ত্বকী হত্যার নেতৃত্বদানকারি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিবৃতিতে ২২ বিশিষ্ট নাগরিক

1013

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: দেশের বাইশজন বিশিষ্ট নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির মাধ্যমে ও র‌্যাবের তদন্তে যার নেতৃত্বে ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রকাশ পেয়েছে সে অভিযুক্ত আসামী এখন জনসম্মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা ত্বকীর হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার ও এ হত্যাকান্ডের অভিযোগপত্র প্রদান করে বিচারকার্য শুরু করার দাবি জানান।
সন্ত্রাসনির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচীব কবি হালিম আজাদ সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার ও এ হত্যা কান্ডের অভিযোগ পত্র প্রদান করে বিচারকার্য শুরু করার দাবি জানিয়ে দেশের ২২জন বিশিষ্ট নাগরিক মঙ্গলবার এ বিবৃতি প্রদান করেন। বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, “৬ মার্চ ২০১৩ মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকান্ডের তদন্তকারি সংস্থা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এ হত্যাকান্ডের এক বছরের মধ্যেই তদন্ত শেষ করে। সংবাদ মাধ্যমে তারা জানিয়ে দেয় ত্বকীকে কিভাবে, কখন, কোথায়, কি জন্যে এবং কারা কারা হত্যা করেছে। তারা তখন খসড়া একটি অভিযোগপত্র সাংবাদিকদের সরবরাহ করে বলেন, অচিরেই তা আদালতে পেশ করা হবে- যা আমরা সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারি। কিন্তু ত্বকী হত্যার তিন বছর অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত সে অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করা হয়নি। এরই মধ্যে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির মাধ্যমে ও র‌্যাবের তদন্তে যার নেতৃত্বে ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রকাশ পেয়েছে সে অভিযুক্ত আসামী এখন জনসম্মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবার কোন কোন আসামী উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েও গেছে। এসব কারণে ত্বকী হত্যার বিচার কার্যক্রমে সরকারের ভূমিকা ও সদিচ্ছা নিয়ে আজকে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিচার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করা অথবা বিচারহীনতার সংস্কৃতি কোনভাবেই আমাদের কাম্য নয়। আমরা দেখেছি রাজন-রাকিব হত্যার বিচার সাড়ে তিন মাসে সম্পন্ন করে সরকার উদাহরণ তৈরী করতে পেরেছে। অথচ তিন বছরেও ত্বকী হত্যার অভিযোগপত্রই দেয়া হলো না। আমরা ত্বকী হত্যার অভিযোগপত্র দ্রুত প্রদান ও সকল অপরাধিদের গ্রেফতাার করে আইনের আওতায় আনার জন্য দাবি জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অহমদ রফিক, কামাল লোহানী, ড. সনজীদা খাতুন, অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক, অধ্যাপক যতীন সরকার, ড.বদিউল আলম মজুমদার, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, এড. সুলতানা কামাল, ড. হায়াৎ মামুদ, সৈয়দ আবুল মকসুদ, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ড. সফিউদ্দিন আহমদ, মামুনুর রশীদ, অধ্যাপক শান্তনু কায়সার, ডা. সারোয়ার আলী, অধ্যাপক শফি আহমেদ, মফিদুল হক, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক এম. এম. আকাশ ও
শিশির ভট্টাচার্য্য। #