নারায়ণগঞ্জে এসএসসি ফরম পুরনে অতিরিক্ত ফি আদায়: আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে-ডিসি

2031

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:নারায়ণগঞ্জ শহরের বেশ কয়েকটি স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পুরনের জন্য অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব স্কুল গুলোর মধ্যে রয়েছে মর্গ্যান গার্লস হাই স্কুল , বার একাডেমী হাই স্কুল, গণবিদ্যা নিকেতন, হাবার্ড একাডেমী,লক্ষী নারায়নকটন মিলস হাই স্কুল, বন্দর গার্লস হাই স্কুল, শেয়ারচর হাই স্কুল,জয়গোবিন্দ হাই স্কুল, আমলাপাড়া গার্লস স্কুল সহ কয়েকটি স্কুল। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশ অনুযায়ী বিজ্ঞান বিভাগে ১৫৬৫টাকা এবং কমার্স ও মানবিক বিভাগে নেয়া হয়েছে ১৪৭৫টাকা নির্দেশনা থাকলেও কোচিং ফি, মার্চ’২০১৮ সাল পর্যন্ত বেতন, উন্নয়ন ফি সহ বিভিন্ন কারন দেখিয়ে শহরের মর্গ্যান গার্লস হাই স্কুলে সব শাখায় নেয়া হচ্ছে ৪৮০০টাকা, জয়গোবিন্দ হাই স্কুলে ৩৩৭৫টাকা, গণবিদ্যা নিকেতনে ২৮৮৫টাকা,বার একাডেমী হাই স্কুলে ৩৬০০টাকা, হাবার্ড একাডেমীতে১০০০০(দশ হাজার}টাকা,শেয়ারচর উচ্চ বিদ্যালয় ও বন্দর গার্লস স্কুলে আদায় করা হচ্ছে ৭০০০টাকা । অপরদিকে লক্ষী নারায়ন কটন মিলস হাই স্কুলে নেয়া হচ্ছে ৪০০০টাকা আর বিবি মরিয়ম গার্লস হাই স্কুলে নেয়া হয়েছে ৩৮০০টাকা ।অথচ একই শহরের নারায়নগঞ্জ হাই স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগে১৫৬৫টাকা ও মানবিক এবং বানিজ্য বিবাগে ১৪৭৫টাকা, আমলাপাড়া আইডিয়াল হাই স্কুলে নেয়া হচেছ ১৭০০টাকা, বিদ্যানিকেতন হাই স্কুলে ১৬৫০টাকা।এদিকে সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ১৭০০টাকা আদায় করছে । জেলা প্রশাসন জানান, অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ প্রমানিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।অপরদিকে নারায়নগঞ্জ নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ এসএসসি ফরম পুরনের নামে বিভিন্ন স্কুলে বোর্ড নির্ধারিত টাকার পরিবর্তে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ,এর ফলে নি¤œ আয়ের মানুষের সন্তানদের ফরম ফিলাপ করার জন্য অনেকে সুদে টাকা ঋণ নিচ্ছে।
মর্গ্যান গার্লস হাই স্কুলের অভিভাবক হাসিনা বেগম অভিযোগ করেন তার মেয়ে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পুরন করার জন্য ৪৮০০টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। অথচ বোর্ড নির্ধারিত ফি মাত্র টাকা মাত্র ১৫৬৫টাকা। একই অভিযোগ করেছেন জয়গোবিন্দ হাই স্কুলের অভিভাবক এবং গার্মিন্টস শ্রমিক আবদুল জব্বার। তিনি জানান, তার কাছ থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ ৩৩৭৫টাকা ফরম পুরন করা বাবদ আদায় করেছে।তিনি সুদে টাকা ঋণ নিয়ে সন্তানের ফরম পুরন করেছেন। এদিকে শহরের বিভিন্ন মহল্লায় গড়ে বেনামী কয়েকটি স্কুলে এস এস সি পরীক্ষা দেয়ার অনুমোদন না থাকায় তাদের শিক্ষার্থীদের অন্য স্কুল থেকে পরীক্ষা দেয়ার কথা বলে অভিভাবকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে হাবার্ড একাডেমীর প্রধান শিক্ষক তোফায়েল আহমেদ জানান, তিনি বোর্ড নির্ধাারিত টাকার অতিরিক্ত তিন মসের বেতন নিচ্ছেন। এদিকে মরগ্যান গার্লস হাই স্কুলের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নারায়নগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, বোর্ডের নির্ধারিত ফি এর সাথে স্কুলের বেতন এবং অতিরিক্ত পরীক্ষা নেয়ার জন্য ফি নেয়া হচ্ছে।এজন্য টাকার পরিমান বেশী দিতে হচ্ছে।বিবি মরিয়ম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাইফুল আলম খান জানান, স্কুল পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষার ফরম পুরনের জন্য টাকা নেয়া হচ্ছে।লক্ষী নারায়নকটন মিলস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র দাস জানান, জেলা শিক্ষক সমিতির সম্পাদক সাইফুল আলম খানের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক স্কুলে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এ স্কুলের শিক্ষার্থী যারা টেষ্ট পরীক্ষায় কোন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে তাদের ফরম পুরনের জন্য প্রতি বিষয়ের জন্য অতিরিক্ত ৫০০টাকা নিয়ে ফরম পুরন করা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত স্কুল কর্তৃপক্ষের বলে তিনি জানান। একই অভিযোগ বার একাডেমী হাই স্কুলের বিরুদ্ধে। সেখানে অতিরিক্ত ফি আদায়ের পাশাপাশি অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতিবিষয়ের জন্য ৫০০টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এব্যাপারে বার একাডেমীর প্রধান শিক্ষক হুমায়ূন কবীরের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ বিসয়ে আমি কোন বক্তব্য দিতে পারবো না।
এ ব্যাপারে নারায়নগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ কমল কান্তি সাহা জানান, সরকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ১৫৬৫টাকা এবং বানিজ্য ও মানবিক বিভাগের জন্য ১৪৭৫টাকা নির্ধারন করে দেয়া হয়েছে।সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেয়া হচ্ছে। তার স্কুলে কোন অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছেনা।
নারায়নগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারন সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, প্রশাসনের নজরদারির অভাবের কারনে ম্যানেজিং কমিটি ও স্কুল কর্তৃপক্ষ কয়েকটি স্কুলে তাদের ইচ্ছেমতো ফি আদায় করছে। যে কারনে নি¤œ আয়ের মানুষ সন্তানদের ফরম পুরন করার জন্য অর্থ যোগার করতে হিমশিম খাচ্ছে। অনেকে সন্তানের ভবিষৎতের চিন্তা করে সুদে টাকা ঋণ করে টাকা যোগার করছে। তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহনের আহবান জানান।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রেজাউল বারী জানিয়েছেন, বিভিন্ন স্কুলে এসএসসি ফরম পুরন বাবদ বোর্ড নির্ধারনের চেয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জিলা শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ প্রমানিত হলে সে স্কুলের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া জানান, বোর্ড নির্ধারিত ফি এর অতিরিক্ত কোন টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়ের কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, যারা এ ধরনের অতিরিক্ত ফি আদায় করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ####