নারায়ণগঞ্জ ক্লাব নির্বাচনে কঠিন পরীক্ষা আজ: বিজয় নীতির না কূটনীতির ?

821

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: আজ শনিবার ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচন। নির্বাচনে কার বিজয় হবে ? নীতির না কূটনীতর ? ১২শ১১জন ভোটারের রায় কার পক্ষে যাবে ? এমন প্রশ্ন নগরবাসির।
ক্লাবের নির্বাচন নিয়ে হিসাব চলছে নানামুখি। ক্লাব সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সভাপতি পদে মাহবুবুর রহমান মাসুম অনেক এগিয়ে আছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি তানভির আহমেদ টিটু নানান কারনে পিছিয়ে পড়েছেন। মূলত তাকে দাড় করিয়েছেন ওসমান ভাত্রীদ্বয়। নারায়ণগঞ্জে বর্তমানে ওসমান পরিবার ভাটার দিকে। বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ড তাদের গ্রহনযোগ্যতাকে নীচে টেনে নিয়েছে। গত পাচ বছর ক্লাবে নির্বাচন না দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের কাছেও তারা অপছন্দের মানুষ হয়ে গেছেন। অন্য দিকে ক্লাবের ইজিএম-এ সাহস করে অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় এবং শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করতে বাধ্য করায় মাহবুবুর রহমান মাসুমের গ্রহনযোগ্যতা অনেক বেড়েছে। তার পাশে দাড়িয়েছেন সিটি মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভি। আদর্শগত কারনে মেয়র ডাঃ আইভি বর্তমান অবস্থান নিয়েছেন। গত ১৮ ডিসেম্বর প্রার্থী পরিচিতি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্লাবের একাধিক সদস্য আরো জানান, মেয়রকে অপর সভাপতি প্রার্থী তানভির আহমেদ টিটুর পক্ষে চেস্টা করা হয়েছে ডাঃ আইভিকে তার অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করানোর জন্য। কিন্তু মেয়র বলেছেন, আমি ব্যালেন্স করে চলিনা। ঘনিষ্ঠজনদের সাথে আলাপকালে মেয়র বলেছেন, আমি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি চিন্তা ভাবনা করেই । যারা গণতন্ত্র বা অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে তাদের পাশে থাকাই আমার আদর্শ। কে পাশ করবে আর কে ফেল করবে তা নিয়ে ভাবিনা, আমি চিন্তিতও নই । জয় পরাজয় নির্ধারণ করবেন সম্মানীত ভোটারা। আল্লাহ যাকে সম্মান দেন তিনিই সম্মানীত হন। সামনের বছরও ক্লাবে ভোট হবে। এই পরিবেশ অবশ্যই ধরে রাখতে হবে। মেয়রের এই অবস্থানের কারণে ক্লাব সদস্যরা সাহস করে স্বচ্ছন্দে ভোট দেবেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এদিকে সাধারণ সদস্যরা নিজের কাছে প্রশ্ন করে নিরুত্তর হতে চায় না কেউ। আগামী বছর যে ভোট হবে অথবা তাদের সম্মান ও কদর এমনই থাকবে তার নিশ্চয়তা কোথায়। যারা সদস্যদের কদর বাড়িয়েছে ভোটের অধিকার এনে দিয়েছে তাদের কাছ থেকে কেন মুখ ফিরিয়ে থাকবেন সদস্যরা। এই নৈতিক প্রশ্ন সবাইকে নাড়া দিয়ে রেখেছে। নিজের বিবেক জিজ্ঞাসা থেকে কেউ মুক্ত নন।
