কেমিষ্ট ড্রাগিষ্ট সমিতির ফার্মেসি বিষয়ক ফাউন্ডেশন কোর্সের অতিরিক্ত ফি আদায়

72

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: ফার্মেসি বিষয়ক ফাউন্ডেশন কোর্সের সরকার নির্ধারিত কোর্স ফি তিন হাজার আটশ পঞ্চাশ টাকা। বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল এর তত্বাবধানে বাংলাদেশ কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্টস সমিতি এ কোর্সটি করিয়ে থাকে। এবছরের ফেব্রোয়ারী থেকে শুরু হওয়া এ কোর্সে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রে প্রায় আঠারোশত প্রশিক্ষনার্থীর প্রতিজনের কাছ থেকে এক থেকে তিন হাজার টাকা বেশি নেয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশ কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্টস সমিতির নারায়ণগঞ্জ শাখার সভাপতি প্রশিক্ষনার্থীদের কাছ থেকে কমপক্ষে আঠারো লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
ড্রাগ লাইসেন্স নিয়ে বাংলাদেশ কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতির নারায়ণগঞ্জ শাখার সদস্য হয়েছেন এমন ফার্মেসীর সংখ্যায় প্রায় দুই হাজার তিনশ। সমিতির বাইরে লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসী রয়েছে আরো প্রায় আড়াইহাজার। নারায়ণগঞ্জ জেলা ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক ফখরুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি স্বাস্থ মন্ত্রনালয় একটি নির্দেশ জারি করেছে যে প্রতিটি ফার্মেসীতে অন্তত একজন ফার্মাসিষ্ট থাকতে হবে। যেহেতু দেশে ফার্মাসিষ্ট এর সংকট রয়েছে তাই প্রশিক্ষনের মাধ্যমে ফার্মাসিষ্ট তৈরীরও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল বাংলাদেশ কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্টস সমিতির সহযোগিতায় দেশব্যাপী ফার্মেসী বিষয়ক ফাউন্ডেশন কোর্স চালু করেছে।
বাংলাদেশ কেমিষ্টস এন্ড ড্রাগিষ্টস সমিতির একটি সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জেও ফেব্রোয়ারী থেকে এ কোর্স চালু হয়েছে। কোর্সটি তিনমাসের। নগরীর বার একাডেমী স্কুলে এ কোর্স চলছে। নিয়ম অনুযায়ী এ কোর্সের কোর্স ফি তিন হাজার আটশ পঞ্চাশ। ‘বাংলাদেশ কেমিষ্টস এন্ড ড্রাগিষ্টস সমিতি’র রশিদ এর মাধ্যমে সাড়াদেশে এ টাকা নেয়া হয়। কিন্তু সমিতির নারায়ণগঞ্জ শাখার সভাপতি শাহজাহান খান সরকার নির্ধারিত এ ফি’র বাইরে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত কমপক্ষে এক হাজার টাকা করে আদায় করছেন। কারো কাছ থেকে আদায় করেছেন আরো বেশি।
বন্দর উপজেলার চিতাশাল এলাকার রাসেল মেডিপয়েন্ট নামের ফার্মেসীর মালিক রাইসুল ইসলাম জানান, তিনি ও এ ফার্মেসীর কর্মচারি আখতারুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম চারজন ফার্মেসী ফাউন্ডেশন কোর্স করছেন। কর্মচারিদের কাছ থেকে কোর্সফি বাবদ ৪৮৫০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। কিন্তু ফার্মেসীর মালিকের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ৫৮৫০ টাকা। রাইসুল জানান, অতিরিক্ত টাকা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে সমিতির সভাপতি জানিয়েছেন যে, সমিতির সদস্য করা বাবদ এ অতিরিক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ব্যাপারে রশিদ চাইলেও সভাপতি তাদের কোনো রশিদ দেননি।
মুন্সিগঞ্জ জেলার পশ্চিম মুক্তারপুর এলাকার বাসিন্দা ভাইবোন হোমিও হল এর মালিক মোশারফ হোসেন জানান, তার কাছ থেকে কোর্স ফি বাবদ ৬৬৫০ টাকা আদায় করে ৩৮৫০ টাকার রশিদ দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমিতির একজন সদস্য জানান, সমিতির নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি শাজাহান খান অতিরিক্ত কোর্স ফি আদায়ের টাকা মিউচুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংক টানবাজার শাখায় তার ব্যাক্তিগত একাউন্টে জমা করেছেন। সমিতির একাউন্টে জমা করেননি। তার এ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযোগ দিলেও কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদেকুর রহমান এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেননি। এ ব্যাপারে কথা বলতে কেন্দ্রীয় সভাপতির মোবাইল ফোন নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সমিতির নারায়ণগঞ্জ শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, কোনো রশিদ ছাড়াই এই অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়েছে। জেলা শাখার সভাপতি শাজাহান খান এ টাকা আদায় করে চার লাখ টাকা সমিতির একাউন্টে আর বাকিটা তার ব্যাক্তিগত একাউন্টে রেখেছেন। কেন্দ্রীয় সভাপতি তাকে অতিরিক্ত টাকার ব্যাপারে রশিদ দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সভাপতি সাহেবই ভালো বলতে পারবেন।
অভিযোগের ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ‘বাংলাদেশ কেমিষ্টস এন্ড ড্রাগিষ্টস সমিতি’র নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি শাজাহান খান জানান, ‘অতিরিক্ত এক হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে সমিতির উন্নয়নের জন্য। এ অতিরিক্ত টাকা নেয়ার ব্যাপারে সমিতির কেন্দ্র থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’ এ টাকা নেয়ার ব্যাপারে রশিদ দেয়া হচ্ছেনা কেন ? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ‘কেন্দ্রের অনুমোদন রয়েছে। তাই রশিদ দেয়ার প্রয়োজন নেই।’ কারো কারো কাছ থেকে ৫৮৫০ টাকা নিয়েছেন জানালে তিনি বলেন, ‘অনেকের সমিতির চাঁদা বাকি সে টাকা নেয়া হয়েছে।’ কারো কাছ থেকে ৬৬৫০ টাকাও নিয়েছেন জানালে তিনি বলেন, ছয় হাজার টাকা কারো কাছ থেকে নেইনি। এটি মিথ্যা। তিনি দাবী করেন তার বিরোধীপক্ষ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আদায় করা অতিরিক্ত টাকা তিনি তার ব্যাক্তিগত একাউন্টে রাখেননি, সমিতির একাউন্টে রেখেছেন বলেও দাবী করেন।
এ ব্যাপারে কথা বলতে বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল এর ডেপুটি সেক্রেটারি মোহাম্মদ মাহবুবুল হক এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এ অফিসের হেড এসিসট্যান্ট কাজী মোহাম্মদ বেলাল হোসেন জানান, ফাউন্ডেশন কোর্স ফি বাবদ সরকার নির্ধারিত টাকার বাইরে কোনো টাকা কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতির নেয়ার কথা না। তারা কেন কিভাবে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে এট তারাই ভালো বলতে পারবে।#