জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পিয়ন জয়নালের বিরুদ্ধে অনিয়ম,স্বেচ্ছাচারিতা অভিযোগ

328

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পিয়ন (জারীকারক) জয়নাল আবেদীন মোল্লার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারীতার অভিযোগ উঠেছে। টাকার বিনিময়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বিভিন্ন কাজে আসা লোকজনের কাছ থেকে উৎকোচের বিনিময়ে জমির দলিলের নকল,নামজারী,পর্চা উত্তোলন এবং বিআরটিএ থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ডিসি অফিসের সামান্য পিয়ন হলেও সে জাপানী ইয়ামাহা(আর এক্স ব্র্রান্ডের জাপানী) মোটর সাইকেল নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে দাপিয়ে বেড়ান। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালাবেনা এমন আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরা থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে জয়নালের বিরুদ্ধে। এমনকি ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালাবে আগাম খবর আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তাদের কাছে পৌছে দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি সুত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আসা সাধারন মানুষের কাছ থেকে পিয়ন জয়নাল নানাভাবে টাকা পয়সা আদায় করে থাকে। নিরীহ গোছের লোকজনকে অনেক সময় কাগজপত্রের জটিলতার ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার দাপ্তরিক পদ জারীকারক( পিয়ন) হলেও তিনি পদস্থ কর্মকর্তাদের মতো চলাফেরা করেন। তার মূল কাজ নিরীহ লোকজনকে নানা টালবাহানার মাধ্যমে টাকা-পয়সা আদায় করা। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পাশের ভবনে ভুমি রের্কড অফিসে আসা লোকজনকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং ভুমি অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে ভালো সর্ম্পক আছে,তাড়াতাড়ি কাগজপত্র করিয়ে দেবার নাম করে টাকা-পয়সা আদায় করে থাকে জয়নাল। এখানেই থেমে নেই পিয়ন জয়নালের অপকর্ম। নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ অফিসেও তার অবাধ বিচরণ থাকার কারণে তিনি গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস করতে আসা লোকজনকে ফাঁেদ ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসা লোকজনকে বিনা পরীক্ষায় গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স পাইয়ে দেয়ার কথা বলে তাদের ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। বিআরটিএর কর্মকর্তাদের দালালী করা সহ ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ অফিসে ড্রাইভিং লাইসেন্স  করতে আসা কয়েকজন যুবক জানান, মোটর সাইকেলের লাইসেন্স করতে বিআরটিএ অফিসে আসলে পিয়ন জয়নাল আমাদেরকে জানান সরকারী ফি ছাড়াও তাকে লাইসেন্স প্রতি ৫ হাজার টাকা করে দেয়া হলে তিনি লাইসেন্স করে দেবেন। তার আশ্বাসের কারণে শিক্ষানবীশ (লার্নার) লাইসেন্স করাতে তার কাছে দুই হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন শুনতেছি আমাদেরকে মূল লাইসেন্স নিতে আমাদেরকে পরীক্ষা দিতে হবে। তাহলে সরকারীর ফির বাইরে তাকে কেন অতিরিক্ত টাকা দেব কেন-এমন অভিযোগ করেন ওই যুবকেরা।
এ বিষয়ে বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ অফিসের সহকারী পরিচালক মো: আব্দুল কুদ্দুস জানান, বিষয়গুলো আমার জানা নেই। এই ধরণের ঘটনায় আমার অফিসের কেউ বা পিয়ন জয়নালও যদি জড়িত থাকে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এছাড়া আদালত চত্বর ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের প্রবেশ পথ ও বাইরের রাস্তার দু’পাশে বসা ফুটপাত ও চায়ের দোকানগুলো থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আদালতের ভেতরে ফল বিক্রেতা এবং শশা ও গাজর বিক্রেতারাও জয়নালের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ফুটপাতের হকাররা অভিযোগ করেন, প্রতিটি দোকান থেকে জয়নাল ৩০ থেকে ৫০ টাকা হারে চাঁদা তোলেন। চাঁদা দেয়া না হলে দোকান উঠিয়ে দিয়ে ওই জায়গায় অন্যকে বসানোর হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করেন।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক জানান, প্রশাসনের মদদ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের প্রবেশ পথ ও বাইরে সড়কের দু’পাশে ফুটপাত বসতে পারে না। অব্যশই কেউ না কেউ তাদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে ফুটপাতে বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের কোন কর্মচারী  কী করছে- তা জেলা প্রশাসকের খোঁজ খবর রাখা উচিত। কারণ এসব কর্মচারীরা যদি কোন অপকর্ম জড়ায় তার দায়ভার প্রশাসনের উপর বর্তায়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পিয়ন জয়নাল আবেদীন মোল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি কোন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই। পিয়ন হয়েও কীভাবে দামী মোটর সাইকেল চালান এবং বিলাসী জীবন যাপন করেন- সে বিষয়ে তিনি বলেন, মোটর সাইকেলটি অফিসের, আমার নয়। আর আমি খুব সরল জীবন যাপন করি। #