না’গঞ্জে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ৭ নেতাকে পদ ও দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি

393

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে ছলচাতুরির অভিযোগ এনে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ৭ নেতাকে নিজ নিজ পদ ও দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের শহরের মাসদাইরের বাসভবনে আয়োজিত এক সভা শেষে ওই ৭ নেতাকে সাময়িক ভাবে বহিস্কারের ঘোষণা দেন তৈমূর আলম খন্দকার। কিন্তু দলের গঠনতন্ত্র মোতাবেক দলের কাউকে বহিস্কার বা সাময়িক বহিস্কার জেলার সভাপতি করতে পারেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গঠনতন্ত্র মোতাবেক দলের কোন নেতাকে বহিস্কারের একক ক্ষমতা রাখেন দলের চেয়ারপারসন। তার এ ধরণের সিদ্ধান্ত নেবার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলের জেলা ও শহর কমিটির অনেক নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওইসব নেতা তৈমূর আলমের এ সিদ্ধান্তকে অগঠনতান্ত্রিক এবং অরাজনৈতিক সুলভ বলে মন্তব্য করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত সভা থেকে যে ৭ নেতাকে সাময়িক বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তারা হলেন-ফতুল্লা থানার কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওমর আলী, আলীরটেক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন, বক্তাবলী ইউনিয়নের সভাপতি সুমন আকবর, ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল আলম সেন্টু, একই ইউনিয়নের বিএনপি নেতা এম এ আকবর, গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম এবং রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা গুলজার হোসেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে ছলছাতুরির অভিযোগে ওই ৭ নেতাকে তাদের নিজ নিজ পদ ও দল থেকে সাময়িক ভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত সভার প্রতিবেদন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে তার বাসভবনে অনুষ্ঠিত সভায় দলের নেতা কর্মীদের সর্বসম্মতি সিদ্ধান্তক্রমে ওই ৭ জনকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের কোন নেতাকে বহিস্কারের ক্ষমতা তার রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তৈমূর আলম বলেন-নেতা কর্মীদের দাবির প্রেক্ষিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যে কোন পর্যায়ের নেতা বা যে কোন কমিটির একজন সদস্যকেও অব্যাহতি দেবার ক্ষমতা দলের চেয়ারপারসন ছাড়া অন্য কারো নেই। তবে দলের কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে তা প্রস্তাব আকারে মহাসচিবের কাছে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে। মহাসচিব তা চেয়ারপারসনের কাছে উপস্থাপন করবেন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক ক্ষমতা চেয়ারপারসনের।#