ত্বকী হত্যা মামলায় আজমেরী ওসমানকে গ্রেপ্তারের জন্য আদালতে বাদীর আবেদন

538

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: ত্বকী হত্যা মামলায় প্রধান আসামী আজমেরী ওসমানকে গ্রেপ্তারে আদালতের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেছেন মামলার বাদী নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে অতিরিক্ত জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম অশোক কুমার দত্তের আদালতে এই আবেদন জানানো হয়। আদালত বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন আদেশ দেননি বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম জানান, বৃহস্পতিবার ছিল ত্বকী হত্যা মামলার নিয়মিত শুনানীর দিন। বাদী আদালতে জমা দেয়া তার আবেদনে উল্লেখ করেছেন, গত ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম কেএম মহিউদ্দিনের আদালতে ফৌজদারী কার্য বিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী জানিয়েছেন, একই বছরের ৬ মার্চ শহরের কলেজরোডে নারায়ণগঞ্জ-৫(শহর-বন্দর) আসনের জাপা(এ) দলীয় এমপি প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বেই ত্বকীকে খুন করা হয়েছে। ত্বকীকে খুনের পর বস্তাবন্দী লাশ আজমেরী ওসমানের গাড়িতে তুলে চারারগোপে নিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়া হয়। আসামীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আজমেরী ওসমানকে গ্রেপ্তার করছে না। আজমেরী ওসমান তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বাদী রফিউর রাব্বির কুশপুত্তলিকা দাহ করছে ও তার জিব কেটে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। এতে বাদী বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হয়নি। এতে ন্যায় বিচার বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। অবিলম্বে আজমেরী ওসমানকে গ্রেপ্তারের জন্য আদালতের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হয়। আদালত আবেদনটি শুনে তদন্তকারী সংস্থার কাছে পাঠানো হবে বলে জানান। তবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আদালত এ বিষয়ে লিখিত কোন আদেশ দেননি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম আরো জানান, গত তিন বছরেও ত্বকী হত্যার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়া হয়নি। বর্তমানে র‌্যাব মামলাটি তদন্ত করছেন। মামলার বাদী আদালতে আবেদনে জানিয়েছেন, মামলার অভিযোগপত্র যেন দ্রুত আদালতে দাখিল করা হয়।
বাদীপক্ষের শুনানীতে আরো অংশ নেন এডভোকেট আওলাদ হোসেন ও জিয়াউল ইসলাম কাজল।
ত্বকী হত্যা মামলায় বর্তমানে দুই আসামী সালেহ রহমান সীমান্ত ও ইউসুফ হোসেন লিটন কারাগারে আটক রয়েছেন। তাদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন জানালে আদালত তা নাকচ করে দেন।
এদিকে আসামী সুলতান শওকত ভ্রমর উচ্চ আদালত থেকে জামিনের পর বিদেশে পালিয়ে গেছেন।
উল্লেখ্য, গত ২০১৩ সালের ৬ র্মাচ বাসা থেকে বের হওয়ার পরে ত্বকীকে অপহরণ করা হয়। ৮ মার্চ চারার গোপে শীতলক্ষ্যা নদীর শাখা খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করা হয়। #