ত্বকী হত্যার বিচারের দাবীতে আয়োজিত কর্মসূচীতে সন্ত্রাসী হামলায় ৩ জন আহত

3981

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: ত্বকী হত্যার বিচারের দাবীতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচীতে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এতে সাংস্কৃতিক জোটের সাধারন সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলসহ তিনজন আহত হন। বুধবার সন্ধা সাতটায় এ ঘটনা ঘটে।
বুধবার বিকেল তিনটায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ত্বকী হত্যার বিচারের দাবীতে প্রথমে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ অবস্থান কর্মসূচী আয়োজন করে। সন্ধার পরে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট একই দাবীতে একই স্থানে মোমশিখা প্রজ্জ্বলন কর্মসূচী আয়োজন করে। কর্মসূচী শেষ করে সাংস্কৃতিক জোট ও সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের বেশির ভাগ কর্মী চলে যাওয়ার পরে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় সাংস্কৃতিক জোটের সাধারন সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, বাসদ কর্মী এস এম কাদির ও করিম আহত হয়।
ঘটনা সম্পর্কে আহত ধীমান সাহা জুয়েল জানান, প্রথমে তিনজন উচ্ছৃঙ্খল যুবক এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ত্বকী হত্যার বিচারের দাবীতে আয়োজিত কর্মসূচীর শহীদ মিনারে টানানো ব্যনার কেটে ফেলে। মাইক্রোফোন ষ্ট্যান্ড ছুড়ে ফেলে। তিন যুবকের মুখে রুমাল বাধা ছিলো। এসময় জুয়েল এর প্রতিবাদ জানালে উচ্ছৃঙ্খল যুবকরা তাকে এলোপাথারী মারধর করতে থাকে। তার শার্ট ছিড়ে ফেলে। তাকে বাচাতে গেলে বাসদ কর্মী এস এম কাদির ও করিমকেও তাকে পিটিয়ে আহত করে। এসময় আরো সাত আটজন যুবক ধারালো অস্ত্র নিয়ে শহীদ মিনারের বেদীর সামনে কড়ই গাছে কুপিয়ে মহড়া দেয়। আতঙ্ক তৈরী করে। ফলে শহীদ মিনারে ছোটাছুটি শুরু হয়।
ঘটনা সম্পর্কে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি জানান, ত্বকী হত্যা মামলার একজন ঘাতক আদালতে স্বিকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছে শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমীর ওসমানের উপস্থিতিতে, তার নির্দেশে, তার অফিসে এগারোজন মিলে ত্বকীকে হত্যা করে। আজমীর ওসমানের বিরুদ্ধে দশ-বারোটি হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এরপরেও যেহেতু সে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে সেখানে এরকম হামলা স্বাভাবিক ঘটনা।
এর আগে শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচীতে রফিউর রাব্বি বলেন, ২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমি ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে অবস্থান গ্রহন করেছিলাম। সেই নির্বাচনে শামীম ওসমান এক লক্ষ ভোটের ব্যবধানে আইভীর কাছে পরাজিত হয়। এছাড়া বাস সেক্টর থেকে চাদাবাজির চিত্র জনসম্মুখে উত্থাপন কারনে আজমীর ওসমান ত্বকীকে হত্যা করে। আজমীর ওসমান কেন হত্যা করবে ? আমি দাবী করছি আজমীর ওসমানকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক, কার নির্দেশে সে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। শামীম ওসমানের নির্দেশ ছাড়া এই হত্যাকান্ড হয়নি। তাকেও বিচারের সম্মুখিন হতে হবে। এই ওসমানী শাসন কিছুক্ষনের জন্য চলতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ১৯৮৮ সালের কামালকে হত্যা করা হলো। এ হত্যাকান্ডের ভারসাম্য আনতে তারা নিজেদের কর্মী কালামকে হত্যা করে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এ হত্যাকান্ডের রাজনীতি করে আসছে। ক্ষমতায় থাকলে আর প্রশাসন থাকলে তারা দেশে থাকে। ক্ষমতা হারালে বিদেশ পালিয়ে যায়। লুটপাট, ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি, খুন করে তারা নারায়ণগঞ্জের আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চায়। যাতে তাদের সবাই ভয় পায়। এই ওসমানীয় শাসন দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কোনো কারন নেই। আমাদের পিপড়ের মতো মারতে চেয়েছিলো। সে নাসিম ওসমান আজ কোথায় ? শহীদ মিনারে আমাদের সমাবেশের উপর হামলা করলো। সে পারভেজ কোথায় ? কোথায় রেখেছেন শামীম ওসমান তাকে ?
অবস্থান কর্মসূচীতে রফিউর রাব্বির সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এ বি সিদ্দিক, ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচীব হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম, নাগরিক কমিটির সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান, জেলা খেলাঘরের সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, কমিউনিষ্ট পার্টির জেলা শাখার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, ন্যাপ সাধারন সম্পাদক আওলাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি প্রদীপ ঘোষ বাবু, বর্তমান সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল, গনসংহতি আন্দোলন এর জেলার সভাপতি তরিকুল সুজন, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র এর জেলা শাখার সম্পাদক। #