নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের প্রকাশনা অনুষ্ঠান লেখক পাঠকের মিলন-মেলা

466

ধীমান সাহা জুয়েল: কবি যদি নদীতেই খুন হলেন । তাহলে আমার সমর্থন থাক । কেননা কবি ও নদী অভিন্ন বহতা। চলে গেলেও ফিরে ফিরে আসে। কবি কাজল কাননের কাব্যগ্রন্থ ‘কীটদষ্ট জল’ থেকে আবৃত্তি করছেন আবৃত্তিকার পিন্টু সাহা। নারায়ণগঞ্জ শহীদ মিনার প্রাঙ্গঁনে পিনপতন নিরবতা। দর্শক সারিতে বসে আবৃত্তি শুনছি। কবি চন্দন সরকার ও কিশোর কবি তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর মৃত্যু আবারো হৃদয়ে সজোরে ধাক্কা খেলো। স্মৃতিপটে ভেসে উঠলো উভয় কবির ক্ষত-বিক্ষত লাশের ছবি। যে লাশগুলো পাওয়া গেল শীতলক্ষ্যার জলে। এক অ™ভুত মিল এই দুই কবির লাশগুলোর মধ্যে। যারা কবিদের খুন করেছে সেই নরঘাতক সন্ত্রাসী হায়েনারা যেন এক সুতোয় গাঁথা। তারা জানেনা কবিদের খুন করে কোন মত-আদর্শকে বিচলিত করা যায় না। আর তাইতো কবি কাজল কানন কবিদের নদীতে খুন হওয়াকে সমর্থন জানিয়েছেন। কারণ তিনি জানেন কবি ও নদী অভিন্ন বহতা। চলে গেলেও যা ফিরে ফিরে আসে।
নারায়ণগঞ্জের ক’জন কবি-লেখকদের বাংলা একাডেমীর চলতি বইমেলায় প্রকাশিত বই নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সাংষ্কৃতিক জোট তাদের একুশের দু’দিনের আয়োজনে যুক্ত করলো জোট সংশ্লিষ্ট কিছু লেখকদের বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান।
লেখকদের বইগুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য মঞ্চে বসে আছেন লেখক অধ্যাপক আজফার হোসেন, সংস্কৃতিজন রফিউর রাব্বি ও কবি আরিফ বুলবুল। মঞ্চে তাদের ঘিরে রয়েছে লেখকগণ। আলোচকগণ একে একে বই নিয়ে আলোচনা করলেন। আলোচনার ফাঁকে কবিদের প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থের কবিতা নিয়ে নারায়ণগঞ্জের নবীন-প্রবীণ আবৃত্তিকাররা আবৃত্তি করছেন।
নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট আবৃত্তিকার ভবানী শংকর রায়ের ভরাট গলায় উঠে আসছে কবি লেখকদের সংক্ষিপ্ত জীবনী সাথে সাথে প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় ভেসে উঠেছে মঞ্চের একপাশে রাখা প্রজেক্টরে তাদের আলোকচিত্র, প্রকাশিত বইগুলোর প্রচ্ছদ ও লেখকদের পূর্বে প্রকাশিত অন্যান্য বইগুলোর তথ্য সম্বলিত নানাবিধ বিষয়।
মধ্যবয়সী লেখক গল্পকার প্রাবন্ধিক আলী এহসানের ‘কথাকয় মধ্যরাত’, কবি-ছড়াকার আহমেদ বাবলুর কবিতার বই ‘পালাতে পালাতে চোর   পালাতে পালাতে সন্নাসী’, কবি কাজল কাননের ‘কীটদষ্ট জল’, বিজ্ঞান ধর্মী লেখক সাংবাদিক শরীফ উদ্দিন সবুজের ‘প্যারালাল ইউনিভার্স’, তরুন কবি জিয়াবুল ইবনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কোন বাইপাস নেই’ ও তরুন গল্পকার রকিবুল রকির ‘আবীর ও হায়েনার গল্প’ নিয়ে প্রকাশনা অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি বই সামান্য হলেও সমৃদ্ধ করে আমাদের, আনন্দিত করে কিছু মানুষকে। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এর অবদান অতুলনীয়। সেই উপলব্ধি থেকেই নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট মহান ভাষার মাসের এই আয়োজন।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের এ ধরনের উদ্যোগ এ বছরই প্রথম। জোটসংশ্লিষ্ট লেখকদের বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান বলা হলেও আয়োজকদের অজানা থাকা অনেকেরই বই অন্তর্ভূক্তি করতে না পারার বেদনার কথাও উঠে আসে জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলের বক্তব্যে। তিনি নারায়ণগঞ্জের লেখকদের আরো অনুপ্রাণিত করার প্রয়াস নিতে এ ধরনের উদ্যোগ প্রতি বছরই নেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পুরো শহীদ মিনার আঙ্গিনা পরিনত হয়ে উঠে কবি-লেখক- পাঠক-সমালোচকদের মিলন মেলায়।
মঞ্চের বাম পাশেই একটি ষ্টলে রাখা আছে লেখকদের প্রকাশিত বইগুলো। ক্রেতারা বই দেখছেন-পড়ছেন এবং কেউ কেউ কিনছেনও। দর্শক সারিতে বিভিন্ন ধাপে বসে আছেন নারায়ণগঞ্জের নবীন-প্রবীণ অন্য লেখকগণ।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের এই উদ্যোগের প্রশাংসাই পেয়েছে লেখকদের অভিব্যক্তি প্রকাশকালে, সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটকে আরো বেশী দায়িত্বশীলও করে তুলেছেন। ভাষার মাসে এমন একটি দিন নারায়ণগঞ্জবাসীর জীবনে বার বার আসুক এই আশাবাদ ব্যক্ত করলেন লেখক আলোচকবৃন্দ। এ যেন লেখক-পাঠকের মিলন-মেলা, প্রাণের মেলা।#