নারায়ণগঞ্জে ব্যাবসায়ীদের সাথে মত বিনিময় করলেন শিল্পমন্ত্রী আমু

117

বিকেএমইএ’র মাথে শিল্পমন্ত্রী মত বিনিময় করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিঃ এর শীতলক্ষা হলে নারায়ণগঞ্জে শিল্প বিকাশের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা ও দিক নির্দেশনা প্রাপ্তির লক্ষ্যে বিকেএমইএ এর উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জের ৮টি জাতীয় ভিত্তিক ও ৩৩ টি স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ি সমাজের সাথে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু’র এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রী আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু,এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এ.কে.এম .শামীম ওসমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি এডভোকেট হোসনে আরা বেগম বাবলি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন। উক্ত সভার সভাপতিত্ব করেন বিকেএমইএ’র সভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য, এ. কে. এম. সেলিম ওসমান এবং সমাপ্তি বক্তব্য রাখেন খালেদ হায়দার খাঁন কাজল, সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি।
সভায় বিকেএমইএ’র পক্ষ থেকে নারায়নগঞ্জে পঞ্চবটি এলাকায় অবস্থিত বিসিক শিল্প নগরীর অভ্যন্তরস্থ রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকীরণ, পুলিশ লাইন থেকে বক্স কালভাটের মাধ্যমে বিসিকে সংযোগ সড়ক নির্মাণ, শিল্পনগরীর চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী (বাউন্ডারী) তৈরী, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী গঠনের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চাওয়া হয়। একইসাথে বিসিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি সেন্ট্রাল ইটিপি তৈরী করে তাতে সংযোগ নিয়ে কারখানার পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবেশ-বান্ধব কার্যক্রম পরিচালনা করতে সহায়তা চাওয়া হয়। এছাড়াও অনতিবিলম্বে নারায়ণগঞ্জে ফতুল্লাস্থ বিসিকে তৈরীকৃত ফায়ার স্টেশনটি নীট শিল্প কারখানাগুলোর স্বার্থে চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিল্পমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয়। একইসাথে বিসিককে “বিসিক নীট পল্লী” হিসেবে ঘোষনার দাবী জানানো হয়।

উল্লেখ্য যে, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলে দি চিত্তরঞ্জন কটন মিলস্ লিঃ (প্রায় ৩৬ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত) অনেক বছর যাবত পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। এছাড়াও আদমজী জুট মিলের বিশাল একটি অংশ (২নং মিল) পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। উক্ত মিলগুলোর পরিত্যক্ত জায়গাগুলো বিকেএমইএ কে বরাদ্দ দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে শহরের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠা নীট শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে উক্ত জায়গায় স্থানান্তর করে বর্তমান যুগের চাহিদা মোতাবেক কমপ্লায়েন্ট সহকারে প্রতিষ্ঠা করে উক্ত জায়গায় আন্তর্জাতিক মানের শিল্প অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাবটিও শিল্পমন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়। প্রয়োজনে উক্ত পরিত্যাক্ত অঞ্চলগুলো শিল্প মন্ত্রণালয়েল মাধ্যমে বিসিকের আওতায় এনে উক্ত জায়গায় বঞ্চিত ব্যবসায়িদের প্লটের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি উত্থাপন করা হয়। একই প্রক্রিয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর ও সোনারগাঁও এলাকায় তিন নদীর (শীতলক্ষা, মেঘনা ও বুড়িগঙ্গা) মোহনায় গড়ে উঠা কমবেশী প্রায় ১০০০ একর শান্তির চরে বিকেএমইএ’র আবেদনকৃত “নীট পল্লী” স্থাপনের মাননীয় শিল্পমন্ত্রীর সহযোগিতা প্রার্থনা করা হয়।

সর্বশেষে শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জকে শিল্প শহর ঘোষনা করার অনুরোধ জানানো হয় এবং একইসাথে আধুনিক শিল্প শহরের সমস্ত অবকাঠামোগত সুবিধা নারায়ণগঞ্জে প্রতিস্থাপন করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে ভারী শিল্পের বিস্তৃতি ঘটবে, পনেরো থেকে বিশ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হবে, শিল্প শহরের সুবিধা পাওয়ার ফলে বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ হবে এবং তদুপরি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তা ইতিবাচক গতি সঞ্চার করবে বলে বিকেএমইএ থেকে দাবি জানানো হয়।

মাননীয় শিল্পমন্ত্রী সমস্ত দাবীগুলো যৌক্তিক এবং জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে এর সমাধান করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জকে শিল্প শহর হিসেবে গড়ে তুলে অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করেন শিল্পমন্ত্রী। পরবর্তীতে শিল্পমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লাস্থ বিসিক পরিদর্শন করেন। ##