না’গঞ্জে রক্ত দিয়ে হলেও সব খেলার মাঠ রক্ষা করার প্রত্যয়

1263

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বরফকল মাঠ, আলীগঞ্জ মাঠ, শিশুকল্যাণ স্কুল মাঠসহ নগরীর সব খেলার মাঠ রক্ষায় অবশেষে একাট্টা হয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসী। জেলার যেসব স্থানে খেলার মাঠ রয়েছে সেগুলো রক্ষায় প্রয়োজনে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে হলেও মাঠ রক্ষার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। মাঠগুলো রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তারা। খেলার মাঠ রক্ষায় নারায়ণগঞ্জের জনপ্রতিনিধিসহ জেলা প্রশাসকেরও ভূমিকা দাবি করেছেন তারা।

বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ দাবীতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়াপ্রেমী, সাবেক খেলোয়ার, ক্ষুদে খেলোয়ার, প্রমীলা খেলোয়ার, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটি, সোনালী অতীত ক্লাব, খানপুরের পোলষ্টার ক্লাব, আলীগঞ্জ ক্লাব, ফ্রেন্ডস ভ্যাটারানস ক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের সদস্যরা। এর আগে খানপুর, নগর খানপুর, হাজীগঞ্জ, তল্লার সর্বস্তরের এলাকাবাসীর উদ্যোগে শহরের ঐতিহ্যবাহী বরফকল মাঠের সামনে থেকে বরফকল মাঠ রক্ষার দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। এতে সংহতি জানান চাষাঢ়া শিশু কল্যান স্কুল মাঠ ও আলীগঞ্জ মাঠ রক্ষার আন্দোলনকারীরা। ওই সময় দড়ি লাফিয়ে খেলার মাঠ দখল চেষ্টার অভিনব প্রতিবাদ জানান চাষাঢ়া শিশু কল্যান স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
খানপুরের সর্বস্তরের এলাকাবাসীর পক্ষে মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামীলীগ নেতা সামছুজ্জামান ভাষানী। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন আলীগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি এবং জাতীয় শ্রমিক লীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশ, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এবি সিদ্দিক, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সভাপতি হাজী নুরুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন মন্টু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার অ্যাডভোকেট নুরুল হুদা, সাবেক ফুটবলার ও ঢাকা বিভাগীয় ফুটবল দলের কোচ আওয়ামীলীগ নেতা জসিমউদ্দিন, আজমত খন্দকার, ফ্রেন্ডস ভ্যাটারানস ক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির পোকন, পোলষ্টার ক্লাবের সভাপতি মোঃ আসলাম, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান, সাবেক জাতীয় ফুটবলার শহীদুল ইসলাম স্বপন, জাকির হোসেন, গোলাম গাউস, সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার জাহাঙ্গীর আলম, রিয়াজউদ্দিন বিশ্বাস, সুজন, ইসলেহউদ্দিন, প্রমীলা ফুটবলার বিথী, আব্দুল হালিম, অহিদুল ইসলাম ছক্কু প্রমুখ।
আলীগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি এবং জাতীয় শ্রমিকলীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশ বলেন, এই নারায়ণগঞ্জ থেকে চুন্নু, এমিলি, গাউস, জাকির, স্বপন, মোনেম মুন্না, জাহাঙ্গীর, বিদ্যুৎসহ অনেক খেলোয়ার শুধু জাতীয় পর্যায়েই নয় আর্ন্তজাতিক পর্যায়েও খ্যাতি লাভ করেছিল। কিন্তু আজকে নারায়ণগঞ্জ থেকে যাতে খেলোয়ার সৃষ্টি না হয় এজন্য ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আমাদের সন্তানরা কি খেলোয়ার হবে নাকি মাদকাসক্ত হবে এর সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে। আজকে জনপ্রতিনিধিরা মাঠের কথা বললেও অসাধু আমলারা নিজেদের পকেট ভারী করতে টেন্ডার দিতে ব্যস্ত। এতে নারায়ণগঞ্জবাসী মরলো কি বাঁচলো প্রধানমন্ত্রীর বদনাম হলো কিনা সেটা তারা দেখে না। কারণ তাদের সন্তানেরাতো দেশে থাকেনা। আর তাদেরও রয়েছে সেকেন্ড হোম। তাই খেলার মাঠ রক্ষার জন্য প্রয়োজনে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে হলেও মাঠ রক্ষা করবো। জেলার সমস্ত শ্রমিক সংগঠন এই আন্দোলনের পাশে থাকবে। তিনি নারায়ণগঞ্জের সমস্ত খেলার মাঠ রক্ষার বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের তাগিদ দেন।
আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি হাজী নুরুদ্দিন বলেন, খেলার মাঠকে মাঠ হিসেবে রাখার জন্য গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেকটি পাড়া মহল্লার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্লাবগুলোকে সমন্বয়ের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এবি সিদ্দিক বলেন, যেকোন মূল্যে খেলার মাঠ রক্ষা করতে হবে। তিনি জেলা প্রশাসকের প্রতি মাঠ রক্ষার আন্দোলনের একাত্মতা পোষণের আহবান জানান।
পোলষ্টার ক্লাবের সাবেক সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এর আগেও ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে বরফকল মাঠটি দখলের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল বিআইডব্লিউটিএ। তখন আমরা সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সেই ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করেছিলাম। আজকে যদি বিআইডব্লিউটিএ’র ষড়যন্ত্র বন্ধ না হয় তাহলে আমরা নারায়ণগঞ্জ থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র পোর্ট অফিসার ও নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবো। আপনারা কেউ হামলা মামলাকে ভয় পাবেননা। ন্যায়ের পক্ষের লড়াই সবসময়েই জয়ী হয়।
সাবেক খেলোয়ার ইসলেহউদ্দিন বলেন, নারায়ণগঞ্জের খেলার মাঠগুলো রক্ষায় জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে আসুন নয়তো সেদিন বেশী দূরে নয় যেদিন জনগণ ফুঁসে উঠবে। এই মাঠটি প্রয়োজনে সাবেক এমপি প্রয়াত নাসিম ওসমানের নাম দিয়ে মাঠটি সংরক্ষনের দাবি জানান তিনি।
ফুল পাখির আসরের সমন্বয়ক শরীফ সুমন বলেন, আজকে আলীগঞ্জ মাঠ, বরফকল মাঠ, চাষাঢ়া শিশু কল্যাণ স্কুল মাঠ দখলের চেষ্টা চলছে। গেল দুই দশকে দখল হয়ে গেছে শহরের তামাকপট্টি এলাকার বাটা কোম্পানি মাঠ, চারারগোপের জলপরিবহন মাঠ, চাষাঢ়ার গনিখা মাঠ, ফতুল্লার ডিআইটি, এম সার্কাসে এসিআই পানির কল সংলগ্ন মাঠ, বন্দরের আকিজ সংলগ্ন মাঠ, রুপালী ও সিএসডি খেলার মাঠসহ অন্তত ১৫/২০টি খেলার মাঠ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অবশিষ্ট খেলার মাঠগুলো দখলমুক্ত রাখার এর দায়বদ্ধতা আমাদের। তাই সকল খেলার মাঠ দখল মুক্ত রাখার জন্য গণআন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।#