা পালিয়ে যায়। ওই বছরের ৯ মে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল ট্রাক স্ট্যান্ডের পেছনে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ২ হাজার ৯শ’ বোতল ফেনসিডিল এবং বেশ কয়েক বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার তৎকালীন এসআই শওকত হোসেন বাদি হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এছাড়া ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি ব্যবসায়ি আকরাম হোসেনের কাছ থেকে নূর হোসেনের সহযোগিরা ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা দিয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় আকরাম হোসেন বাদি হয়ে ২০১৪ সালের ২৮ মে নারায়ণগঞ্জ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
নূর হোসেনের বিরুদ্ধে ৭ খুনের ঘটনায় পৃথক ভাবে দায়েরকৃত ২টি মামলার বিচার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে চলছে।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজররুল ইসলামসহ সাতজনকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহরণ করা হয়। ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে ছয়জনের এবং ১ মে আরেকজনের লাশ পাওয়া যায়।
নিহত অপর ছয়জন হলেন আইনজীবী চন্দন সরকার, নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, চন্দন সরকারের গাড়িচালক মোঃ ইব্রাহীম।#