নারায়ণগঞ্জ নগরীর প্রধান সড়কের পাশের বাড়িঘর একই রঙ করার সিদ্ধান্ত

2137

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জ শহরে কোনো অবৈধ যানবাহন ষ্ট্যান্ড থাকবেনা। অবৈধ ষ্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে ভ্রাম্যমান আদালত। মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে আরো সক্রিয় হবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আর জেলে আটক কারো প্রতি অমানবিক আচরন হয়ে যাচ্ছে মনে হলে জেলা প্রশাসক, জেলা কারাগার কতৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে পদক্ষেপ নেবে। নারায়ণগঞ্জকে সাড়াদেশে আলাদাভাবে তুলে ধরতে নগরীর প্রধান প্রধান সড়কের সকল বাড়িঘরের সামনের অংশ একই রং করার উদ্যোগ নেয়া হবে। রোববার জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় নেয়া হয়েছে এসব সিদ্ধান্ত।
বেলা পৌনে বারোটায় জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন আইন শৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা নারায়ণগঞ্জ-১ (রুপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর বীর প্রতীক, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম হোসনে আরা বাবলী, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মঈনুল হক, নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ, বিকেএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি জি এম ফারুক, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ এর সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজ, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, তারাবো পৌরসভার মেয়র হাসিনা গাজী প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া বলেন, নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া থেকে পঞ্চবটি, চাষাঢ়া থেকে নিতাইগঞ্জ ও চাষাঢ়া থেকে খানপুর পর্যন্ত প্রধান সড়কের পাশের সকল বাড়ির যদি একই রং করা যায় সেক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জকে সাড়াদেশে আলাদাভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। তিনি আগামী ২৬ মার্চের মধ্যে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তাব করেন।
বিকেএমইএ’র সিনয়র সহ-সভাপতি জি এম ফারুক ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস জেলা প্রশাসকের এ প্রস্তাবের প্রশংসা করে বলেন, এটা একটি অসাধারন প্রস্তাব। এটি নারায়ণগঞ্জের জন্য একটি আলাদা পরিচয় তৈরী করবে।
নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজ এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রধান সড়কের পাশে যেসব সরকারি বাড়ি আছে সেগুলি জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় একটি রঙ হয়তো হয়ে যাবে। কিন্তু যেসব বাড়ি ব্যাক্তি মালিকানাধীন সেসব বাড়ির মালিকের এক্ষেত্রে ব্যায় বেড়ে যাবে। যে স্বল্প সময় আগে বাড়ি রঙ করেছে তার পক্ষে এ বাবদ নতুন করে খরচ করা সম্ভব না। এছাড়া ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়ও খুব কম হয়ে যায় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য। তবে এক্ষেত্রে কোনো কোম্পানী যদি স্পন্সর হয় তাহলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হতে পারে। জেলা প্রশাসক উদ্যোগী হয়ে স্পন্সর যোগার করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেন।
সভায় পুলিশ সুপার বলেন, নারায়ণগঞ্জে অন্য যেকোন সময়ের তুলনায় আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে স্বস্থিদায়ক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এটি যাতে অব্যহত থাকে সেজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। নগরীর প্রধান সড়কের পাশের বাড়ি এক রঙ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি বাড়িগুলির ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক ও বানিজ্যিক ভবনগুলির ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক সংগঠন এ উদ্যোগ নিলে এ পরিকল্পনা সহজেই বাস্তবায়ন সম্ভব।
তারাবো পৌরসভার মেয়র হাসিনা গাজী বলেন, রুপগঞ্জের কায়েতপাড়া এলাকায় একটি ভূমিদস্যু গ্রুপ বালু ফেলে সাধারন মানুষের জমি দখল করে নিচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রুপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর বীর প্রতীক বলেন, রুপগঞ্জের কায়েতপাড়া এলাকায় ভূমিদস্যুরা বেপরোয়া। এলাকাবাসিও তাদের বিরুদ্ধে প্রচন্ড বিক্ষুব্ধ। এ নিয়ে যেকোন সময় সেখানে অঘটন ঘটতে পারে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বলেন, এ সভায় আমরা এটি আলোচনা করতে গেলে অনেকটা সময় লেগে যাবে। তবে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ন। আমরা পরে এ বিষয়ে আলোচনা করবো। #