এবারের নির্বাচন হচ্ছে প্রতিষ্ঠান কুক্ষিগত করে রাখার বিরুদ্ধে, এবারের নির্বাচণ হচ্ছে অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে রয়েছে কয়েকটি ভোট ব্যাংক। এসব ভোট ব্যাংকের বেশিরভাগ এডভোকেট মাহমুবুবর রহমান মাসুমের পক্ষে। দেওভোগ, বাবুরাইল, টানবাজার-নিতাইগঞ্জ, ওসমান পরিবারসহ আরো কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বাবুরাইল এলাকার মধ্যে মরহুম মোজাফ্ফর আলী পরিবারের ভোট বেশী। এ পবিারের পক্ষে সাবেক প্যানেল মেয়র ওবাইদুল্লাহর তাদের পরিবারের ভোটগুলো যেনো এডঃ মাসুম পেয়ে যান সে জন্য কাজ করছেন। ক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুর রাশেদ রাশু, মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান, যুবরীগ নেতা আব্দুল কাদির, এলাকায় এবং বাইরে দুদিকে চেস্টা করছেন। দেওভোগের ভোট গুলোও এডভোকেট মাসুমের পক্ষে যাবে অধিকাংশ। পাইকপাড়া, নিতাইগঞ্জ, নয়ামাটি, টানবাজারের ভোটেও একই হিসেব প্রযোজ্য ।
এডভোকেট মাসুম বলেন, তাদের প্রাথমিক বিজয় হয়ে গেছে। তারা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য লড়াই করেছেন , সদস্যরা সেই অধিকার ফিরে পেয়েছে। আসলে আমাদের সম্মনিত সদস্যদের বিজয় হয়েছে। তারা যদি আমাদের সমর্থন না করতো তাহলে তো আমরা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে সফল হতাম না। আমরা মনে করি ভোটারদের রায় পেয়ে গেছি। সিটি মেয়র আদর্শের প্রতীক। তিনি সত্য প্রতিষ্ঠায় ও মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করেন এজন্য আমাদের পাশে দাড়িয়েছেন।
অন্য দিকে ওসমান পরিবারের ভোট ব্যাংকে ভোটের সংখ্যা ২শ। নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে কলহে লিপ্ত রয়েছে ওসমান পরিবারের সিপাহসালাররা। ক্লাব সদস্যরা আরো জানান, ওপর দিয়ে যে যাই বলুক ভেতরের খবর ভিন্ন। ওসমান পরিবারের ভোট গুলো বিভক্ত হয়ে যাবে। আর তারা কিছু ভোট টানবে তবে তা বিজয় পর্যন্ত টেনে নেয়ার মতো নয়। ভোট কম পাবেন তারা। নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবার আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে সব সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানে নিজেদের অনুগত লোকদের পদে বসিয়ে দিয়েছেন । এই পদ্ধতি কারো কাছেই গ্রহন যোগ্য নয়। এমন কি যারা পদ লাভ করেছেন তারাও স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না। এই অবস্থায় সবাই পরিবর্তন চাইছেন। শুরু হয়েছে সকল সংগঠনের কেন্দ্রবিন্দু নারায়ণগঞ্জ ক্লাব দিয়ে।
টিটু সমর্থকরা বলছেন, ওসমান পরিবারের ভোট ব্যাংক থেকে একটি ভোটও ছোটার আশংকা নেই। আর তানভীর আহমেদ টিটু একটি কারনেই ভোট পাবেন, গায়ে রাজনীতির গন্ধ থাকলেও আচার আচরনে তিনি খুবই বিনীয়। এ ব্যাপারে কথা বলতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
শহরে অনেকে বলছেন নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচনে যারা ভুমিকা রাখলো এবং ক্লাবের সদস্যরা জিতে গেছেন। কারণ শেষ পর্যন্ত বিশেষ মহলটি নির্বাচন যেতে বাধ্য হয়েছে এবং সদস্যরা ভোট দিচ্ছেন। আর নির্বাচন কমিশনের জন্য আজকের নির্বাচন বড় পরীক্ষা। তারা কি আগামীর জন্য দৃস্টান্ত স্থাপন করে যাবেন নাকি ব্যর্থ হয়ে সমালোচনার পাত্র হয়ে থাকবেন। #