না’গঞ্জে কোচিং বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার : ফলাফল বিপর্যয়

500

নারায়নগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কোচিং সেন্টারগুলোতে শিক্ষার নামে কোচিং বাণিজ্যের কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে বিপর্যয় নেমে এসেছে যা অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এবারের ফলাফল বিপর্যয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামতে হয়েছে। তবে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিবাভকদের অভিযোগের মূল বিষয় ছিল কোচিং বাণিজ্য এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদের আর্থিক অনিয়ম। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেএসসি এবং পিইসি পরীক্ষায় কোচিং বাণিজ্যকারী শিক্ষকরা বোর্ডের প্রশ্নপত্র ফাঁস করে কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের পাশ করার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে যে কারনে শিক্ষার্থীরা স্কুলের পড়ার চেয়ে ঝুকে পড়ছে কোচিং সেন্টারের দিকে। তবে সংশ্লিস্ট প্রশাসনের এসব অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় বেপরোয়া হয়ে পড়েছে কোচিং সেন্টারের শিক্ষকরা। এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য শিক্ষকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে,বন্দর গার্লস হাই স্কুল, বার একাডেমী, লক্ষী নারায়ন কটন মিলস হাই স্কুল, মরগ্যান গার্লস হাই স্কুল,বিবি মরিয়ম গার্লস হাই স্কুল,গণবিদ্যানিকেতন, আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়, আমলাপাড়া গার্লস হাই স্কুলে এসএসসি পরীক্ষীর্থীদের বাধ্যতামুলক কোচিং করা হলেও এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক’শ শিক্ষার্থী টেষ্ট পরীক্ষায় উত্তির্ন হতে পারেনি। পরে আর্থিক সুবিধা নিয়ে স্কুল কতৃপক্ষবিশেষ ব্যবস্থায় অনেক শিক্ষার্থীকে ফরম পুরনের সুযোগ দিলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের সুযোগ পায়নি। বন্দও গার্লস হাই স্কুলের অভিভাবক সুরুজ আলী অভিযোগ করেন, এ স্কুলে প্রায় দু’শতাধিক মেয়ে টেষ্ট পরীক্ষায় উত্তির্ন হতে পারেনি।তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ৩০জন শিক্ষার্থীকে ফরম পুরনের সুযোগ দিয়েছে। অন্য শিক্ষার্থীরা এখন প্রতিদিন স্কুল গেটের বাইরে অপেক্ষা করে বসে থাকে। একই অবস্থা বার একাডেমীর অবস্থা। এখানেও অনুত্তীর্ন শিক্ষার্থীদের প্রতি বিষয়ের জন্য ৫’শ টাকা অতিরিক্ত নিয়ে ফরম পুরনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত শিক্ষকরা সাজেশনের নামে প্রশ্নপত্র প্রদান,এবং পরীক্ষার খাতায় নম্বর বাড়িয়ে দেয়া সহ দিব্যি কোচিং বাণিজ্য করছে। আর এসব শিক্ষকদের কাছে যারা কোচিং করে না তাদের ফেল করিয়ে দেয়া সহ নানাভাবে হয়রানি করার কারণে শিক্ষার্থীরা জিম্মি হয়ে কোচিং করতে বাধ্য হচ্ছে।এতে করে শিক্ষাখাতে ফলাফল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষাখাতে ধস নামবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।তোলারাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বুলবুল চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার মান বাড়াতে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করা হলেও কোচিং বাণিজ্যের কারণে শিক্ষার মান উল্টো কমে যাচ্ছে। আর কোচিং বাণিজ্যের কারণে প্রশ্নফাঁস সহ নানা প্রবনতা দেখা দিয়েছে।এটা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।তিনি বলেন,কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত শিক্ষকরাই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে থাকে। মরগ্যান গার্লস হাই স্কুলের অভিভাবক ইমরুল হাসান বলেন, স্কুলের শিক্ষকরা বছরের শুরুতে প্রশ্ন শতভাগ কমন পড়ার নিশ্চয়তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়ে থাকে। যেকারণে এসব শিক্ষকরা প্রতিবছর বোর্ড সহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে থাকে। এভাবে একদিকে কোচিং বাণিজ্যের অন্তরালে বাড়ছে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা বলে জানান । তিনি অভিযোগ করেন, এবার এসএসসি’র টেষ্ট পরীক্ষায় মরগ্যান গার্লস হাই স্কুলের ১৭৬ জন শিক্ষার্থী স্কুলের শিক্ষকরেদও কাছে ব্যাচ না পড়ার কারনে টেষ্ট পরীক্ষায় পাশ করতে পারেনি। পরে শিক্ষার্থীদেও আন্দোলনের চাপে জেলা প্রশাসকের ব্যবস্থায় প্রায় ৯০জন শিক্ষার্থী ফরম পুরনের সুযোগ পেয়েছে। নারায়নগঞ্জের বিভিন্ন স্কুলে এখনও কয়েক’শ শিক্ষার্থী শিক্ষকদের গাফিলতির জন্য উর্ত্তিন হতে পারেনি।তারা এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়ে গেছে।
সস্প্রতি অনুষ্ঠিতব্য পিএসসি অর্থাৎ ৫ম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা এবং অষ্টম শ্রেনীর জেএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার নানা ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া সকল বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ারা ঘটনা প্রতি বছরই ঘটছে। তবে যথেষ্ট তদারকি কিংবা মনিটরিংয়ের অভাবে এসব ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে কোচিং বাণিজ্যই এসব ঘটনার মূল কারণ।শহরের কলেজ রোড, মিশনপাড়া এবং আমলাপাড়া এলাকায় প্রায় শতাধিক কোচিং সেন্টার গড়ে উটেছে। এসব কোচিং সেন্টার গুলোতে শহরের নামীদামী স্কুলের শিক্ষকরা জড়িত। কোচিং সেন্টার গুলোতে পরীক্ষার সময় অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা প্রশ্নের জন্য ভীড় জমায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক জানান, তারা স্কুলের পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য কোচিং সেন্টার গুলো পরিচালনা করে শিক্ষার্থীদের ভালো রেজাল্ট করার জন্য সুযোগ সুবিধা দি”্ছ।েএকজন শিক্ষক কোচিং বাণিজ্য করে প্রতিমাসে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকে।
তবে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকার আইন প্রণয়ন করলেও তার বাস্তবায়ন নেই । এব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান,তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন। অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং কোচিং সেন্টার গুলোতে শিক্ষা বিভাগের সাথে যোগসাজসে কোচিং পরিচালিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া বলেন,আইনবহিভুত ভাবে যে সব কোচিং সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে তাদেও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংম্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যে সব স্কুলে সরকারের বিধির বাইরে গিয়ে কোচিং পরিচালনা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ###