নতুন সত্তুর হাজার নবীন ভোটারদের সমর্থন পেতে প্রার্থীদের নানা কৌশল

279

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এবার প্রায় সত্তর হাজার নতুন ভোটার ভোট দেবেন। অনেকেই মনে করছেন এই নতুন প্রজন্মের ভোটাররা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজয় নির্ধারনের ক্ষেত্রে ফ্যাক্টর হবে। আর তাই নতুন প্রজন্মের ভোটারদের সমর্থন পেতে প্রার্থীরা নিচ্ছেন নানা কৌশল।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯৩১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৬২ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৯ জন। এর আগে ২০১১ সালের নির্বাচনে ভোটার ছিল ৪ লাখ ৪ হাজার ১৮৯ জন। এবারের তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছে ৭০ হাজার ৭৪২ জন, অর্থাৎ প্রায় ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে মূল শহরে প্রায় ২৪ হাজার, সিদ্ধিরগঞ্জে প্রায় ৩২ হাজার এবং বন্দরে ১৬ হাজার নতুন ভোটার হয়েছে।
কথা হলো নির্বাচনে নতুন ভোটার নগরীর ৬৫ বিবি রোড (৪ নং ডিআইটি) হোল্ডিংয়ের বাসিন্দা বিল্লাল আহমেদের সাথে। প্রথমবারের নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন ? উত্তরে তিনি বলেন, জীবনের প্রথম ভোট। যে যোগ্য, সৎ, নারায়ণগঞ্জকে যিনি উন্নত করতে পারবেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যিনি জোড়ালো ভূমিকা রাখতে পারবেন এমন লোককেই ভোট দেবো।
নগরীর চাষাঢ়ার প্রিপরেটরি স্কুল এলাকার হকার মোহাম্মদ লিটনও এবারই প্রথম ভোটার হয়েছেন। তিনি বললেন, আমি কাজ করে খাই। বিপদে আপদে যাকে কাছে পাবো বলে মনে করি তাকেই ভোট দিবো।
নারায়ণগঞ্জ কমার্স কলেজের প্রশাসনিক বিভাগের চাকুরে মমিনুল ইসলাম জানান, মার্কা দেখে আমি ভোট দেবো না। মার্কা আমার ভোটের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না। নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এমন লোককেই ভোট দেবো।
নবীণ সাংস্কৃতিক কর্মী শাহাদাত হোসেন বলেন, এ নির্বাচনে আগের মেয়র আইভীর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জোড়ালো বক্তব্য আমার ভালো লাগে। অন্যদিকে এডভোকেট শাখাওয়াৎ সাহেবকে আমি বলতে গেলে আগে তেমনভাবে চিনতাম না। সাতখুনের মামলার বাদিপক্ষের উনি আইনজীবি এটি শুনেছি। তবে এখনো কাকে ভোট দেবো ঠিক করিনি। শেষ মূহূর্তে ঠিক করবো।
তরুন কাউন্সিলর প্রার্থী শারমিন হাবিব বিন্নি বলেন, এবার বিপুল সংখ্যক তরুন তরুনি নির্বাচনে ভোটার হয়েছেন। তারা অবশ্যই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ন ফ্যাক্টর। বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা কাজ করছি।
নতুন ভোটারদের সমর্থন পেতে তাই সকল প্রার্থী-ই বিভিন্ন মতবিনিময় অনুষ্ঠানে নিজেকে তরুনদের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করছেন। সাহসিকতার সাথে করা নিজ নিজ কাজ তুলে ধরছেন।
নিজেকে তরুনদের প্রতিনিধি দাবী করে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী এডভোকেট শাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, আমি মনে করি আমার কাজকর্মের মধ্যে তারুন্যের ছাপ রয়েছে। আমার কর্মীদের বেশিরভাগ তরুন। নতুন ভোটাররা সবচেয়ে বেশি যেটা দেখবে কোন ব্যাক্তি সুখে, দুঃখে বা সাহসিকতার সাথে তাদের পাশে এসে দাঁড়াবে – সে হিসেবে তাদের সমর্থন আমি-ই পাবো।
তরুন ভোটারদের ভোট টানার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, নবীন ভোটারদের বিষয়টি গতবারও আমার মাথায় ছিলো। এবারো আছে। দায়িত্ব পালনের সময় আমি তাদের যে চাওয়া তা পূরনের চেষ্টা করেছি। তরুন-তরুনীরা চায় মাঠ, সবুজ জায়গা, খোলা চত্ত্বর, বিকশিত হওয়ার যথাযথ নিরাপত্তা। আমি জিমখানা মাঠকে আলাউদ্দিন খান ষ্টেডিয়ামে পরিণত করেছি। শহীদ মিনারকে সংস্কার করেছি। নগরীর রাস্তায় রাস্তায় গাছ লাগিয়ে শহরকে আরো সবুজ করেছি। পঞ্চবটীতে পার্ক করেছি। সোনাকান্দায় শেখ রাসেল স্মৃতি ইকোপার্ক করার উদ্যোগ নিয়েছি। জিমখানা লেককে ঘিরে বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পার্ক করেছি। যেখানে তরুনরা সময় কাটাতে পারবে। শীতলক্ষ্যা-ধলেশ্বরী সংযোগ খাল সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়েছি সেখানেও বিশাল গ্রীন স্পেস তৈরী হবে। তরুনদের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ হবে। এখনকার তরুন-তরুনীরা ইন্টারনেটে পুরো বিশ্বটাকে দেখে। তারা সাহসীদের পছন্দ করে। বাগারম্বর নয় কাজকে পছন্দ করে। আমার মনে হয় আমি তাদের সে পছন্দের প্রতিনিধি। এছাড়া তরুনরা যাতে সৃষ্টিশীল কাজের সাথে থাকতে পারে, বিপথে না যায় আমি নির্বাচিত হতে পারলে সে ব্যবস্থা করবো।
তরুনদের ভোট টানতে দু’পক্ষই ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবে সক্রিয়। আইভীর উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের তৈরী করা ডকুমেন্টারি ‘উন্নয়নের অগ্রযাত্রা’ তার সমর্থকরা ব্যাপকভাবে ফেসবুকে শেয়ার করছেন। খোলা হয়েছে তার সমর্থনে বেশ কয়েকটি পাতা। একইভাবে এডভোকেট শাখাওয়াৎ হোসেনের সমর্থকরাও ফেসবুকে ব্যাপক প্রচারনা চালাচ্ছেন। যারা ফেসবুকে প্রচারনা চালাচ্ছেন তারাও তরুন। #