তিন সন্তানকে ফেরৎ পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এক মা ॥ টাকা নিয়ে পালিয়েছে প্রতারক

549

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: এলাকাবাসির কাছ থেকে বিভিন্ন অযুহাতে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পালিয়েছে মানবাধিকার কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়া মিজানুর রহমান। স্ত্রীকে ফেলে রেখে সাথে নিয়ে গেছে তার তিন সন্তানকে। পাওনা টাকার জন্য দুই পাওনাদার মিজানুর রহমানের স্ত্রী শেফালী বেগমের এক শতাংশ জায়গাসহ মিজানুর রহমানের পাঁচতলা বিল্ডিং দখল করে নিয়েছে। সন্তানদের এবং নিজের জমি ফেরত পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এখন শেফালী। ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার তাতখানা এনায়েতনগর গ্রামে।
শেফালী বেগম জানান, ১৯৯৮ সালে লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার করপাড়া এলাকার পশ্চিম করপাড়া বড়বাড়ি গ্রামের মৃত জয়নাল ক্বারীর ছেলে হাজী মিজানুর রহমানের সাথে শেফালী বেগমের বিয়ে হয়। মিজানুর রহমান বিয়ের পরে সাত বছর সে বিদেশে ছিলো। দেশে ফিরে সে মোট সাড়ে তেরো শতাংশ জমি ক্রয় করে। এছাড়া ক্রয় করা জায়গার পাশে তার স্ত্রী শেফালির নামে তার ভাই এক শতাংশ জমি ছিলো। এই মোট সাড়ে চৌদ্দ শতাংশ জায়গার মধ্যে প্রায় সাত শতাংশের মধ্যে মিজানুর রহমান বিল্ডিং তোলে। এছাড়া সে ঢাকার নাখালপাড়ায় একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট দেয়। এসবের আয় দিয়ে মিজানুর রহমান চলতো। সে ‘জাতীয় মানবাধিকার ইউনিট’ নামের একটি সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়। ২০১৪ সালে মিজানুর রহমান সিদ্ধিরগঞ্জের দুই নং ঢাকেশ্বরী এলাকায় একটি গার্মেন্ট দেয়। এ গার্মেন্ট খোলার সময় সে বিভিন্ন লোকজনকে ব্যবসার মাধ্যমে ধনী করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা ধার নেয়। কিন্তু তার গার্মেন্ট ব্যবসা সফল হয়নি। সে ঋনে জর্জরিত হয়ে পড়ে। এ ঋন থেকে মুক্তি পেতে সে স্ত্রী শেফালীর পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া এক শতাংশ জমি তার নামে লিখে নিয়ে বিক্রি করার চেষ্টা চালায়। শেফালী এ জমি বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় তার উপর ব্যাপক নির্যাতন চালাতে থাকে। তাদের তিন সন্তান ওমর ফারুক (১৬), জান্নাতুল ফেরদৌস পুনম (১২) ও মেহেদী হাসানকে (৮) বাসা থেকে নিয়ে মিজানুর রহমান বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাসায় রেখে দিতো। এ নিয়ে তিক্ততা বাড়তে থাকলে ও পাওনাদারদের চাপ বাড়তে থাকলে এক পর্যায়ে তিন সন্ত্রানকে নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে পালিয়ে যায় মিজানুর রহমান। নিজের সন্তানদের ফিরে পেতে নারায়ণগঞ্জ শিশু ও নারী নির্যাতন আদালতে মামলা দায়ের করেন শেফালী আক্তার। মিজানুর রহমানকে ধরতে আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করে। কিন্তু এখনো তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। শেফালী অভিযোগ করেন, রামগঞ্জের একটি বাড়িতে ভাড়া নিয়ে লুকিয়ে ছিলো মিজানুর রহমান। খবর পেয়ে সেখানে রামগঞ্জ থানা পুলিশের এস আই জহিরুল হককে নিয়ে গেলেও পুলিশ মিজানুর রহমানকে না ধরে ফেরত আসে। এস আই জহিরুল তাকে জানায়, মিজানুর জামিনে আছে। কিন্তু শেফালী নারায়ণগঞ্জ আদালতে এসে খোজ নিয়ে জানতে পারেন সে জামিনে নেই। তিনি ওয়ারেন্টের কপি নিয়ে লক্ষীপুরের পুলিশ সুপারের কাছে গিয়ে এস আই জহিরুল হকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। শেফালি আরো জানান, মিজানুর রহমানের পাওনাদার হারুন, রোশনারা বেগম ও তার ছেলে তারেক টাকা না পেয়ে মিজানুর রহমানের মালিকানাধীন সিদ্ধিরগঞ্জে এনায়েতনগর এলাকায় অবস্থিত পাচতলা ভবন দখল করে নেয়। তবে একই সাথে তারা এ বিল্ডিংয়ের পাশে অবস্থিত শেফালী বেগমের মালিকানাধীন এক শতাংশ খালি জাওয়গা-ও দখল করে নেয়। এদিকে শেফালীর স্বামী এ বিল্ডিং এর সাথে শেফালীর জায়গাও গোপেনে বিক্রি করে দেয়ার চেষ্টা করছে বলে শেফালী অভিযোগ করেন। কান্না জড়িত কন্ঠে শেফালী তার সন্তানকে ফেরত পেতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলতে মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে তাকে এ ব্যাপারে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি উত্তর দেননি। #