দিনভর সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র শো-ডাউন: এরপর বাছুরের মুল্যে হাট ইজারা

57

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: রোববার দিনভর নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও অফিসে শো-ডাউন করেছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওশাদ হোসেনের লোকজন। পরে আগে থেকে হাট দখল করে রাখা নওশাদ-জসিম এর লোকই পেয়েছে কয়লাঘাট হাটের ইজারা। অত্যন্ত কম মুল্যে পাওয়া ইজারাকে অনেকেই বাছুরের মুল্যে হাট ইজারা বলে অভিহিত করছেন।
তবে ৫টি হাটেই ৩জন করে দরদাতা দরপত্র ফেলেন। তাই অভিযোগ উঠেছে সমঝোতার মাধ্যমেই ইজারাদাররা এমন দরপত্র ফেলেছেন।
রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইউপি চেয়ারম্যান নওশাদ ও গম ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন সমর্থক বিপুল সংখ্যক ক্যাডার ইউএনও’র অফিষ ভবনে, ও অফিসের সামনের উঠানে অবস্থান নেয়। সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে অফিসের একতলার বাড়ান্দার দেয়ালও ভেঙ্গে ফেলে। পুলিশ নিয়ে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে ঐ ভবন থেকে নামিয়ে দিলেও তারা নিচে অবস্থান করতে থাকে। পরে বিকেল সাড়ে ৩টায় সর্বচ্চ দরতাদের নাম ঘোষনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ।
ইজারা আহবানকারীদের উপস্থিতিতে ইউএনও তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ বলেন, ফতুল্লার কাশিপুর এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাটের সরকার নির্ধারিত মূল্য ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ৭০০ টাকা। এ হাটের জন্য ৩জন দরপত্র জমা দিয়েছে। এদের মধ্যে আয়ুব আলী ২৬ হাজার ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে ইজারা পেয়েছেন।
সাইনবোর্ড ভুইগড় শান্তিধারা এলাকায় পশুর হাটের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্য ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৩০০ টাকা। এ হাটের জন্য ৩জন দরপত্র জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে মোহাম্মদ হোসেন ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে ইজারা পেয়েছে।
পুরান সৈয়দপুর এলাকায় পশুর হাটের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্য ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার টাকা। এ হাটের জন্য ৩জন দরপত্র জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৩ হাজার ৫০০ টাকায় ইজারা পেয়েছে রবিন হোসেন। নওশাদ চেয়ারম্যান ও গম ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের লোকজন ইজারা নেয়ার আগেই এ হাটে জোর করে গরু নামাচ্ছেন। বেঁচা কেনা করছেন।
গোগনগর এলাকায় পশুর হাটের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্য ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ৫০০ টাকা। এ হাটের জন্য ৩জন দরপত্র জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে ৩১ হাজার ৫০০ টাকায় সাইদুর রহমান ইজারা পেয়েছে।
পাগলা তালতলা এলাকায় পশুর হাটের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্য ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ২০০ টাকা। এহাটের জন্য ৩জন দরপত্র জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে ৭০ হাজার ৪০০ টাকায় শাহ আলম গাজী ইজারা পেয়েছে।
ইউএনও আরো বলেন, দরদাতাদের লোকজন এসে হট্রোগোল করেছে। সেটি পুলিশ নিয়ন্ত্রন করেছেন।
গত শনিবার বিকেলে দেখা যায়, ওই ৫ ইজারাদার আগে থেকেই হাট বসিয়ে পশু ক্রয় বিক্রয় শুরু করেছেন। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামাল উদ্দিন জানান, কিছুটা উত্তেজনা হলেও শান্তিপূর্ন পরিবেশে ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশের দুইটি টিম উপজেলায় ছিলো।#