দেশের বিভিন্ন স্থান যখন জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত তখন এনসিসি’র অধিকাংশ স্থান জলাবদ্ধতা মুক্ত

15227

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: যখন দেশের বিভিন্ন স্থান কোমড় বা বুক সমান আবদ্ধ পানির নিচে তখন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বেশিরভাগ এলাকার পানি বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে নেমে যাচ্ছে। সিটি কর্পোরেশন বলছে , সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার ড্রেন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে অতিবৃষ্টিতেও জলাবদ্ধতা তৈরী হচ্ছেনা। জলাবদ্ধতা সমস্যা আরো ভালোভাবে মোকাবেলার জন্য ঢাকা ওয়াসার নারায়ণগঞ্জ জোনকে সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রনে দেয়ার দাবী জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। আর নাগরিক কমিটি মনে করছে, জনবিচ্ছিন্নতার বদলে জনসম্পৃক্ত উন্নয়ন পরিকল্পনা এ প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময়েও নগরবাসিকে রক্ষা করেছে। একই সময়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশন সংলগ্ন ডিএনডি বাঁধ এলাকা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রনে নেয়ার দাবী তুেেলছে এসব এলাকার বাসিন্দারা।
গত চার-পাঁচ দিনের টানা বর্ষনে নারায়ণগঞ্জের উত্তর চাষাঢ়া ব্যাংক কলোনী এলাকার রাস্তা অনেক স্থানেই প্রায় এক ফুট পানির নিচে ছিলো। গতকাল এ এলাকার টেইলারী দোকানের শ্রমিক রিতা রায় বলেন, এমনিতে এ এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা নেই। তবে এবার এমন টানা বৃষ্টি হয়েছিলো যে এখানে পানি জমে গিয়েছিলো। তবে বুধবার দুপুরে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার আড়াই-তিন ঘন্টার মধ্যে পানি নেমে গেছে।
নগরীর গলাচিপা মসজিদ এলাকার বাসিন্দা ডিস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেলিম মিয়া জানান, আগে এখানে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা তৈরী হতো। সিটি কর্পোরেশন গভীর ড্রেন নির্মাণ করে দেয়ার কারনে এখন সহজে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়না। এবার প্রচুর বৃষ্টি হওয়াতে জলাবদ্ধতা হলেও বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে পানি নেমে গেছে।
নগরীর চাষাঢ়ার সমবায় মার্কেটের ব্যবসায়ী শাহীন আহমেদ বলেন, ঢাকায় বা চট্রগ্রামে যে পরিমান জলাবদ্ধতা দেখছি, কোমর পানি, বুক পানি দেখছি সে তুলনায় নারায়ণগঞ্জে জলাবদ্ধতা কিছুই হয়নি। সবচেয়ে বড় বিষয় বৃষ্টি থামার কয়েক ঘন্টার মধ্যে পানি নেমে গেছে। তবে পলিথিন, প্লাষ্টিক যদি না থাকতো তাহলে পানি আরো দ্রুত নামতো। একটু পরপরই দেখা যায় ড্রেনের মুখে একটা পলিথিন গিয়ে মুখ আটকে যায়। সিটি কর্পোরেশনের লোকজনও এই বৃষ্টির মধ্যেই ড্রেন সচল রাখতে কাজ করেছে। আমরাও দোকানদাররা পলিথিন পরিস্কার করেছি। ফলে পানি আটকে থাকেনি।
আর নাগরিক কমিটি মনে করছে, জনবিচ্ছিন্নতার বদলে জনসম্পৃক্ত উন্নয়ন পরিকল্পনা এ প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময়েও নগরবাসিকে রক্ষা করেছে। নাগরিক কমিটির সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, কোনো এলাকায় ড্রেন করার ব্যাপারে সিটি কর্পোরেনের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেয়র নিজে কথা বলে পরিকল্পনা প্রণয়ন করছেন। ফলে জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া পরিকল্পনা না। বরং জনগনের সাথে কথা বলে নেয়া পরিকল্পনা। যার ফল এবার পাওয়া গেছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলাম দাবী করেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশন ও এর আগে পৌরসভার সময়ে মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভীর নেয়া বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কারনে এত বৃষ্টির পরেও নারায়ণগঞ্জে তেমন জলাবদ্ধতা তৈরী হয়নি। বেশিরভাগ এলাকা-ই জলাবদ্ধতার বাইরে। তিনি জানান, সিটি কর্পোরেশন এ পর্যন্ত প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা ব্যায়ে ১৫৫ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ করেছে। নগরীর বাবুরাইল খালকে সংরক্ষন করে বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পার্ক হিসেবে সংরক্ষনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গার সংযোগকারি বোটখাল পুনঃখনন করা হচ্ছে। এসব কিছু নারায়ণগঞ্জের পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সহায়তা করছে।
সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতার সমস্যার এ উন্নয়নের কারনে পাশ্ববর্তী ইউনিয়নগুলি সিটি কর্পোরেশনের সাথে যুক্ত হতে চাচ্ছে। নারায়ণঞ্জের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। কুতুবপুর নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নূরুল হক জমাদার বলেন, বক্তারা বলেন বর্তমানে কুতুবপুর ইউনিয়নের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৭ লক্ষাধিক এবং ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৪৬ হাজার। ডিএনডি’র ভেতরে হওয়ায় এ এলাকার প্রধান সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে জলাবদ্ধতা সমস্যা। ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত বাজেট দিয়ে এই এলাকার উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। এই ইউনিয়ন পরিষদের জনগত সিটি কর্পোরেশনের জমির সম পরিমান খাজনা প্রদান করে। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই এলাকা সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভূক্ত হলে আমরা জলাবদ্ধতাসহ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পাবো। এ দাবীতে তারা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করছেন বলে জানান।
এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেনের মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, আমরা আমাদের সাধ্যানুযায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের চেষ্টা করছি। ডিএনডি’র ভেতরে পড়া সিটি কর্পোরেশনের কয়েকটি এলাকা ছাড়া সিটি কর্পোরেশন এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা নেই। ডিএনডি’র ভেতরের জলাবদ্ধতা নিরসনে আলাদা কতৃপক্ষ রয়েছে। ওয়াসার নারায়ণগঞ্জ জোনকে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় দিলে আমরা জলাবদ্ধতা নিরসনে আরো ভালোভাবে কাজ করতে পারবো। #