নারায়ণগঞ্জে লাল রঙ করে, ‘জামির’ চালের নামে চলছে প্রতারনা

1558

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে খিচুরি খাওয়ার জন্য বেড়ে যায় জামির চালের চাহিদা। কিন্তু জামির 03  IMG_0105চালের নামে ব্যাপক প্রতারনা চলছে বাজারে। বিআর-২৯ চালকে লাল রঙ করে জামির বলে চালিয়ে দিয়ে মোটা অংকের মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। আর এতে স্বাস্থ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে ক্রেতারা।

নগরীর দ্বিগুবাবুর বাজারের গোবিন্দ পালের মুদি দোকান থেকে ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটা করছিলেন ব্যবসায়ী আবু তানভীর উপল। ঈদের দিন সকালে খিচুরি খাওয়া তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। আর খিচুরির চাল হিসেবে জনপ্রিয় ‘জামির’। তিনি দোকানদারকে বললেন, আসল জামির চাল আছে কিনা। দোকানদার আত্মসমর্পন করলেন। আসল জামির চাল নেই। যা আছে তা রঙ দিয়ে তৈরী করা জামির। নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে বড় বাজার দ্বিগুবাবুর বাজার। দোকানদার গোবিন্দ পাল জানালেন, তার জানামতে দ্বিগুবাবুর বাজারের কোনো দোকানেই আসল জামির চাল নেই। সবাই বিআর-২৯ চালকে রঙ করে তৈরী করা নকল চালটা-ই বিক্রি করছেন। আসল আর নকল চেনার উপায় তিনি শিখিয়ে দিলেন। চাল নিয়ে হাতের তালুতে কচলালেই লাল রঙ উঠে। আর পানি দিলে পানি পুরোই লাল হয়ে যায়। আর আসল চালের বেশিরভাগের কিনারে একটি লাল রঙের চালের খোসার অংশ থাকে। নকল চালে তা থাকেনা।
তার কথানুযায়ী দ্বিগুবাবুর বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরেও আসল জামির চাল পাওয়া গেলো না। বেশিরভাগ দোকান-ই স্বিকার করলেন জামির চাল হিসেবে যা বিক্রি হচ্ছে তা জামির না। দু’-একজন দাবী করলেন তাদেরটা আসল। কিন্তু তালুতে নিয়ে কচলাতেই রঙ উঠলো।
নারায়ণগঞ্জের খুচরা দোকানগুলিতে চাল সরবরাহ হয় নগরীর মন্ডলপাড়া-নিতাইগঞ্জে অবস্থিত চালের পাইকারি দোকানগুলি থেকে। মন্ডপাড়ার শুভ রাইস এজেন্সির মালিক ও নারায়ণগঞ্জ চাল আড়ৎদার মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, নারায়ণগঞ্জসহ সাড়াদেশে এই নকল জামির চালটি সরবরাহ করা হয় মুন্সিগঞ্জ থেকে। মুন্সিগঞ্জের মা ভান্ডার, আজমীর রাইস এজেন্সি ও মিতা রাইস এজেন্সি এ তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিআর-২৯ চালকে রঙ করে বাজারজাত করছে। এক কেজি আসল জামির চালের মুল্য কমপক্ষে ষাট টাকা। আর পাহাড়ি সার কিটনাশক বিহীন চাল হলে এর মুল্য একশ টাকা কেজি। কিন্তু বাজারে জামির চাল বিক্রি হয় পয়তাল্লিশ থেকে বায়ান্ন টাকার মধ্যে। বিআর-২৯ চালের মুল্য কেজি প্রতি চল্লিশ টাকা। এটাকে রঙ করে নকল জামির তৈরী করলেই কেজি প্রতি পাইকারি চার-পাঁচ টাকা লাভ থেকে যায়। এ কারনে অসৎ ব্যবসায়ীরা এ নকল চাল তৈরী করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। জামির চাল শুধু সিলেট অঞ্চলে হয়। বৈশাখ মাসে জামির চাল ওঠে। এছাড়া একই ধরনের আরেক চাল ওঠে আষাঢ় মাসে বরিশালে। যার নাম ‘ভোজন’ চাল। তবে এবার বন্যার কারনে দুই জায়গায়ই এ চালের উৎপাদন খুবই নগন্য। অথচ বাজার ভরা জামির চাল। এত জামির চাল আসলো কোত্থেকে ?
যোগাযোগ করা হলে মুন্সিগঞ্জের আজমীর রাইস এজেন্সির ম্যানেজার হুমায়ুন কবির নকল চাল তৈরী অভিযোগ অস্বিকার করে জানান, ‘আমার জানামতে মা ভান্ডার , মিতা বা কেউই নকল চাল বাজারজাত করছে না। হয়তো ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জের ধরে কেউ আমাদের বিরুদ্ধে এ মিথ্য তথ্য দিয়েছে। আমরা বরিশালের ‘ভোজন’ চাল বাজারজাত করছি। তিনি জানান, একমাত্র ঈদেই এ চালের উল্লেখযোগ্য বিক্রি হয়। ঈদের আগে গড়ে তাদের প্রতিদিন তিন-চারশ বস্তা চাল বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র নারায়ণগঞ্জ কমিটির সভাপতি এডভোকেট এ বি সিদ্দিক জানান, বাজারে গিয়ে আমরা জামির নামে বিক্রি হওয়া চাল পরীক্ষা করেছি। তথ্য নিয়েছি। আমরা বাজারে জামির চাল পাইনি। সব-ই রঙ ও কুড়া মিশ্রিত নকল জামির চাল। রঙ থাকার কারনে এ চাল স্বাস্থের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমরা চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, এই রঙ দেহে গেলে কিডনীর অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। আমরা এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনারসহ উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানাই।
এ ব্যাপারে কথা বলতে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। #