জেএসসি পরিক্ষায় শিক্ষার্থীদের এক ঘন্টা কালক্ষেপন: ২০ শিক্ষার্থী ফল বিপর্যয়ের আশংকা

954

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জ গালর্স স্কুল এন্ড কলেজের জেএসসি বাংলা প্রথম পত্র পরিক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে পরিক্ষা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্কুলের ২০৮ ও ২০১৯ নম্বর কক্ষে প্রায় ২০ শিক্ষারর্ধীর Still1101_00002বেলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষার্থীরা হৈচৈ ও কান্নাকাটি করে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আনলে এক ঘন্টা পর ২০১৭ সালের প্রশ্ন দেয়া হয়। কিন্তু তাদরে অতিরিক্ত সময় দেয়া হয়নি। শিক্ষার্থীও অভিভাবকদের অভিযোগ শিক্ষকদের গাফিলতির কারনে তাদের মেয়েদের পরিক্ষা খারপ হয়েছে। এজন্য দায়ি শিক্ষকদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
বুধবার জেএসসি পরীক্ষার ১ম দিনে শহরের বার একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয় ও চিত্তরঞ্জন কটনমিল উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র ছিল নারায়ণগঞ্জ গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মাথায় ২০৮ ও ২০৯ নং কক্ষের মোট ১২জন শিক্ষার্থী কক্ষে দ্বায়িত্বে থাকা শিক্ষককে জানান তাদেরকে ২০১৬ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের এই অভিযোগে আমলে না নিয়ে উল্টো তাদেরকে বের করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ঐ পশ্নপত্রেই পরীক্ষা দেয়ার জন্য বলা হয়। এরপর প্রায় ১ ঘন্টা পর শিক্ষার্থীরা কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করলে বিষয়টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক শীতল চন্দ্র দে সেখানে গিয়ে নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। এসময় পরীক্ষার্থীরা তাদের ১ঘন্টা সময় নষ্ট হওয়ায় বাড়তি সময় দেয়ার অনুরোধ করলে প্রধান শিক্ষকসহ উপস্থিত শিক্ষকরা তাদেরকে পরীক্ষা বাতিল করে দেয়া হবে বলে ভীতি প্রদর্শন করেন। এক পর্যায়ে ২জন পরীক্ষার্থী বাইরে বেরিয়ে বিষয়টি জানালে সকল অভিভাবকরা এ নিয়ে হৈ চৈ শুরু করেন।

শিক্ষার্থী ফারজানা রোলনং ( ৬৬৬৪০৮) মারজিয়া জাহান রোলনং (৬৬৬৪১৩) মনিরা আক্তার, রোলনং (৬৬৬৪১৫) জোবেদা রহমান রোলনং (৬৬৬৪১৮) আফসানা খানম রোলনং ( ৬৬৬৪১৯) সাগরিকা আক্তার রোলনং ( ৬৬৬৪২০) জান্নাতুল ফেরদৌস রোলনং (৬৬৬৪২৫) সোনিয়া আক্তার ( ৬৬৬৪৪২৬) সোনিয়ার আক্তার ( ৬৬৬৪২৭) জানান, বুধবার ছিলো অষ্টম শ্রেনীর জেএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরিক্ষা ছিলো । সকাল দশটায় পরক্ষা শুরু সময় ২০৮ ও ২০১৯ নম্বর কক্ষে প্রায় ২০-২২ জন নিয়মিত শিক্ষার্থীকে দেয়া হয় অনিয়মিত (২০১৬ ) সালের প্রশ্নপত্র। বিষয়টি পরিক্ষার হলের ডিউটিরত শিক্ষকদের জানান তারা। কিন্তু শিক্ষকরা তাতে পাত্তা দেননি। একঘন্টা পর শিক্ষার্থীরা পরিক্ষা হলে হৈচৈই শুরু করলে ডিউটিরত শিক্ষকরা বিষয়টি দেখে দেখে কেন্দ্র সচিব শীতল চন্দ্র দের সাথে কথা বলে তাদের ২০১৭ সালের নিয়মিত প্রশ্নপত্র প্রদান করেন। কিন্তু এক ঘন্টা সময় নষ্ট করার পর তাদের নতুন করে সময় দেয়া হয়নি। পরিক্ষায় প্রশ্ন পত্র কমন পড়ার পরও সময়ের অভাবে খাতায় লিখতে না পারায় অনেক শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
শিক্ষার্থীদের দাবি তারা জিপিএ পাচঁ পাওয়ার মতো প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন । প্রশ্ন কমন পড়ার পর সময়ের অভাবে লিখতে পারেননি। জিপিএ পাচঁ তো দুরের কথা এখন পার্স করা নিয়েই চিন্তত তারা। শিক্ষার্থীরা জানান, ২০৮ নম্বর কক্ষে পরিক্ষা নেয়ার ডিউটিতে ছিলেন শিক্ষক আরিফ হোসন । ২০৯ নম্বর কক্ষের শিক্ষকের নাম পাওয়া যায়নি।
অভিভাবকদের অভিযোগ শিক্ষকদের ভুলে কারনে তাদের সন্তানদের পরিক্ষা খারাপ হয়েছে। এ জন্য তারা দোষি শিক্ষকদের দৃষ্টান্ত শাস্তি দাবি করে পূনরায় পরিক্ষা নেয়ার দাবি জানান।
এদিকে বিকেলে গনমাধ্যম কর্মীরা খবর পেয়ে বিষয়টি জানার জন্য নারায়ণগঞ্জ গালস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব শীতল চন্দ্র দে সহ অভিযুক্ত শিক্ষকরা দ্রুত অফিস রুমে তালা ঝুলিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবক লিটন মিয়া, সোবহান মিয়া সহ কয়েকজন জানান, প্রধান শিক্ষক শীতল চন্দ্র দে’র সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে তিনি ভুল ¯ী^কার করে এর সমাধান করবেন বলে জানালেও এক পর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় তিনি পেছনের ফটক দিয়ে তিনি গঁকে পড়েন। তারা জানান, এর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কারাগারে যাওয়া এই প্রধান শিক্ষকের বিরুেদ্ধ প্রশ্নপত্র ফাঁস, অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগে অভিভাবকরা একাধিকবার মানববন্ধন সহ আন্দোলন করেছিলেন। অভিভাবকরা এই প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করেন।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) রেজাউল বারী জানান, বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করে শিক্ষাথীদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি যে ভুল হয়েছে এটি কেন্দ্র সচিব তাকে অবহিত না করে গোপন করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ###