নূর হোসেনকে রিমান্ডের সুযোগ নেই, আসামীদের পক্ষে যে কেউ আইনি সহায়তা দিতে পারবে ॥ মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চলছে

753

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম : ৭ খুন মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডে নেয়ার সুযোগ নেই। ৭ খুনে জড়িত আসামী পক্ষে আইনী সহায়তা দিতে কোন বাধা নেই, যে কেউ (আইনজীবী) ইচ্ছা করলেই আইনী সহায়তা দিতে পারবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আনিসুর রহমান দীপু।
সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত জরুরী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে তার সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডবোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর আ্ওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা, আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ উর রউফ, সোনারগাঁও থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া। এরা সবাই আওয়ামীলীগ সমর্থক আইনজীবি ও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে শামীম ওসমান গ্রুপের আওয়ামীলীগ সমর্থক বলে পরিচিত।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এডভোকেট আনিসুর রহমান দীপু বলেন, সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ ৭ খুনের ঘটনায় নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল এবং নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী কাউন্সিলর সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এই নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীরা দলমত নির্বিশেষে ঘাতকদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। এই ঘটনায় র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ অন্য আসামীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী, স্বাক্ষীদের জবানবন্দী এবং দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে পরিপূর্ণ একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। আদালতও যথারীতি দুটি মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে একটি মামলার বাদী নিহত চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পালের দায়ের করা মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারার্থে প্রেরণ করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, শীঘ্রই মামলাটির অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে স্বাক্ষী গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আনিসুর রহমান দীপু বলেন, সরকার পলাতক প্রধান আসামী নুর হোসেনকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে মামলাটির বিচারে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, নৃংশস হত্যাকান্ডের তদন্ত শেষে পূর্নাঙ্গ অভিযোগপত্র দাখিল, আসামীদের গ্রেপ্তার, পলাতক আসামী নূর হোসেনকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনা, সার্বিকভাবে এই নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচার কার্যটি যখন একটি যৌক্তিক পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে-ঠিক ওই সময় রাজনৈতিক ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছে। অনুমান নির্ভর ভিত্তিহীন, অযৌক্তিক অতিকথনের মাধ্যমে মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত ও প্রভাবিত করার অপচেষ্টা করছে। তিনি কারো নাম উল্লেখ না করে সকলকে ওই বিশেষ মহলের বিভ্রান্তিমূলক কর্মকান্ড সর্ম্পকে সর্তক থাকার আহবান জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আনিসুর রহমান দীপু বলেন, সংবিধানে প্রত্যেক আসামীর আইনী অধিকার পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে ন্যায় বিচার পাওয়া যায় না-এমন অভিযোগ যাতে কেউ তুলতে না পারে। তাই আইনী সহায়তা দিতে কোন বাধা নেই।
অন্যদিকে নূর হোসেনকে রিমান্ডে নেয়ার সুযোগ নেই সংবাদ সম্মেলনে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির এমন বক্তব্যের দ্বিমত প্রকাশ করে সাবেক সভাপতি ও ৭ খুনের ঘটনায় একটি মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, নূর হোসেনকে রিমান্ডে এনে নৃশংস এই হত্যাকান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ রয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি, জেলা আইনজীবী পূর্বের কমিটির ন্যায় বর্তমান কমিটিও ৭ খুনের বিচারে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে।